“করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ঈদ আনন্দ নেই কিন্ডারগার্টেন ও নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের”

প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ঈদ আনন্দ নেই কিন্ডারগার্টেন ও নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের।

গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় দিশাহারা অবস্থায় আছেন দেশের লাখ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। বেতনের সঙ্গে প্রাইভেট টিউশনিও বন্ধ হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। ফলে এই শিক্ষক-কর্মচারীরা জীবন চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ঈদের আনন্দের চেয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের পেটের ক্ষুধা নিবারণের চিন্তায় দিন পার হচ্ছে তাদের।

সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন দেশের প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের  শিক্ষক-কর্মচারীরা। দেশের প্রায় সাত হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার ২৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বেতন না পেয়ে দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকরা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতায় এখনো নন-এমপিওভুক্ত। এ ছাড়া সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় তিন লাখ খণ্ডকালীন বা অস্থায়ী শিক্ষক-কর্মচারী গত মার্চ মাসের পর থেকে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সম্মানিত শিক্ষক জনাব কাজী আব্দুল হামিম বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের মালিক ও শিক্ষক-কর্মচারীরা অনেক সমস্যায় রয়েছেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হলে গত মার্চ মাস থেকে সকল কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে নিজের সাজানো প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের কষ্ট বলে বোঝানোর মতো নয়। ঈদের আনন্দের কথা তারা স্বপ্নেও ভাবছেন না। যদি আমাদের বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হতো তাহলেও আমরা এ যাত্রায় বেঁচে যেতাম।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রথম পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের নন-এমপিও ৮০ হাজার ৭৪৭ জন শিক্ষক ও ২৫ হাজার ৩৮ জন কর্মচারীকে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ৫১ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষক ও ১০ হাজার ২০৪ জন কর্মচারীকে প্রায় ২৮ কোটি টাকা অনুদান দেন। এতে একজন শিক্ষক পাঁচ হাজার ও কর্মচারী আড়াই হাজার করে টাকা পেয়েছেন।

বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের জন্য অবশ্যই তাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু পাঁচ হাজার টাকায় একজন শিক্ষক কতদিন চলতে পারেন? আগে শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনি করলে কিছু টাকা পেতেন। কিন্তু করোনার পর তাও বন্ধ। চলতি অর্থবছরে নতুন এমপিওভুক্তির বরাদ্দের ব্যাপারে এখনো আমরা কিছু জানতে পারিনি। চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন আমাদের শিক্ষক-কর্মচারীরা।’


Categories