“কাজিপুরে তিন যুগ ধরে পরিত্যক্ত ইউনিয়ন সমাজসেবা গণমিলনায়ন কেন্দ্র”

প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০

আবদুল জলিল, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ.

কাজিপুরে তিন যুগ ধরে পরিত্যক্ত ইউনিয়ন সমাজসেবা গণমিলনায়ন কেন্দ্র।

তিন যুগেরও অধিক সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায়  রয়েছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামূখী ইউনিয়নের সোনামূখী ও চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের হাটশিরা সমাজসেবা  গণমিলনায়তন কেন্দ্র।

সুষ্ঠু তদারকি না থাকায় মিলনায়তনের জায়গা  বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এরইমধ্যে সোনামুখী গণমিলনায়তনের  জায়গায় পাকা মসজিদ নির্মাণ করছে স্থানীয় লোকজন।

উপজেলা সমাসেবা অফিসসূত্রে জানা গেছে, গ্রামের সাধারণ মানুষের গণজমায়েতের লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় ১৯৮০ সালে কাজিপুরে মোট সাতটি গণমিলনায়তন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে গান্ধাইল ইউনিয়নের পাটাগ্রাম, মাইজবাড়ি ইউনিয়নের ধুলাউড়ি, এবং শুভগাছা, নাটুয়ারপাড়া ও তেকানি ইউনিয়নের গণমিলনায়তন কেন্দ্র নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়েছে।  আর পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে সোনামুখী ও চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের হাটশিরা গণমিলনায়তন কেন্দ্র।

এরইমধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মপদ্ধতি পাল্টে গেলে ইউনিয়ন পর্যায়ের অফিস কাম গণমিলনায়ন কেন্দ্রগুলির কর্মকান্ড  ৮৫/৮৬ সন থেকে স্থবির হয়ে পড়ে। সেই থেকে মিলনায়তনগুলো লোকজন ব্যবহার না করায় ভবনগুলি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এরইমধ্যে এসব স্থাপনার দরোজা জানালা লোপাট হয়ে গেছে।  সম্প্রতি সোনামুখী ইউনিয়নের সোনামুখী গ্রামে অবস্থিত গণমিলনায়তনের জায়গা দখল করে বহুতল পাকা মসজিদ নির্মাণ করছে গ্রামবাসী। কোন প্রকার বাধা ছাড়াই মসজিদের কাজ ছাদ পর্যন্ত গড়িয়েছে।  কিন্তু উপজেলা সমাজসেবা অফিস এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপই নেয়নি।

সমাজসেবা অফিসের ডিডি এ বিষয়ে  জানতে চেয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে গত বছরের ১৮ আগস্ট একটি পত্র পেরণ করেন। তখনকার উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আমিনা খাতুন কনা কোন প্রকার খোঁজ খবর না নিয়েই তিনি ওই মাসের ২৫ তারিখে সরেজমিন অবস্থা জানিয়ে ডিডি বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। কাজিপুরের পাঁচটি ইউনিয়নের গণমিলনায়তন নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে এবং চালিতাডাঙ্গা ও সোনামুখী ইউনিয়নের গণমিলনায়তনের জায়গা বেদখল হয়নি মর্মে তিনি সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান। বর্তমান সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, ‘ আমাদের লোকবল অনেক কম। তাই খোঁজ খবর নেয়াটা অনেক সময় হয়ে ওঠে না।’

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, ‘প্রত্যেক অফিসের দায়িত্ব তার নিজ নিজ সম্পত্তি রক্ষা করা। সরকারি সম্পত্তিতে মসজিদ ঘর উঠানো  ঠিক নয়। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। ’


Categories