ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ না হওয়ায় ঝুলছে গৃহবধূর লাশ!

প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় তানজিলা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছে, তিনি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। কিন্তু বাবার বাড়ির লোকজন বলছে, তাদের মেয়েকে ‘পিটিয়ে হত্যা’ করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সালিসে বসে দুই পরিবার।

সালিসে মেয়ের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা চাওয়া হয়। কিন্তু ছেলের পরিবার দেড় লাখ দিতে রাজি হয়। মীমাংসা না হওয়ায় প্রায় ২ দিন ধরে তানজিলার লাশ তার স্বামীর বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে।

সরেজমিনে গিয়ে ওই নারীর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় তাড়াশ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন মৃত গৃহবধূর শ্বশুর।

তানজিলার বাবার নাম রেজাউল করিম। তার বাড়ি উপজেলার নওখাদা গ্রামে। পাশের লালুয়ামাঝিড়া গ্রামে তানজিলার শ্বশুর বাড়ি। তার স্বামীর নাম বাবুল হোসেন। তিনি গ্রামের মোজদার হোসেনের ছেলে। এক বছর আগে বাবুল-তানজিলার বিয়ে হয়।

প্রতিবেশিরা জানান, বিয়ের কয়েকমাস পর থেকে বাবুল-তানজিলার দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে স্বামীর বাড়িতেই তানজিলা খাতুনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর বাবুলের পরিবার তানজিলা আত্মহত্যা করেছে বলে জানায়। খবর পেয়ে তানজিলার বাবা রেজাউল করিম মেয়ের শ্বশুর বাড়ি আসেন। মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাবুলের প্রতিবেশিরা আরও জানায়, সন্ধ্যা ৭টায় গ্রাম্য প্রধান ফরজ আলীর বাড়িতে এ ঘটনা নিয়ে সালিসে বসে দুই পরিবার। রাত ১১টা পর্যন্ত সালিস চলে। তখনও তানজিলার লাশ বাবুলের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। সালিসে তার মৃতদেহের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছিল। তানজিলার পরিবার দুই লাখ টাকা দাবি করে বাবুলের পরিবারের কাছ থেকে। এদিকে বাবুলের এত টাকা নাই দাবি করে ঘটনার জন্য তারা দেড় লাখ টাকা দিতে চায়। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা কম নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় তানজিলার পরিবার। যে কারণে কোনো মীমাংসা হয়নি।

এই সালিসে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আছালত হোসেন, তানজিলার বাবা বাড়ির আত্মীয় শরীফ হোসেন, তোরাব আলী। বাবুলের পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা মোজদার হোসেন এবং তার পক্ষের কয়েকজন আত্মীয়।

ইউপি সদস্য আছালত হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘ছেলের পরিবার দেড় লাখ টাকা দিতে চেয়েছে। কিন্তু মেয়ের পরিবার সেটি মেনে নেয়নি।’ এ বিষয়ে বাবুলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তিনি রাজি হননি।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে তানজিলা শ্বশুর মোজদার হোসেন একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। মৃতের বাবা থানায় এসে জানিয়েছেন, তার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যার মামলা করবেন। পুলিশ লাশ উদ্ধারের জন্য গেছে। সেখান থেকে লাশ মর্গে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন আসার পর বাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


Categories