কসবা উপজেলার খাড়েরায় পানির নিচে রাস্তা, ভোগান্তির শেষ নেই!

প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২১

সিয়াম মাহমুদ, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

কসবা উপজেলার খাড়েরায় পানির নিচে রাস্তা, ভোগান্তির শেষ নেই!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধিন কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে রয়েছে দেশ-বিদেশে অনেক খ্যাতি অর্জনকারী ব্যাক্তি। কিন্তু এই ইউনিয়নের খাড়েরা বাসস্ট্যান্ড থেকে খাড়েরা বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি প্রায় ৩ মাস যাবত পানির নিচে রয়েছে। রাস্তায় পানি লেগে থাকার কারণে জন দূর্ভোগে পড়েছে আশেপাশের প্রায় ৫০টির ও বেশি গ্রামের জনগণ।
খাড়েরা ইউনিয়নের বিভিন্ন জনগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, পানি নিষ্কাশনের সঠিক পথ বা ড্রেন না থাকায়  এবং রাস্তার পাশে অপরিকল্পিত বাড়িঘর, দালানকোঠা ও দোকানপাঠ গড়ে তোলার কারণে এ সমস্যাটি তৈরি হয়েছে।
কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়ন সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে কসবা উপজেলার খাড়েরা এলাকায় একটি বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। খাড়েরা বাসস্ট্যান্ড থেকে ১ কিলোমিটার দূরে খাড়েরা বাজারে খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন অবস্থিত। খাড়েরা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার রাস্তার দুই পাশে, খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ২টি কিন্ডারগার্ডেন স্কুল, ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১টি কেন্দ্রীয় মসজিদ, খাড়েরা বাজার, ব্যাংক, শত শত দোকানটপাঠ রয়েছে।
সম্প্রতি দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে বাজারমুখী রাস্তায় একটু এগোলেই ২ফুট পানি জমে রয়েছে। এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ঠিক এমনই ভাবে বাজার পর্যন্ত ২-৩টি জায়গায় এবং বাজারেও পানি জমে রয়েছে। যার কারণে প্রায় প্রতিদিন এই  বাসস্ট্যান্ড-বাজার সড়কে ৮-১০ টি এক্সিডেন্ট হচ্ছে।
খাড়েরা ইউনিয়নের রিকশা, সিএনজি ও অটোচালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় পানি জমে যায়। এবং অনেকদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে রাস্তায় গর্ত তৈরি হয়েছে। পানির জন্য রাস্তার গর্ত দেখা যায় না, ফলে তাদের গাড়ি চালাতে কষ্ট হচ্ছে ও গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে এবং দূর্ঘটনা ঘটছে। প্রায়শই রাস্তার বেহাল দশার কারণে যাত্রীবাহী অটোরিকশা, অটো, সিনএনজি যাত্রী নিয়ে উল্টে যায়। এতে প্রতিদিন অনেক মানুষ আহত হচ্ছে।
গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ও খাড়েরা ইউনিয়ন ছাত্র-যুব সংগঠন এর সভাপতি মোঃ মোমেনুল হক মুন্নার সাথে কথা বলে জানা যায়, এই রাস্তাটি প্রায় ১০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী রাস্তা। এই পথে খাড়েরা, কসবা, কুটি, বাদৈর, মেহারী, চারগাছ, দেলি-পাতাইশার, কাইতলাসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের হাজার হাজার জনগণ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। দীর্ঘদিন যাবত এই রাস্তায় পানি লেগে থাকার কারণে জনসাধারণের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে, পোহাতে হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি। ফলে জনগণকে বাড়তি ভাড়া দিয়ে এই পথে এবং বিকল্প পথ দিয়েও চলাচল করতে হচ্ছে। সাথে সাধারণ মানুষের কষ্ট, গাড়ির ক্ষতি এবং দূর্ঘটনাতো রয়েছেই।
দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় প্রশাসনের জোড়ালো কোনো পদক্ষেপ না দেখতে পেয়ে, আমরা খাড়েরা ইউনিয়ন ছাত্র-যুব সংগঠনের পক্ষে নিজ উদ্যোগে প্রায় ৫-৬ বার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছি, পরবর্তীতেও করে যাবো। আমাদের পাশাপাশি রাস্তার পাশের দোকানমালিকগণ ৮-৯ বার পানি নিষ্কাশনের কাজ করেছে।
এই বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমদ খাঁন বলেছেন, সড়কটির পানি নিষ্কাশন ও মেরামতের জন্য ২২লাখ টাকার একটি প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় দোকান মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাস্তার বেহাল দশার কারণে দোকানে কাস্টমার কম আসছে এবং দোকানে নতুন মালামাল আনতে কষ্ট হচ্ছে ও বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকায় ও বাড়তি ভাড়ার কারণে দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায়  তাদের ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জনগণ উক্ত বিষয়টি স্থানীয় এমপি এবং আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হককে জানিয়েছেন। সড়কের বেহাল দশার খবর পাওয়ার পর মন্ত্রী মহোদয় সাথে সাথে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, যেকোনো প্রয়োজনে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।  মন্ত্রী মহোদয় এর  উদ্যোগে উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিনে রাস্তা পরিদর্শন করেছেন এবং খুব দ্রুত রাস্তার পানি নিষ্কাশন ও রাস্তার মেরামতের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাস্তার পানি নিষ্কাশন বা রাস্তার মেরামতের কাজ শুরু করা হয়নি।
উক্ত বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার খবরে গ্রামবাসী  আনন্দিত হয়েছে। তারা আশা করছেন খুব দ্রুতই রাস্তার পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করবে ও শেষ হবে। কিন্তু, স্থানীয় রাজনীতির অদৃশ্য কোন্দলের কারণে যেন রাস্তার কাজ আটকে না পড়ে।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন,  সড়কটির স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের অস্থায়ী সমাধানের জন্য খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এখন পর্যন্ত কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা মোটেও দৃশ্যমান নয় এবং গ্রামবাসীরা বলেন আমাদের জানামতে এখন পর্যন্ত  ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১বারের জন্যও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়নি, যা গ্রামের সাধারণ জনগণকে মারাত্মক নিরাশ করেছে।
পাশাপাশি এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, রাস্তাটি নাকি ২ফুট উঁচু করা হবে, এতে জনদূর্ভোগ পরবর্তীতে আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ তখন রাস্তার সকল পানি রাস্তার পাশের বাড়ীতে প্রবেশ করবে তাই তারা বলেছেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ড্রেন ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করাই উত্তম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজের সিনিয়র প্রফেসর জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন- অপরিকল্পিতভাবে রাস্তার দুই ধারে বাড়ি নির্মাণ, বাড়ির সামনে আইল বা প্রাচীর তৈরি, ড্রেনের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে খাড়েরা বাসস্ট্যান্ড থেকে খাড়েরা বাজার পর্যন্ত রাস্তাটির ৪-৫ জায়গায় প্রায় হাঁটু সমান পানি লেগে থাকে। এই কারণে জন দূর্ভোগে পড়েছে বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুল, মাদরাসা, বাজারসহ আশেপাশের প্রায় ৫০টির ও বেশি গ্রামের মানুষ। জনাব রফিক বলেন সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে এ সমস্যার সমাধান ও জন দূর্ভোগ শেষ হবে না।

Categories