করোনার আকাশে ঘুড়ির মেলা

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

 জি এম শাওন :

ছোটবেলায় ঘুড়ি উড়ানোর স্বপ্ন সবার মাঝে ছিল। ৯০ দশকের ছেলে মেয়েরা কম বেশি সবাই ঘুড়ি উড়াতো। তবে ঘুড়ি উড়ানোর ইতিহাস অনেক প্রাচীন । তখন আকাশের দিকে তাকালে ঘুড়ির মেলা দেখতাম। দেখতাম লাল, নীল হলুদ বেগুনী নানা রঙয়ের ঘুড়ি। ছেলে মেয়েদের মধ্য থাকতো উৎসবের আমেজ। বিকাল বেলা মাঠের মধ্যে ঝাঁক বেধে ঘুড়ির উৎসব চলতো। কি আনন্দ হই হুল্য হতো। এখন আর সেই উৎসব দেখা যায় না। আমাদের সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে লাঠি খেলা উপলক্ষে মেলা বসতো যার নাম মাদারের মেলা। মেলার মুল আকর্ষণ ছিল ঘুড়ি । মেলায় আসা ছেলেমেয়েদের ফেরার সময় সবার হাতে থাকতো ঘুড়ি। এখনও প্রতিবছর মেলা বসে তবে সেই আগের মত ঘুড়ির আকর্ষণ আর নেই। এখন ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঘুড়ির প্রতি তেমন আকর্ষণ আর দেখা যাই না। এখন বই খাতার ভারে কাতর হওয়া ছেলেমেয়ে গুলো বিছানায় মোবাইল নিয়ে গেম কিংবা মুভি দেখোর অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাঠের প্রতি টান নেই বললেই চলে। বাবা মাও সভ্যতার নামে বন্দী করে রেখে ছেলেমেয়েদের করেছে প্রাণচঞ্চলহীন এক ননীর পতুল। আজ অনেক দিন করোনার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ । মানুষের হাতে তেমন কাজও নেই তাই গ্রামের মানুষ গুলো ঘুড়ি উড়ানোর সেই পুরানো শখ গুলো নতুন করে শুরু করেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই আকাশের দিকে তাকালেই অসংখ্য ঘুড়ি উড়তে দেখা যায়। মাঠের দিকে হাটলে পুড়ানো দিনের স্মৃতিগুলো খুঁজে পাওয়া যাই। ছেলে মেয়ে গুলো প্রাণচঞ্চল হয়ে ঘুড়ি নিয়ে ছোটাছুটি করছে। বাবারা ও ছেলেমেয়েদের সাথে সমান তালে উপভোগ করছে ঘুড়ি উৎসব। করোনার আকাশে আজ চলছে ঘুড়ির মেলা।