কারোনায় দেশে নতুন শনাক্ত ৩৪১২, মৃত্যু ৪৩

প্রকাশিত: ২:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩ হাজার ৪১২ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে আর মারা গেছেন ৪৩ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১ হাজার ৫৪৫ জন। শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ১৯৮ জন। মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাসবিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি নতুন যুক্ত তিনটিসহ মোট ৬৫টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ হাজার ৫৬৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৬ হাজার ২৯২টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ছয় লাখ ৪৪ হাজার ১১টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৪১২ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ১৯ হাজার ১৯৮ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪৩ জন। এ নিয়ে মোট মারা গেলেন এক হাজার ৫৪৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৮৮০ জন। সব মিলিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা এখন ৪৭ হাজার ৬৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের ৩৮ জন পুরুষ, পাঁচজন নারী। এদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চলিস্নশোর্ধ্ব ছয়জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৮ জন, ষাটোর্ধ্ব ১০ জন, সত্তরোর্ধ্ব পাঁচজন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সি দুজন রয়েছেন। ১৬ জন ঢাকা বিভাগের, ১৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ছয়জন রাজশাহী বিভাগের, দুজন করে খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের এবং একজন করে বরিশাল ও সিলেট বিভাগের। ৩০ মারা গেছেন হাসপাতালে, ১২ জন বাসায় এবং একজনকে হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। গত সোমবারের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ জনের মৃতু্য হয়েছে। ১৫ হাজার ৫৫৫টি নমুনা পরীক্ষায় করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৪৮০ জনের মধ্যে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমলেও বেড়েছে মৃতু্য। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃতু্যর রেকর্ড আছে ৫৩ জনের। সে তথ্য জানানো হয় ১৬ জুনের বুলেটিনে। আর সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড আছে চার হাজার আট জনের। এ তথ্য জানানো হয় ১৭ জুনের বুলেটিনে। মঙ্গলবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং মৃতু্যর হার ১ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরও ৬৮০ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ২১ হাজার ১১২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২২০ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন আট হাজার ১৮৫ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১২ হাজার ৯২৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৪১৪ জনকে, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে তিন লাখ ৪৪ হাজার ৬৬০ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ১৬৪ জন, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ৮০ হাজার ৫১৪ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৬৪ হাজার ১৪৬ জন। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয় বুলেটিনে। গোটা বিশ্ব এখন করোনাভাইরাসের ছোবলে বিপর্যস্ত। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৯২ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা চার লাখ ৭৪ হাজারের বেশি। তবে সাড়ে ৪৯ লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ।