গবেষণায় জালিয়াতির দায়ে পিএইচডি ডিগ্রি বাতিলসহ ঢাবি’র তিন শিক্ষকের পদাবনতি।

প্রকাশিত: ১:০৮ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২১

গবেষণায় জালিয়াতির দায়ে পিএইচডি ডিগ্রি বাতিলসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকের পদাবনতি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাবির মাসিক সিন্ডিকেট সভায় গবেষণায় জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণ পাওয়ায় একজনের পিএইচডি ডিগ্রি বাতিলসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিনজন শিক্ষকের পদাবনতি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সিন্ডিকেট সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হাসানুজ্জামান তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে থিসিসে জালিয়াতি করায় তার পিএইচডি ডিগ্রি বাতিলসহ তাকে লেকচারার পদে অবনমন করা হয়েছে।

‘এ ছাড়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমানকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমন করা হয়েছে এবং অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানকে আগামী দুই বছর কোনো পদোন্নতি দেয়া হবে না।’

du 3 teacher

          সামিয়া রহমান, সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান ও ওমর ফারুক

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও মাহফুজুল হক মারজান যৌথভাবে একটি গবেষণা প্রবন্ধ লিখেন। ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শীর্ষক আট পৃষ্ঠার প্রবন্ধটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, গবেষণা প্রবন্ধটিতে ১৯৮২ সালের শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’তে প্রকাশিত ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নিবন্ধ থেকে প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা হুবহু নকল করা হয়েছে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক লিখিত অভিযোগে নকলের কথা ঢাবিকে জানায় ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস। এ ছাড়া বুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ গ্রন্থের কয়েকটি পাতাও হুবহু নকল করেন তারা।

সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাবির তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তারা গত বছর প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উৎস- 24livenewspaper.


Categories