করোনা এই সময়ে সূর্যের আলোর প্রয়োজন

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

মো. ‍জিয়া উদ্দিন ইমন, ঢাকা:

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার এই সময়ে আমদের দেহে সূর্যের আলোর প্রয়োজনীয়তা অনেক।শুধু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকেই রক্ষায় প্রত্যক্ষভাবে ও পরক্ষভাবে এর ভূমিকা আছে তাই নয় সর্ব ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অপরিসীম কিন্তু আমরা অনেকেই এটার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারি না। গায়ের রং কালো হওয়ার ভয়ে অনেকে আবার সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকে কেউ কেউ। সূর্যের আলো আমাদের দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন তৈরি করে। আর এই ভিটামিনের নাম হচ্ছে ভিটামিন ‘ডি’। সূর্যের আলো হচ্ছে ভিটামিন ডি’র প্রথম ও প্রধান উৎস। যা বিনা খরচে পাওয়া যায়। কিন্তু এর গুরুত্ব আমরা অনেকেই বুঝি না। ভিটামিন ‘ডি’ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, যার অভাবে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। যদি সুস্থভাবে চলাফেরা, মজার খাবার খাওয়া আর সুন্দর হাসি পেতে চাই, তাহলে ভিটামিন ডি’র বিকল্প নেই।এখন প্রশ্ন হলো এই সূর্যের আলো আমরা কখন নিবো এবং কত মিনিট নিতে হবে।আমরা সবাই জানি সূর্য থেকে কিছু রশ্মি বের হয় যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সাধারণ সূর্যের আলোর তীব্রতা যখন বেশি হবে তখন আমরা সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকবো। সাধারণ সকাল(৮-১০টার) মধ্যে সূর্যের আলো ১০থেকে ২০ মিনিট শরীরে আলো নিবো।করোনা এই সময়ে আমাদের ফুসফুস, কিডনি ও লিভারকে ভাল রাখতে হবে। কিডনি ও লিভারে সমস্যা থাকলে ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাব দেখা দেয়। যাদের অতিরিক্ত ওজন বা ফ্যাট সেলের পরিমাণ বেশি, যাদের শরীরের রং কৃষ্ণ বর্ণের তাদের ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাব দেখা দেয়। এছাড়া কিছু ওষুধ আছে যা খেলে সক্রিয় ভিটামিন ‘ডি’ তৈরিতে বাধা দেয়। ভিটামিন ‘ডি’ এর প্রধান উৎস হচ্ছে সূর্যের আলো। এছাড়া বিভিন্ন খাবারে ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায়। যেমন, তৈলাক্ত মাছ, ডিমের কুসুম, কলিজা, পনির, দই, মাশরুম। এছাড়া বিভিন্ন ফর্টিফাইড খাবারে ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায়। কিন্তু সূর্যের বিকল্প কিছু নেই। ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে যেসব স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তার মধ্যে প্রথম হচ্ছে হাড়ে ব্যথা, পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, হাড় ক্ষয় রোগ ইত্যাদি। হাড়ের সমস্যা এবং হাড় ক্ষয় রোগে বেশি মাত্রায় ভোগেন মেয়েরা। এছাড়া বাচ্চাদের ভিটামিন ‘ডি’ এবং ক্যালসিয়ামের অভাবে পায়ের হাড় বেঁকে যায়। যাকে রিকেট রোগ বলা হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি এর অভাবে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। অনেকে আছে, হঠাৎ মাংস পেশীতে টান বা খিচুনি দেখা দেয়। এর ফলে বেশ কিছুক্ষণ পেশীতে ব্যথা হতে থাকে। যা খুবই কষ্টকর। আর এটি ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে হয়। মাথার চুল নিয়ে অনেকেরই চিন্তার শেষ নেই। কেন চুলগুলো পড়ে যাচ্ছে? কি করলে চুল আর পড়বে না। এ নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই সহজলভ্য ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে আপনার চুল পড়ে যেতে পারে। ভিটামিন ‘ডি’ আমাদের চোয়াল গঠনে সাহায্য করে। চোয়াল আমাদের দাঁতগুলোকে শক্তভাবে ধরে রাখে। এছাড়া ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে দাঁতের ক্ষয়রোগ এবং দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া সমস্যা দেখা দেয়। ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে রোগ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। দেখা যায়, যারা রোদে কম বের হন, তারা বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের সংক্রামণ রোগে তারা সহজেই আক্রান্ত হন। এছাড়া দেখা গেছে, ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে যে কোনো ধরনের ক্ষত বা অপারেশনের পর ক্ষত শুকাতে দেরি হয়। অনেকের মধ্যে ক্লান্তি, দুর্বলতা, অবসন্নতা, হতাশা ইত্যাদি দেখা দেয় ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে। ক্লান্তির কারণে কোনো ধরনের কাজে এরা উৎসাহ পাওয়া যায় না। ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ওজন কমে যাওয়া, কিডনি অকেজো হওয়া ও রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। সাধারণত দেহে প্রতিদিন ৪০০-৬০০ আউইউ ভিটামিন ‘ডি’ প্রয়োজন। তবে ৭০ বছরের উপরে বয়স্কদের আরো একটু বেশি ভিটামিন ‘ডি’ এর প্রয়োজন আছে। তাদের ৮০০ আইইউ ভিটামিন ‘ডি’ এর প্রয়োজন।পরিশেষে বলা যায় সূর্যের তাপ ও শক্তি ছাড়া পৃথিবীতে কোন জীব বেঁচে থাকা সম্ভব হবেনা।