গত এক মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা সংক্রমনের হার অনেক বেড়েছে।

প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

মো.অাশরাফুল লতিফ( তুহিন) : ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় করোনা সংক্রমনের হার হুহু করে বেড়েই চলেছে। কোন ভাবেই থামছে না সংক্রমনের হার। এভাবে সংক্রমন বাড়তে থাকলে কোথায় গিয়ে দাড়াবে এর সংখ্যা, তা নিয়ে জনমনে এখন প্রশ্ন।

সিভিল সার্জন অফিসের সুত্র অনুযায়ী অাজ ৬ জুলাই প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী জেলায় মোট আক্রান্তের  সংখ্যা ১২৬০ জন। সুস্হ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২৭০ জন এবং মারা গেছেন ২২ জন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতে প্রথম  করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছিল গত ১০ এপ্রিল। গত ৬জুন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৪৩ জন।  ২১ জুনে এসে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ায় ৫৩৩ জনে। গত ২১ জুনের পর থেকে অাজ ৬ জুলাই পর্যন্ত জেলায় আক্রান্ত হয়েছে ৭২৭  জন ( মোট ১২৬০জন)।অর্থ্যাৎ গত ১৫ দিনে প্রতিদিন গড়ে অাক্রান্ত হয়েছে ৪৮.৪৬ জন করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত উপজেলা হচ্ছে সদর। ৬ জুলাই পর্যন্ত এই উপজেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪২৭ জন। সুস্হ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১০১ জন এবং মারা গেছেন ৯ হন।

সিভিল সার্জন অফিসের সুত্র অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৮২ জনের করোনা সনাক্ত হয় (৬ জুলাইয়ের রিপোর্ট)।তার মধ্যে  সদর উপজেলায় এক চিকিৎসক দম্পতি, তাঁদের দুই সন্তান, আরও অন্য দুজন চিকিৎসক, জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজ ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হন।উল্লেখ্য ম্যাজিট্রেটদ্বয়  গত ৩০ জুন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন।

বর্তামানে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসছে ঢাকার সরকারি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পিসিআর ল্যাব থেকে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব থেকে।  ঢাকা থেকে আসা ফলাফলের জন্য ৭ থেকে ১০ দিন সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিনের রিপোর্টের ফলাফল প্রতিদিনই দেয়া হচ্ছে।

এদিকে গতকাল ৫ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা জেলা প্রশাসক জনাব হায়াত-উদ-দৌলা খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।অনলাইনে সভায় সংযুক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন(সরকারের সচিব) জনাব তপন কান্তি ঘোষ।

উক্ত সভায়  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার করোনা পরিস্থিতি  সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ এর প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে        ” দৈনিক অামাদের ফোরামকে ” জানান জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন জনাব ডা. একরামউল্লাহ।

তিনি বলেন, ” সামনের কোরবানির ঈদে কীভাবে স্বাস্হবিধি মেনে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় হাট পরিচালনা করা যায় এবিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।  পাশাপাশি রেড জোন চিহ্নিত এলাকাগুলোতে কীভাবে লকডাউনকে আরো কার্যকর করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।”


Categories