কয়েক দফায় স্বর্ণালংকার চুরি, বিক্রির টাকায় দলবেঁধে কক্সবাজার ভ্রমণ

প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার চাঁদনীচক মার্কেটের একটি জুয়েলারি দোকানে অন্তত ২০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গত দুদিন ধরে রাজধানীর লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ডিবির রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনাল টিমের সদস্যরা এই অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার ১১ জন হলেন-ফরহাদ হোসেন ওরফে চুড়ি, মো, মারুফ, মো. জাহিদ, মো. সাকিব, আব্দুল্লাহ স্বপন, মো. আরিফ, তারা মিয়া, মো. শুকুর ফজলু মাতাব্বর, তপন রায় ও ওবায়েদ হাসান। তাদের মধ্যে প্রথম পাঁচজনের বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। ওবায়েদের বয়স ৫০ বছর হলেও অপর পাঁচজনের বয়স ২২ থেকে ৩০ বছর।

গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কয়েক দফায় চাঁদনীচক মার্কেটের ৩ নম্বর ভবনে অবস্থিত সততা জুয়েলার্সে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

ডিবির রমনা বিভাগের ডিসি মো. হুমায়ুন কবীর কালবেলাকে বলেন, এই চক্রটি সততা জুয়েলার্স থেকে স্বর্ণালংকার চুরি করে বিক্রির টাকায় কক্সবাজারে ভ্রমণে যায়। ৯০ হাজার টাকা খরচ করে তিন রাত কক্সবাজার অবস্থান করে। টাকা শেষ হওয়ায় ফের ঢাকায় স্বর্ণালংকার বিক্রি করতে আসলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে আরিফ ও ওবায়েদ চোরাই স্বর্ণের ক্রেতা বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সততা জুয়েলার্সে মাঝে মধ্যেই ছোটখাটো চুরি হত। মালিকপক্ষ তা মার্কেট কমিটিকে জানালেও চোর ধরা যাচ্ছিল না। অনেক সময় মনে করা হত হিসাবে ভুল হচ্ছে। তবে চক্রটিকে ধরার পর স্বীকার করে তারা সেখানে চার দফায় চুরি করেছে।

ওই ১১ জনকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিবির ধানমন্ডি জোনাল টিমের এডিসি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী কালবেলাকে বলেন, ‘এই চোর চক্রের হোতা ফরহাদ হোসেন। সে সততা জুয়েলার্সের পাশের একটি দোকানের কর্মচারী। পাশাপাশি সততা জুয়েলার্সে মাসিক দুই হাজার টাকা বেতনে সার্টার খোলা ও লাগানোর কাজ করত। ওই সুযোগে সে দোকানটিতে ডুপ্লিকেট চাবি বানিয়ে নিয়েছিল। সেই চাবি দিয়েই মূলত তালা খুলে চুরি করে আসছিল।’

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চোরাই স্বর্ণের একটা অংশ বিক্রি করে কক্সবাজারে ঘুরতে গেলেও আরেকটা অংশ জমা রেখেছিল। তার মধ্য থেকে সাত ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ছয় লাখ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


Categories