গাবতলীতে নেই ঈদের প্রস্তুতি, যাত্রীও কম

প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র আট দিন। রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে নেই যাত্রীদের কোনো ভিড়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ঈদকে ঘিরে কোনো প্রস্তুতি নেই। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের কোনো ভিড় নেই। প্রতিবারের মতো বসানো হয়নি কোনো নিরাপত্তা ওয়াচ টাওয়ার। এখনো বসেনি কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযোগ বুথ (কেন্দ্র)। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এসেছেন আগামী ২৮ জুলাইয়ের খুলনার টিকিট কাটতে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গত ঈদে (রোজার ঈদে) বাড়ি যাইনি। এবার মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাব। ‘সকালে গাবতলী বাস টার্মিনালে এসে দেখি কোনো ভিড় নেই। খুব সহজেই পেয়ে গেলাম বাসের টিকিট। সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট কিনেছি।’ গাবতলী বাস টার্মিনালের শ্যামলী পরিবহণের কাউন্টার ম্যানেজার প্রভাত রায় বলেন, এবারের ঈদে আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। ঈদে আমাদের তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই। যাত্রী কম থাকার কারণে এবার গাড়ির সংখ্যাও কম। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সড়কে গাড়ি চালানো খুবই কঠিন। আগের মতো যদি আমরা ৪০টি সিটের টিকিট বিক্রি করতে পারতাম তাহলে মালিকের লাভ হতো। তিনি বলেন, যাত্রী না থাকায় বেশি বাস ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না। ৬০ পার্সেন্টেজ ভাড়ায় গাড়ি চালানোতে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। ঈদে আমাদের ব্যবসা মূলত ওয়ান সাইডের (এক পক্ষীয়)। ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে যায়। আর ফেরার সময় খালি বাস আসে ঢাকায়। এভাবেই হয় আমাদের ঈদের ব্যবসা। হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার গোলাম কিবরিয়া নোমান বলেন, গত ঈদের তুলনায় এবার যাত্রী অনেক কম। নেই বললেই চলে। গত কোরবানির ঈদে ডে-নাইট মিলিয়ে গাবতলী থেকে বাস ছেড়েছে ১৫টি। কিন্তু এখন ডে-নাইট মিলিয়ে চারটি বাস ছাড়ছি। যদি ঈদের আগে যাত্রীদের চাপ বাড়ে তখন ডে-নাইট মিলে ছয়টা বাস ছাড়ব। এবার অনলাইনে টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। যাত্রীরা অনলাইনে টিকিট না কিনে কাউন্টারে এসে টিকিট নিয়ে যাচ্ছেন। নোমান অভিযোগ করে বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইছে না যাত্রীরা। কম ভাড়া দিতে চাইছে। সব যাত্রীর সামর্থ্য তো আর এক না। বিষয়টা এখানে। এখন ঢাকায় তেমন মানুষ নেই। অনেক আগেই মানুষ বাড়ি চলে গেছেন। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া এখন কেউ বাড়ি যাচ্ছে না।