চট্টগ্রামে শিফটিং এ চলবে কোরবানির হাট

প্রকাশিত: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

এম. ইউছুফ।। চট্টগ্রামঃ
কোভিট-১৯ প্রতিরোধে চট্টগ্রামে কোরবানির হাট শিফটিং করার পরিকল্পনা নিচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিপি)। সকাল- বিকাল দুই শিফটেই বসবে হাটগুলো। এছাড়া এবার বাজারগুলোতে প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথ থাকবে আলাদা। থাকবে ক্রেতাদের জন্য স্যানিটাইজারের আলাদা ব্যবস্থা।

বাজারগুলো দুই শিফটে পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এইক্ষেত্রে তিনটি বাজারে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এবং বাকি বাজারগুলোতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কোরবানির পশু বেচাকেনা চলবে।ওয়ার্ডভিত্তিক কোরবানিদাতার জন্য বাজারও আলাদা করে দেয়া হবে।

গতকাল সোমবার চারটি পশুর হাট ইজারা দেয়ার দরপত্র আহবান করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগ। আগামী ৮ জুলাই দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামসহ দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর মেয়রদের সঙ্গে অনলাইন সভা করে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসানো যাবে বলে সিদ্ধান্ত দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, কোরবান বন্ধ করার তো সুযোগ নেই। আবার বাজার বসানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়েরও নির্দেশনা আছে। সেই আলোকে আমরা পশুর হাট বসাচ্ছি এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছি। কোভিট-১৯ সংক্রমণ রোধে বাজারগুলোকে ঘিরে কোন প্রস্তুতি আছে কিনা জানতে চাইলে মেয়র বলেন, আমরা বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। যেমন এবার বাজার বসাবো দুই শিফটে। এইক্ষেত্রে কোন বাজারে সকাল ৯টা/১০টা থেকে বিকেল ৩টা/৪টা এক শিফট এবং বিকেল ৩টা/৪টা থেকে রাত ১০টা বা ১১টা পর্যন্ত আরেক শিফট। আবার বাজারগুলোকে ঘিরে ওয়ার্ড ভেদে নির্দিষ্ট করে দিবো। যাতে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের মানুষ নির্দিষ্ট বাজারেই যান। বাজারের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা আলাদা পথ থাকবে। স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর জোর দেয়া হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে। এর বাইরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের যেসব নির্দেশনা থাকবে সেগুলো আমরা অনুসরণ করবো।

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা কঠিন হবে কিনা জানতে চাইলে মেয়র বলেন, কঠিন হবে না। আমাদের পলিসি আছে। এখন জনগণকে সহযোগিতা করতে হবে। তারা সহযোগিতা করলে সবকিছু মেনে পশুর হাট বসানো সম্ভব। কোরবানি পশু কেনার ক্ষেত্রে একটা প্রথা আছে , পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে বাজারে গিয়ে কিনে আনা। এক্ষেত্রে আমাদের আহবান থাকবে একসঙ্গে সর্বোচ্চ দুইজনের বেশি যেন বাজারে না যায়। পরিবারের বয়স্ক এবং ছোটদের যেন বাজারে নিয়ে না যায়।