ছাতকে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০

মোঃআজিজুর রহমান ছাতক,সুনামগঞ্জ।।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী অফিস
ভবনটি পরিত্যাক্ত করে অস্থায়ী ভবনে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন চেয়ারম্যান।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকায় ও অযত্নে অফিস ভবনটি ঝোঁপঝার ও ভূতুরে ঘরে পরিণত হয়েছে।ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ নির্বাচিত
হওয়ার পর থেকে পরিষদের স্থায়ী ভবনে অফিস না করে,তার নিজ গ্রাম সংলগ্ন লাকেশ্বর বাজারে অস্থায়ী অফিস করে পরিষদের সব কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বলে ইউনিয়নবাসী অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়-১৯৮৮ সালে নতুন বাংলাবাজারে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়।
১৯৯২ সালে আনুষ্টানিক ভাবে উদ্ভোধন হয়েছিল। সুরমা নদীর(বটের খাল)তীরে গড়ে উঠেছে নতুন বাংলাবাজার।নৌ ও সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।নতুন বাংলাবাজার পোষ্ট অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র,বাংলা
বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,বাংলা বাজার
সামারুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে কিন্তু ইউনিয়ন অফিস ভবন থাকলেও নেই কোনো
কার্যক্রম।যে কারণে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে
ইউনিয়নের জনসাধারণ।

ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদের স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যক্তি স্বার্থে থমকে আছে ছৈলা-আফজালাবাদ
ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ।
নতুন বাংলাবাজার মেয়াদ উত্তীর্ণ পরিচালনা
কমিটির কর্তৃক বাজারের একটি দোকান ভিটা
বিক্রি ও বিভিন্ন খাতের আয় থেকে প্রায় ৫ লক্ষ
টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন এলাকাবাসি।
ইউনিয়ন ভবন কমপ্লেক্স নির্মাণের নামে ইউপি
চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।গত ২৪
ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং তারিখে বানারশি পুর গ্রামের মৃত.হাছন আলীর পুত্র সাহিদ আলী এলাকাবাসীর
পক্ষে ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারী ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন সাহিদ আলী।ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ সরকারী বিভিন্ন উপকারভোগীর তালিকায় তার নিজের আত্মীয় স্বজন,শ্বশুরবাড়ীর লোকজনের নাম ও একই
পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম,লাখ-পতিদের নাম অন্তর্ভূক্ত করে অসহায় হতদরিদ্র মানুষের নাম বাদ দিয়েছেন।তার তৈরি তালিকায় রয়েছে ৩ নং ক্রমিকে ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট আত্মীয় মঈন উদ্দিন,৫ নং ক্রমিকে বাবুল মিয়া,৭ ও ৯ নং ক্রমিকে ফারুক মিয়া,নুর মিয়া ইউপি
চেয়ারম্যানের ভাতিজা, ১৪ নং ক্রমিকে সেলিনা বেগম ইউপি চেয়ারম্যানের শ্যালিকা,২০নং ক্রমিকে আমিরুন নেছা (নিকট আত্মীয়),৪৪ নং ক্রমিকে ফয়জুল হক ইউপি চেয়ারম্যানের শ্যালক।গত বছর ইউপি চেয়ারম্যানে শ্যালিকা বড়পলিরগাঁও গ্রামের সেলিনা বেগম,ভাতিজা লাকেশ্বর পূর্বপাড়া গ্রামের নুর মিয়াকে পৃথক দুটি সরকারী ঘর বরাদ্ধ দেন।এছাড়া সরকারী ৮ টি সোলার প্যানেল তার বাড়ীর রাস্তায় স্থাপন করেছেন বলে এলাকাবাসি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

বোরো ধান সংগ্রহে কৃষকদের জমাকৃত কৃষি কার্ড দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ ও তার পুত্র শামীম আহমদ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বলে তার বিরুদ্ধে গত ২০ মে ইউনিয়নের দিঘলী রামপুর গ্রামের মৃত.সাজিদুর রহমানের পুত্র এখালাছুর রহমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ১০ জন কৃষক স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এদিকে কহল্লা গ্রামের নিশি কান্ত দেবনাথ জানান ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে একদিনের জন্যও ইউনিয়ন ভবন অফিসে আসেননি।তিনি লাকেশ্বর বাজারে ব্যাক্তিগত অফিস করে আসছেন।তার বিরুদ্ধে সাধারন মানুষ ভয়ে অনেকেই মুখ খুলে কথা বলতে পারছেনা।সাধারন অসহায় মানুষ নিরবে কাঁদছে। বানারশি পুর গ্রামের গেদুনি বিবি জানান,বাংলা বাজারে সরকার সব কিছু দিয়েছে।কিন্ত ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ সব কিছু গাড়িতে তুলে লাকেশ্বর বাজার নিয়ে গেছেন।তার গ্রাম এলাকায় তিনি উন্নয়ন করছেন।আমরা এই এলাকার মানুষ বঞ্চিত হয়েছি।গেদুনি বিবি অারো জানান-আমার স্বামী আতাউর রহমান ৮৫ বছর বয়স।মরার সময় চলে আসছে।কিন্ত বয়স্ক ভাঁতা পাননি।চেয়ারম্যানের অফিসে অনেক হেঁটেছি।কাগজ পত্র জমা দিয়েছি একাধিকবার।

এ ব্যাপারে গয়াস আহমদ জানান-তার বিরুদ্ধে
আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। কৃষি কার্ড জালিয়াতির ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলার নিবার্হী কর্মকতা গোলাম কবির জানান-গয়াছ আহমদ চেয়ারম্যানের
বিরুদ্ধে আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আছে কি না জানিনা।তবে তার অফিসের সিআই’র সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে বলতে পারবে।