“ঘুষের ভয়াবহ পরিণতি ও উত্তরণের উপায়”

প্রকাশিত: ১২:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২০
মো.মনিরুল ইসলাম।

ঘুষের ভয়াবহ পরিণতি ও উত্তরণের উপায়। 

ঘুষের আরবি শব্দ হলো (رشوة) রিশওয়াহ, ইংরেজিতে বলা হয় Bribe.  আর পরিভাষায় বলা হয়, অর্পিত দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে বেতন-ভাতা বাদে অন্যের কাছ থেকে অসদুপায়ে যে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা হয় (যে নামেই হউক কেনো) তাকেই বলা হয় ঘুষ।
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য । ইবাদাত কবুল হওয়ার পূর্ব শর্ত হালাল উপার্জন। হারাম উপার্জন, হারাম রিজিক জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। হারাম উপার্জনের মধ্যে অন্যতম হলো ঘুষ। ঘুষ একটি অন্যায় কাজ- একথা সকলে একবাক্যে স্বীকার করেন। পৃথিবীর কোনো ধর্মেই একে সমর্থন  করেনা।  দুঃখজনক  হলেও সত্য যে, এটি উঁচু থেকে নিচু  পর্যন্ত দেশের সর্বত্র  বহাল তবিয়তে সহনশীল মাত্রায় চালু রয়েছে।  যারা ঘুষ বন্ধ করবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই ঘুষের সাথে জড়িত।  ঘুষের কারণে  একজনের প্রাপ্তি এবং অন্যজনের ক্ষতি হয়। মানুষে মানুষে ঘৃণা, ক্ষোভ, আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা,  নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় ইত্যাদির মধ্য দিয়ে পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ক্রমে বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।  এর অশুভ পরিণতি এক সময় নিজের উপর ও পরবর্তী প্রজন্মের উপর বর্তাবে।
টক ফলের চারা লাগিয়ে যেমন সুমিষ্ট ফলের আশা করা যায় না, তেমনি  ঘুষ-খোর, দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে উঠা ব্যবস্থাপনার কাছে কোনো কল্যাণ আশা করা যায় না।
  ঘুষ আমাদের জাতীয় উন্নয়নকে ব্যাহত করছে। ঘুষের কারণে মানুষ যোগ্যতার মূল্যায়ণ পাচ্ছে না। ঘুষের চিন্তায় যখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাথা ঘুরতে থাকে তখন হাতের কলম (ছিরাতুল মুস্তাকীম) সঠিক পথে চলে না। ঘুষ হচ্ছে সমাজদেহে নীরব মরণ ব্যাধি। সকল নীতি-নৈতিকতা, সমস্ত আইন-কানূন, বিধি-বিধানকে বিধ্বস্ত করে দেওয়ার জন্য ঘুষ নামক ভাইরাসই যথেষ্ট । ঘুষ হচ্ছে  এমন এক  ভাইরাস যা আমাদের সমাজের সকল ব্যবস্থাপনাকে নাজেহাল করে দিচ্ছে। এই অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে না পারলে আমাদের উপর আল্লাহর রহমত নাযিল হওয়া দূরের কথা, একটি সময় অতীতের নমরূদ, ফিরাউনদের ন্যায় অভিশপ্ত জাতিতে পরিণত হব এবং আল্লাহর গজবে ধ্বংস হয়ে যাব।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করোনা । এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে বুঝে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারককে উৎকোচ (ঘুষ) দিও না । (সূরা-বাকারা,আয়াত-১৮৮)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন, ঘুষ গ্রহণকারী এবং ঘুষদানকারী উভয়ের উপরই আল্লাহর লানত। (বুখারী, মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
  «وَكُلُّ لَحْمٍ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِ»
“শরীরের যতটুকু গোশত হারাম থেকে উৎপন্ন হয়েছে, তা জাহান্নামের জন্যই সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত”।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
ঘুষের মাধ্যমে  হারাম উপার্জন করে তা ভক্ষণ করে কেনো আপনি জাহান্নামে যাবেন ? বিবেক দিয়ে  কী একটু চিন্তা করা দরকার না আমি কার হক মেরে খাচ্ছি ? অবৈধ টাকা দিয়ে বাড়ি-গাড়ি করে কী লাভ ? অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ দ্বারা সাময়িক সুখ-শান্তি পেলেও  তার শেষ পরিণতি যে কী তা আর বর্তমানে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না।

#মানুষ কেনো ঘুষ খায় :

১/ আল্লাহর ভয় ও লজ্জা না থাকার কারণে।
২/  দ্রুত সম্পদশালী হওয়ার ইচ্ছায়।
৩/ লোভ ও বৈধ আয়ের প্রতি তৃপ্তিহীনতা।
৪/ হারাম উপার্জনের ভয়াবহতা সম্পর্কে অজ্ঞতা।

#ঘুষ থেকে  উত্তরণের উপায় :

১/ মানুষের মনে আখিরাতের  চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করা।
২/ হালাল হারামের ব্যপারে গন সচেতনতা সৃষ্টি করা।
৩/ সৎ,যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা – কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া।
৪/ কর্মকর্তা – কর্মচারীদের উপযুক্ত পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করা।
৫/ প্রশাসনিক কাজের জবাব দিহিতা নিশ্চিত করা।
৬/ ঘুষ গ্রহীতাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা।
৭/ দলীয়করণ মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা।
আল্লাহ তায়ালা ঘুষ নামক ভাইরাস থেকে দেশ ও জাতিকে হেফাজত করুন ।
আমিন।
লেখকঃ মোঃ মনিরুল ইসলাম
           প্রভাষক (আরবি)
চান্দেরচর দারুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসা
             হোমনা, কুমিল্লা
            ০১৮৬২৪৪৫৪০১
Attachments

Categories