চট্টগ্রাম বন্দর ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছেছেঃ নৌ প্রতিমন্ত্রী।

বন্দর হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু।

প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

চট্টগ্রাম বন্দর ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছেছেঃ নৌ প্রতিমন্ত্রী
বন্দর হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু

এম. ইউছুফ | চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম বন্দর বিগত দশ বছরে ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। বন্দরের জন্য হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গতকাল সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের করোনা চিকিৎসায় বিশেষায়িত ইউনিট চালু অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের বিশেষায়িত করোনা ইউনিট কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গত ১০ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের সেরা ১০০ কন্টেনার হ্যান্ডলিংকারী বন্দরের তালিকায় ৬৪ তম অবস্থানে এসেছে। আমরা চাই বন্দর ৩০-৫০তম অবস্থানে আসতে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে টার্মিনাল, পিসিটিসহ অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাই বন্দরের জন্য শুধু উদ্ধারকারী জাহাজ নয়, হেলিকপ্টার কেনারও পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বন্দরের সঙ্গে জড়িতদের সাহসী পদক্ষেপের কারণে করোনাকালে অপারেশন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। কোভিড-১৯ এর জন্য পৃথিবীর কোনো দেশই প্রস্তুত ছিলো না। উন্নত দেশেও স্বাস্থ্যসেবা থমকে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের সাহসিকতা ও সরকারের সাহসী ব্যবস্থাপনা ছিলো।
তিনি বলেন, ‘একটি ল্যাব দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিলো আমাদের। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে গেছি। বিস্ময়কর এই নেতৃত্বে এ সংকট মোকাবিলা করছেন দেশের মানুষ। কোভিড-১৯ আমাদের অর্থনীতিতে যে ধাক্কা দিয়েছে তা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে চেষ্টা চলছে।’
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের লাইফ লাইন। চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। কোভিড-১৯ চিকিৎসায়ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে চট্টগ্রামবাসীর পাশে থাকবে বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, বন্দরে হাজারো লোকের আনাগোনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্দরের লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করেছেন। কিছু সহকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন তারা। একমুহূর্তও বন্ধ ছিল না অপারেশন কাজ। স্টেক হোল্ডাররা সহযোগিতা করেছেন। দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি, একচুলও পিছপা হবো না লক্ষ্য থেকে।’ তিনি বলেন, বন্দর হাসপাতালে ৫০ শয্যার করোনা ইউনিটে ১৩ জন চিকিৎসক, ৩৬ জন নার্সসহ ১৫৯ জন নিয়োগ দিয়েছি। তারা সেবা দেওয়ার জন্য এখানে এগিয়ে এসেছেন। বিএসসি, মেরিন একাডেমি, এনএমআইর প্রয়োজনে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবো। ‘আমাদের লোকজনকে আমরা সেবা দিতে পারলে নগরের হাসপাতালে ভিড় কমবে, নগরবাসী উপকৃত হবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম, পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নৌ প্রতিমন্ত্রী হাসপাতাল ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। হাসপাতালের করোনা ইউনিট ঘুওে দেখেন ও একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।