গ্রেফতার হলো ওসি প্রদীপ ; পুলিশি নিরাপত্তায় কক্সবাজার আদালতে

প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০
এম ইউসুফ, চট্টগ্রাম।। 
সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। জানা গেছে, বর্তমানে ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে বহনকারী গাড়িটি কক্সবাজার পৌঁছে গেছে।
চট্টগ্রাম থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)’র ৩টি গাড়ির সহযোগিতায় তিনি কক্সবাজার আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।সিএমপির স্কট টিমের পাশাপাশি প্রদীপকে বহনকারী হাইচ গাড়িকে নিরাপত্তা দিচ্ছে জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের টিমও। অন্যদিকে কক্সবাজার পুলিশ লাইন থেকে জেলা এসপি অফিসে আনা হচ্ছে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি লিয়াকত আলীসহ অন্য ৮ আসামিকে।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) শ্যামল কুমার নাথ বলেন, প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে মামলা দায়েরের পর তিনি আজ সকালে চট্টগ্রাম আদালতে আত্মসর্মপণ করতে যান। সেখানে আইনজীবীরা বলেছেন এখানে তা করা যাবে না কক্সবাজারেই আত্মসর্মপণ করতে হবে। সে হিসেবে প্রদীপ দুপুরের দিকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে এসে আমাদের কাছে সহযোগিতা চান। আমরা একজন আইন মান্যকারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সহযোগিতা করছি। তার নিরাপত্তার জন্য সিএমপির পক্ষ থেকে পুলিশ স্কট দিয়ে তাকে কক্সবাজার আদালতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি টেকনাফের বাহারছরা শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক (আইসি) লিয়াকত আলীসহ ৮ জনও জেলা পুলিশ লাইন থেকে এসপি অফিসে আনা হচ্ছে। তারা যে কোনও সময়ে কক্সবাজারের আদালতে আত্মসর্মপণ করবেন।
এরআগে ‘হত্যার নির্দেশদাতা’ টেকনাফ থানার ওসি (প্রত্যাহার) প্রদীপ কুমার দাস গত ৪ আগস্ট থেকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়ে নিরুদ্দেশ ছিলেন। অন্য ৮ আসামি পুলিশ লাইনেই নিরাপত্তা হেফাজতে ছিলেন। ৫ আগস্ট দুপুরে দন্ডবিধি ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় টেকনাফের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মেজর সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। মামলাটি ওইদিন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মামকায় আসামিরা হলো- ওসি প্রদীপ ও লিয়াকত ছাড়া মামলায় এসআই নন্দলাল রক্ষিত, এসআই টুটুল, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল­াহ আল মামুন ও কনস্টেবল মো. মোস্তফাকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের সঙ্গী ও ৩১ জুলাই এর ঘটনায় টেকনাফ পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামি সাহেদুল ইসলাম সিফাতসহ ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

 


Categories