চট্টগ্রামে আজ মধ্যরাত থেকে লকডাউন কার্যকরঃবন্ধ হচ্ছে ২০ প্রবেশ পথ

প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২০
এম. ইউছুফ, চট্টগ্রাম:: চট্টগ্রামে কোভিট-১৯ সংক্রমণ রোধে নগরে ২১ দিনের লকডাউন শুরু হচ্ছে আজ রাত ১২টা থেকে।লকডাউন শতভাগ কার্যকরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।এলাকায় প্রবেশের ২০টি প্রবেশ পথ বন্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর সহায়তার জন্য খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। প্রস্তত করা হচ্ছে মহল্লা ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম।
এলাকায় নিত্যপণ্যের দিনভর কাঁচাবাজার, মাছ-মাংসের দোকানের পাশাপাশি মুদি দোকানে ভিড় দেখা যায়। শিল্প এলাকা এলাকায় হওয়ায় সেখানকার সিংহভাগ বাসিন্দাই অন্য জায়গার। যারা বিভিন্ন বাসায় ভাড়ায় থাকেন। লকডাউনের দিনগুলোতে এদের বেশিরভাগই কর্মহীন হয়ে পড়বে। ফলে এসময় খাদ্য সরবরাহ ও ঔষধপত্র নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন এলাকাবাকীরা।
এদিকে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।এলাকার মানুষের সার্বিক সহায়তার জন্য মহল্লাভিত্তিক সেচ্ছাসেবক টিম কাজ করবে। কন্ট্রোল রুমের নাম্বারগুলো হলো- ০১৮১৯-০৫৬৮৪৪,০১৮১১-৮৮৭০৮৪, ০৩১-৪৩১৫১৩৬৮, ০৩১-৪৩১৫১৩৬৯, ০৩১-৪৩১৫১৩৭০, ০৩১-৪৩১৫১৩৭১, ০৩১-৪৩১৫১৩৭২। লক ডাউন কার্যকর থাকাকালীন সময়ে স্থানীয় বাসিন্দারা যে কোন সমস্যা এসব নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবেন।
লকডাউন এলাকায় অবস্থানকারী সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারী সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তারা যাতে কোন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন না হন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রায় চার বর্গমাইল আয়তনের উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডটির কিছু অংশ পাহাড়তলী এবং কিছু অংশ আকবর শাহ থানায় অন্তর্গত। ওয়ার্ডের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল সড়ক, উত্তরে কালির ছড়া এবং দক্ষিণে সাগরিকা সড়ক। ওয়ার্ডে প্রবেশপথ আছে ২০টি। যার সবগুলোই বন্ধ থাকবে।এর কাজ শুরুও হয়েছে। প্রবেশপথগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কর্নেল টোল রোড, ঈশান মহাজন রোড, মোস্তফা হাকিম কলেজ রোড, সাগরিকা বিটেক রোড, কৈবল্যধাম রোড, নিউ মনছুরাবাদ রোড, সিডিএ আবাসিক রোড, সাগরিকা আলিফ রোড।
লকডাউন কার্যকর থাকাকালীন সময়ে এলাকায় কেউ প্রবেশ ও বের হতে পারবে না। সরকারি-বেসরকারি অফিস থাকবে সাধারণ ছুটির আওতায়। খাবার ও ওষুধসহ সবধরণের দোকানপাট বন্ধ থাকবে। চলবে না গণপরিবহন, থাকবে না স্টপেজও।এ বিষয়ে গতকাল সিটি কর্পোরেশনের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান সড়কে কোন প্রকার যাত্রী ওঠা-নামা চলবে না, তবে রাত ১২ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল উম্মুক্ত থাকবে। এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকান-পাঠ, অফিস, কল-কারখানা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বন্ধ থাকবে। লকডাউন এলাকায় কোনভাবেই ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। কোন ধর্মীয় উপাসনালয়ে না গিয়ে নিজ নিজ গৃহে প্রার্থনা /উপাসনা করতে হবে।
লকডাউন কার্যকর থাকা অবস্থায় অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে তাদের খাদ্য সরবরাহের বিষয়টি কিভাবে নিশ্চিত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত তিন মাস ধরে এ বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। এর আগে সাধারণ ছুটি চলাকালীন সময়ে অনেককে আমরা সরকারি এবং ব্যক্তিগতভাবে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। তাদের তালিকা আমাদের কাছে আছে। যাদের প্রয়োজন হবে সরবরাহ করবো। লকডাউনে ওষুধের দোকান বন্ধ থাকবে, তবে কারো জরুরি ওষুধের দরকার হলে হোম ডেলিভারি সার্ভিস দেয়া হবে। ভ্যানগাড়ি করে যারা শাকসবজি বিক্রি করে তাদের দিয়েও হোম ডেলিভারি সার্ভিস দেয়ার পকিল্পনা আছে।
কাট্টলী ওয়ার্ডে মোট জনসংখ্যা ৭৮ হাজার। গত ১৩ জুন পর্যন্ত সর্বশেষ ১৪ দিনে এ ওয়ার্ডে ১৪৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং মারা যান সাতজন। করোনা প্রতিরোধে সেন্ট্রাল কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহরে প্রতি লাখ জনগোষ্ঠির মধ্যে সর্বশেষ ১৪ দিনে ৬০ জন সংক্রমিত হওয়া এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সে হিসেবে রেড জোনের আওতায় আসে উত্তর কাট্টলী। এ ওয়ার্ডে গার্মেন্টসসহ প্রায় ১৫০ টি  শিল্প কলকারখানা আছে।
 চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, লকডাউন মানে লকডাউন। সবাইকে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। বাইরে বের হওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে আমরা মাইকিং করেছি। প্রতিটি ঘরে ঘরে নির্দেশনা দিয়ে লিফলেট পৌঁছে দিবো। সবকিছু মনিটরিং করার জন্য কেন্দ্রের ফরম্যাট অনুযায়ী, স্থানীয় কাউন্সিলরক আহবায়ক করে কমিটি হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ই-কমার্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম সদস্য আছেন।