করোনা বনাম মধ্যবিত্তের জীবন চরিত

প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২১

চলমান মহামারী করোনা ভাইরাসের কোভিট১৯ কারণে গত বছরের মার্চ মাস থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ।

শিক্ষার্থী,শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। কী হবে শিক্ষা খাতের? মানবেতর জীবনযাপন করছে ননএমপিও,কিন্ডারগার্টেন ও প্রাইভেট শিক্ষক নামে মানুষ গড়ার কারিগর। জীবন জীবিকার তাগিদে দিশেহারা শিক্ষক নামে অবহেলার পাত্র এ উন্নত প্রাণি। সরজমিনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। না পারি কইতে,না পারি সইতে! আমাদের আকুতি উপর মহলে পৌছায় না। বাবা মা, পরিবারের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অপরাধী মনে হয় নিজেকে।

অপর একজন ননএমপিও শিক্ষক বলেন, যেভাবে শিক্ষকদের অবহেলা করা হচ্ছে আগামি প্রজন্ম শিক্ষকতা পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে না। ফলে দেশ শিক্ষক সংকটে পড়বে। তিনি বলেন আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে স্বাধীনতা দেশে পরাজিত এক সৈনিক আমি! যে প্রিয় সন্তানের মুখে হাসি ফোঁটাতে পারে না। তাই বাধ্য হয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি। এ রকম হাজারো শিক্ষক আজ করোনার ভয়াল গ্রাসে নিপতিত।

অনেকে আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে বিভিন্ন কাজ করছেন পরিবারের ভরণপোষণ ও প্রাণপ্রিয় সন্তান,বৃদ্ধ মা- বাবা আর প্রিয়তম প্রেয়সীর ঠোঁটে একটু হাসির জন্য। অনেকের দাবি জননেত্রী শেখ হাসিনা, মানবতার মা তার কাছে জোর দাবি মাসিক ফি আকারে যেন শিক্ষকদের সম্মানী দেয়া হয়।। জীবনের সায়াহ্নে ভিক্ষার ঝুলি যেন হাতে না ধরতে হয় এমন প্রত্যাশা সকলের। “জীবনের সাথে যোগ হোক জীবনের” মধ্যবিত্তের চোখের পানিতে আর যেন না ভিঁজে আমার এ সোনার বাংলার মাটি। সকলেই যেন ভালো থাকে সুস্থ থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। পরিশেষে সকলের চাওয়া “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে- ভাতে”এটি বইয়ের পাতায় নয়,বাস্তবে রূপান্তর হোক।

 

লেখক, মোঃ জুয়েল রানা
প্রভাষক( বাংলা)
জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ,
ডিমলা, নীলফামারী।


Categories