করোনা প্রাদুর্ভাবঃ মহাসংকটে বেসরকারি শিক্ষকগণ – জ্যোতিষ মজুমদার

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৭ মার্চ (২০২০) থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের টিউশান ফি’র ব্যাপারে কোন সাড়া দিচ্ছেন না অভিভাবকগন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষানা দিয়েছেন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
দেশে প্রায় ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রায় ৬ (লক্ষ) শিক্ষক কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এসব প্রতিষ্টানের সিংহভাগই চলছে ভাড়া করা বাড়ীতে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া টিউশন ফির টাকাতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের বেতন, বাড়িভাড়া এবং অন্যান্য বিল পরীশোধ করে থাকেন। প্রায় ১০ হাজার কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯ হাজার ৭৫৯ টি বেসরকারি। এসব প্রতিষ্ঠান আজ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। প্রায় ২ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারী এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট ৪ হাজার ৩১২ টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রায় ২১ হাজারের মতো শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৫১৯ টি মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষকদের ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকদের ২ হাজার ৩০০ টাকা করে ভাতা দেয় সরকার। এই অল্প টাকায় কীভাব্ েএকজন শিক্ষক জীবন ধারণ করতে পারেন।
দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ^বিদ্যারয়ের সংখ্যা শতাধিক (১০৫)টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। কর্মকর্তা কর্মচারী মিলিয়ে এ সংখ্যা দ্বিগুনের ও বেশি হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে ফলে শিক্ষার্থীরা ফি পরিশোধ করেনি। এতে করে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে।
এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ যৎসমান্য অনুদান ফেলেও তাদের নেই অন্যান্য কোন সুযোগ সুবিধা। বাড়ীভাড়ার নামে দেয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা। বলুন তো বাংলাদেশেল কোথায় ১ হাজার টাকায় বাড়ী ভাড়া পাওয়া যাবে? চিকিৎসা ভাতা নামে দেয়া হচ্ছে ৫০০/-, উৎসব ভাতা নামে দেওয়া হচ্ছে সিকিভাগ অর্থাৎ ২৫%। অনুদান শব্দটি ব্যবহার করে শিক্ষকদের অপমানিত করা হয়েছে। একজন কলেজ শিক্ষক চাকুরীতে যোগদানে ১০ বছর পর তার বেতন বাড়াবে মাত্র ১ হাজার টাকা এর চেয়ে অপমানের আর কী হতে পারে। ৫ঃ২ নামক কালো আইনের কারণে একজন কলেজ শিক্ষককে সারা জীবনই প্রভাষক পদে থাকতে হয়। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মানুষ গড়ার কারিগড় খ্যাত শিক্ষক সমাজ। গত ৪/৫ মাস ধরে বেতন ভাতা না পেয়ে অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটছে শিক্ষক কর্মচারীদের। বিশেষ করে নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের অবস্থা একেবারেই শোচনীয়। একদিকে যেমন পাচ্ছেন না প্রাতিষ্ঠানিক কোন বেতন ভাতা, অন্যদিকে প্রইভেট টিউশনি ও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের জীবিকা নির্বাহের পথ পুরোপুরিই বন্ধ হয়েগেছে। অনার্স- মাস্টার্স কলেজে এমপিওহীন শিক্ষকদের অবস্থা ও একইরকম। অন্ন যোগানো তো পরের কথা বাসা ভাড়া ও দিতে পারছেনা অনেকেই।
ইতিমধ্যে সরকার প্রনোদনার ঘোষনা দিয়েছেন । এটাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। বেসরকারি শিক্ষকগণকে ৫০০০/- টাকা এবং কর্মচারীদেরকে ২৫০০/- টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষামন্ত্রনালয়। আজকের এই উচ্ছ মূল্যের বাজারে এই টাকা তাদের কতটুকু ক্ষুদা নিবৃত্ত করতে সক্ষম হবে তা সবারই জানা। আবার এ টাকার জন্যও আলাদা করে খুলতে হবে ব্যাংক একাউন্ট, তুলতে হবে ছবি, ব্যাংকে আসা যাওয়া সবমিলিয়ে ৩০০/৪০০ টাকা পে খরচ হবেই।
দিন বদলের সরকারের মানীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল কলা কৌশলীর প্রতি সবিনয় অনুরোধ বেসরকারি শিক্ষকদের সকল সমস্যা সমাধানে জাতীয়করণের ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন। তবেই কাঙ্কিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

তারিখঃ ১৩/০৭/২০ইং

জ্যোতিষ মজুমদার
সহকারী অধ্যাপক
ইছামতি ডিগ্রি কলেজ
জকিগঞ্জ, সিলেট।

মতামত লেখকের নিজস্ব। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।


Categories