চকরিয়ার হারবাং এ ইউনিয়নে মা ও মেয়ে কে প্রকাশ্যে নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশিত: ৮:০১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২০

আবদুল মান্নান ;কক্সবাজার

চকরিয়া হারবাং ইউনিয়নে গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা ও মেয়ে কে রশিতে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতনের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিডিএলজি অফিসার শ্রাবন্তী রায়(উপসচিব) কে আহ্বায়ক করে ৩ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করার সময় নির্ধারণ করে দেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেন ও হারবাং ইউনিয়নের উপজেলা ট্যাগ অফিসার।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন; হারবাং এ গরু চুরির ঘটনায় মহিলাদের কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনায় অপরাধী যেই হোক, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ আগস্ট এক মহিলা, তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ ৫ জনকে ‘গরু চোর’ আখ্যা দিয়ে কোমরে রশি বেঁধে পিটায় কিছু লোকজন। পরে তাদের কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে চকরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে।

এই গরু চুরি নিয়ে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারা হলেন-চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট কুসুমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৫৫), তার কন্যা সেলিনা আক্তার (২৮), আরেক কন্যা রোজিনা আক্তার (২৫), ছেলে মোহাম্মদ আরমান (৩০) ও পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ ছুট্টু (৩৮)। এ ঘটনার ভিডিও এবং স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

এদিকে গরু চুরির মামলায় চকরিয়ার নির্যাতিত সেই মা-মেয়েসহ ৫জনকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত। চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাহমুদুল হক বাদী হয়ে ওই নির্যাতিত ৫ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় গরু চুরি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় থানা পুলিশ আহতদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

অপরদিকে বিজ্ঞ বিচারক হারাবাংয়ের ভাইরাল হওয়া গরু চুরির ঘটনায় জনস্বার্থে স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি ফৌজদারি মামলা আমলে নিয়েছেন। মামলাটি চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মতিউল ইসলামকে পরবর্তী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

এছাড়া গতকাল ২৩ আগষ্ট চকরিয়ার ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ হারবাং ইউনিয়নে স্বশরীরে হাজির হয়ে উক্ত ঘটনার তদন্ত শুরু করে দেন।

উল্লেখ্য যে; উক্ত নির্যাতনের ঘটনায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।


Categories