“করোনা পরীক্ষায় ফি এর কারণে : পরীক্ষাও কম, শনাক্তের সংখ্যাও কম!”

প্রকাশিত: ১১:০১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

‘একটা কিডনি রেখে দিয়ে করোনার টেস্ট করাই দিয়েন। তিন-চার মাস ধরে কামাই বন্ধ’

সম্প্রতি সংবাদের শিরোনাম হন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাঈম হাসান নীল নামে এক তরুণ। বেসরকারি ব্রাহ্মণবাড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে করোনার পরীক্ষা করতে গেলে সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা নেয়ার অভিযোগ এনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ ঘটনা থেকে বোঝা যেতে পারে, করোনার প্রভাবে বিধ্বস্ত দরিদ্র মানুষের কাছে পরীক্ষার ফি দেয়া কতটা কষ্টসাধ্য।

এদিকে গত ২৮ জুন দেশের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকারি পর্যায়েও টাকা দিয়ে করোনা পরীক্ষার বিধান চালুর পর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও শনাক্তে। ফি চালুর পর কমেছে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার হার, স্বাভাবিকভাবেই কমেছে শনাক্তের হারও। কারণ আনেকের পক্ষেই ২০০ টাকা ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ করা কষ্টসাধ্য।

প্রজ্ঞাপন জারির আগের ৭ দিন (২১ থেকে ২৭ জুন) এবং পরের ৭ দিনের (১ থেকে ৭ জুলাই) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফি চালুর আগের ৭ দিনে সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্তের নমুনা সংগ্রহ হয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৭২৫টি এবং ফি চালুর পর নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১ লাখ ৬ হাজার ১৫৩টি। অর্থাৎ ফি চালুর পর এক সপ্তাহে নমুনা সংগ্রহ কমেছে ১১ হাজার ৫৭২টি। ফি চালুর আগের ৭ দিনে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ১৫৭টি এবং ফি চালুর পরে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৩২০টি। অর্থাৎ ফি চালুর পর পরীক্ষা কমেছে ৮ হাজার ৮৩৭টি। ফি চালুর আগের ৭ দিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৫ হাজার ২০৭ জনের এবং ফি চালুর পরে শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ১৬২ জনের। অর্থাৎ ফি চালুর পরের ৭ দিনে শনাক্ত কমেছে ২ হাজার ৪৫টি।

তবে সচেতন মহলের মতে, ‘আমাদের দেশে আরও পরীক্ষা করা দরকার, শনাক্ত হয়ে থাকলে চিহ্নিত করা দরকার। শনাক্ত হলে তাদের আলাদা করা যাবে, চিকিৎসা দেয়া যাবে, অন্যদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা যাবে।’

 


Categories