চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে মা- ছেলে খুন ‘পাতানো ভাই’ ফারুকে সন্দেহ মেয়ে ময়ুরীর

প্রকাশিত: ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২০

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
সকালে রেখে যাওয়া মা-ভাইকে রাত ৮টার বাসায় এসে মা-ভাইয়ের কোনো সাড়া শব্দ পাচ্ছিলেন না ময়ুরী। চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার পাঠানিয়া গোদা এলাকায় সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ।

নিহত মহিলার নাম গুলনাহার বেগম (৩৩) ও শিশুপুত্রের নাম রিফাত (৯)। ময়ূরী নামে ১৪ বছর বয়সী আরেকটি মেয়ে রয়েছে মহিলার।গার্মেন্টসে কাজ করেন ময়ূরী। তারা পাঠানিয়া গোদা এলাকার রমজান আলী সেরেস্তাদারের বাড়ির মহিউদ্দিনের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নূরনাহার বেগমের ১৪ বছর বয়সী ময়ূরী প্রতিদিনের মতো সোমবারও গার্মেন্টসে চাকরিতে যান। সন্ধ্যা ৭টায় বাসায় এসে দেখতে পান মা ও ভাইয়ের মরদেহ বাসার পড়ে রয়েছে। দুই রুমের বাসাটি থেকে পুলিশ মা ও শিশুপুত্রের লাশ উদ্ধার করে।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার জানান, পুরাতন চান্দগাঁও রমজান আলী সেরেস্তাদারের বাড়ি এলাকায় মা ও ছেলে খুন হয়েছে। কেন বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বিস্তারিত এখনো জানানো যায়নি।

পুলিশ জানায়, ‘গুলনাহারের স্বামী আরেকজনকে বিয়ে করেছে। স্বামীর সঙ্গে থাকে না। গুলনাহার বাসায় ও হোটেলে রান্নার কাজ করে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে। ছেলে রিফাতের গলায় কাটা দাগ আছে। ভোতা কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

পুলিশ জানায়, গুলনাহারের মেয়ে ময়ূরী পোশাক কারখানায় চাকরি করে। রাতে কারখানা থেকে ফিরে তার মায়ের মৃতদেহ বাথরুমে এবং ভাই রিফাতের মৃতদেহ রান্নাঘরে দেখতে পায়। এসময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পুলিশ খবর পেয়ে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।

গুলনাহার বেগম ও রিফাত হত্যাকাণ্ডের পেছনে গুলনাহার বেগমের ‘পাতানো ভাই’ ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহ করছেন ময়ুরী।

বহদ্দারহাট খাজা রোডের বাসিন্দা অভিযুক্ত ফারুক বহদ্দারহাটে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার গুলনাহার বেগমের মেয়ে ময়ুরী বলেন, “আমার মাকে বোন ডেকেছে ফারুক। ফারুক আমাদের বাসায় আসা যাওয়া করতো। পাঁচ বছর ধরে ফারুকের সঙ্গে আমাদের পরিচয়। কিছুদিন আগে ফারুকের সঙ্গে আমার মায়ের ঝগড়া হয়। তারপর থেকে আমার মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল ফারুক। ফারুকই আমার মা ও ভাইকে খুন করেছে।”

বাসার মালিক মহিউদ্দিন বলেন, ‘দিনের বেলায় আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। সন্ধ্যায় মেয়ে এসে চিৎকার করলে আমরা গিয়ে মা ও ছেলের লাশ দেখতে পাই। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাসা ভাড়া নেয় তারা। মাসে ভাড়া ৭ হাজার। মা গুলনাহার, মেয়ে ময়ূরী ও ছেলে রিফাত ছাড়াও আরও একটি যুবক ওই বাসায় থাকত। ওই যুবককে ভাই হিসেবে পরিচয় দিতেন নিহত গুলনাহার বেগম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এক যুবকের আসা-যাওয়া রয়েছে ওই বাসায়। তাকে খুঁজে পাওয়া গেলে মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন হবে।


Categories