খুলনার উন্নয়নের জন্য আমি রাজনীতিতে এসেছি- শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি।

প্রকাশিত: ১০:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১
মোঃ মিজানুর রহমান খুলনা মহানগর প্রতিনিধি।

খুলনার উন্নয়নের জন্য আমি রাজনীতিতে এসেছি- শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি।

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেছেন, ‘খুলনার উন্নয়নের জন্যেই আমি রাজনীতিতে এসেছি। আমি কিন্তু রাজনীতিতে আসার পক্ষে ছিলাম না। ভেবেছিলাম যে, আমার বড় ভাই, ছোটরা রাজনীতি করে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতি করেন। কিন্তু খুলনার জন্য নিজে কিছু করে দিয়ে যাবো, যার জন্যই আমি রাজনীতিতে এসেছি। রূপসা, ভৈরব ও শিবসা নদী খননের জন্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। এতে মোংলা বন্দর থেকে বিদেশ থেকে সরাসরি গাড়ী এসে নামবে খুলনার ৭নং ঘাটে। এতে খুলনায় ক্যান্সার হাসপাতাল, বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল ও ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের বিল পাশ হয়েছে; শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ফোর লেনের কাজ আরম্ভ হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক জোন হবে।’ খুলনার হিমায়িত মাছ কোম্পানী সম্পর্কে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের মৎস্য মন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে। খুলনার মাছ কোম্পানীগুলো বিভাবে রপ্তানীমুখী করা যায় সে পদক্ষেপ নেয়া হবে। যদিও চিংড়িতে ভেজাল বা পুশ করার কারণে আমরাই বহিঃবিশ্বে মার্কেট হারিয়েছি। এখন ভেনামি চিংড়ির ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমি জব্বার মোল্লার সাথে কথা বলেছি, এই ভেনামি চিংড়ি বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে হবে।

খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই খুলনায় তার শৈশব ও ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন তিনি। এসময়ে প্রয়াত সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু ও আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফেরদৌসী আলীসহ জেষ্ঠ্য সাংবাদিকদের সাথে তার ও তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠতা তুলে ধরেন। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে খুলনায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করেন সেখ জুয়েল এমপি।

প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা। বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হল নির্মাণে ১৬ লাখ টাকা অর্থসংস্থানের প্রতিশ্র“তি দেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র সেখ জুয়েল এমপি।

সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুতে বিনিয়োগ না করলেও, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এ সম্মান অর্জন করেছি। বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপনীত হয়েছি। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে আমাদের ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হয়। শিক্ষায় আমাদের বই খাতা সব ফ্রি দেয়া হয়। আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে করোনার মধ্যেও গৃহহীনদের ঘর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শহরে চারতলা করে বিল্ডিং করা হবে বস্তিবাসীদের জন্যে। করোনাকালীন সময়ে আমি, আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের পাশে দাড়াতে চেষ্ট্রা করেছি। ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স চালু করেছি। খুলনাতে ১৬শ’ মানুষকে অক্সিজেন সেবা দিতে পেরেছি।

মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক আজকের তথ্য’র সম্পাদক এসএম নজরুল ইসলাম, পূর্বাঞ্চল সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সানি, সময়ের খবর সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাবেক মকবুল হোসেন মিন্টু, শেখ আবু হাসান, কাজী মোতাহার রহমান বাবু, মুন্সি মোঃ মাহবুব আলম সোহাগ, মামুন রেজা, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, মোঃ শাহ আলম, বিমল সাহা, নূর হাসান জনি ও সুমন আহমেদ প্রমুখ। এরআগে, প্রেস ক্লাবের নির্মানাধীণ ব্যাংকুয়েট হল পরিদর্শন করেন।

এরআগে, দুপুর ১২ টায় নগরীর আলীশান মোড়ে ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও অক্সিজেন ব্যাংক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, আ’লীগ নেতা কাজী এনায়েত হোসেন, কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন, ফারুক হাসান হিটলু, হাফেজ মোঃ শামীম, কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বিশ্বাস, কাজী জাহিদ হোসেন, মনিরুজ্জামান সাগর, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. সাইফুল ইসলাম, জেল পরিষদের সদস্য চৌধুরী রায়হান ফরিদ, নগর যুবলীগের আহবায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, নগর যুবলীগের যুগ্ম-শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন, সাবেক ছাত্র নেতা শেখ আবু হানিফ, সাবেক যুবনেতা নাহিদ মুন্সী, যুবলীগ নেতা এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজ, শওকত হাসান, অভিজিৎ চক্রবর্তী দেবু,ইমন খান, মসিউর রহমান সুমন, সাবেক ছাত্রনেতা অভিজিৎ পাল, নগর ছাত্রলীগ নেতা রনবীর বাড়ই সজল, মাহামুদল হাসান সুজন, মোঃ মিজানুর রহমান, সোহান হোসেন, রাজেশ মাহমুদ, ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মাসুম উর রশীদ, সাগর মজুমদারসহ ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও অক্সিজেন ক্যাম্পের সকল ভলেনটিয়াররা।


Categories