গরুর ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ, চিন্তায় কৃষক!

প্রকাশিত: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

মোঃসাইফুল ইসলাম শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধ:
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় গরুর শরীরে হঠাৎ দেখা দিয়েছে লাম্পি স্কিন ভাইরাসের। এর কারনে পড়ে যাচ্ছে গরুর লোম। এতে গরুর শরীরের তাপমাত্রাও বেশি। কিছু খেতেও চাচ্ছে না। মুখ এবং নাক দিয়ে লালা বের হচ্ছে। চিকিৎসা দিতে দেরি হলে গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে। জেলা পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করে জানতে পারেন এই রোগের নাম ‘লাম্পি স্কিন’। সময় মতো রোগ সনাক্ত করতে না পারলে গরু বাঁচিয়ে রাখাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছ।

মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর থেকে এই রোগে গরু আক্রান্ত হচ্ছে। এর আগে এই রোগ কৃষকের বা খামারিদের চোখে পড়েনি। লাম্পি স্কিন নামক রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি গরু মারা যাওয়া খবর পাওয়া গেছে।

এক বছর আগে থেকে এই রোগ এলেও গত প্রায় ৩-৪ মাস ধরে জেলার ৭টি উপজেলায় এ রোগ ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজারের অধিক গরু।

স্থানীয় কিষান-কিষানি ও ক্ষুদ্র খামারিরা মনে করেন লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত এর চিকিৎসা সহ প্রতিষেধক সংগ্রহ করে গবাদি পশুকে না দেয়া গেলে পশু সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে।

,মৌলভীবাজার জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী জেলায় গবাদি পশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৮৫ হাজার। সরকারি হিসেব মতে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৬ হাজার। আর এই রোগে মারা গেছে ৫০ টির বেশি গবাদিপশু।

প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে লাম্পি স্কিন নামের ভাইরাসের কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই। এ জন্য কৃষককে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

রোগের লক্ষন সমুহের মধ্যে হচ্ছে, পশুর গায়ে ৪-১৪ দিন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর থাকে। শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। মুখ থেকে লালা ঝরে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতে । গর্ভপাত হতে পারে।

মশা, মাছি, আঠালী, মাইটের মাধ্যমে এই রোগ এক প্রাণী হতে অন্য প্রাণীতে ছড়ায়। তাই প্রাণীর আবাসস্থল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখা। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

জানা গেছে এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক পশু এই রোগে মারা গেছে।