“কৃষি ঋণের আওতায় নতুন খাত বায়োফ্লকে মাছ চাষ ও গরু মোটাতাজাকরণে ঋণ দেবে ব্যাংক”

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

কৃষি ঋণের আওতায় নতুন খাত হিসেবে যুক্ত বায়োফ্লকে মাছ চাষ ও গরু মোটাতাজাকরণে  সহজ শর্তে ঋণ দেবে ব্যাংক ।

২০২০-২১ চলতি অর্থবছর থেকে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ, গয়াল ও তিতির পাখি পালন এবং গরু মোটাতাজাকরণে ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো। একই সঙ্গে ফসল চাষে আগের চেয়ে একর প্রতি বেশি ঋণ দেয়া হবে।

নতুন অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লীঋণ এ নীতিমালা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালায় কৃষি ঋণের আওতায় এসব খাত যুক্ত করা হয়েছে। নীতিমালায় ৯ শতাংশ ঋণ বেশি দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরে কৃষকদের জন্য ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ রেখেছে ব্যাংকগুলো।

জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলে  উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কৃষকদের কৃষি ঋণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচিতে বেশকিছু সময়োপযোগী বিষয় যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচিতে- গয়াল ও তিতির পাখি পালনের জন্য ঋণ প্রদান এবং এ সংক্রান্ত ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে ঋণ প্রদান, কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের আওতায় গরু মোটাতাজাকরণে ঋণ প্রদান এবং ঋণ নিয়মাচারে একর প্রতি ফসলের ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় ফসল উৎপাদনের জন্য একজন কৃষক সর্বোচ্চ ১৫ বিঘা (৫ একর বা ২ হেক্টর) জমি চাষাবাদের জন্য নিয়ামাচারে নির্ধারিত হারে জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, মাছ চাষের আধুনিক উপায়গুলোর মধ্যে বায়োফ্লক পদ্ধতি অন্যতম। বৃহৎ আকারের ড্রাম বা ট্যাংকের মধ্যে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষের এটি একটি আধুনিক প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে সাধারণত পুকুরের চেয়ে একই পরিমাণ আয়তনে কয়েক গুণ বেশি মাছ চাষ করা সম্ভব। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। মাছ চাষের আওতায় ব্যাংকগুলো এ পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য ঋণ বিতরণ করতে পারবে। আর এখন সব কৃষিঋণের সুদহার ৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেয়া এ কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালা যুগান্তকারী ভুমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করে। তফসিলি ব্যাংকগুলো গত ৩০ জুন ওই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ১৭২ কোটি টাকা এবং সুদ-ক্ষতি সুবিধার আওতায় শস্য ও ফসল খাতে ২৮৬ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। বর্তমানে কৃষিঋণের সুদহার ৯ শতাংশ। তবে করোনাভাইরাসের কারণে কৃষি ঋণে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার।

এছাড়াও সুদ-ক্ষতি সুবিধার আওতায় তৈল ও মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা ছাড়াও শস্য ও ফসল খাতে স্বল্প সুদে (৪% হারে) কৃষকদের অনুকূলে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছর (২০২০-২১) জুড়ে বিদ্যমান থাকবে।