কবি মোঃ মাহফুজুর রহমানের এক গুচ্ছ কবিতা (পর্ব-২)।

প্রকাশিত: ১:০৭ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২১

কবি মোঃ মাহফুজুর রহমানের এক গুচ্ছ কবিতা।

_শুধুই তুমি_         

তোমাকে নিয়ে লিখছি মনের আনন্দে
তুমি মিশে আছ আমার লেখা কবিতার
প্রতিটি ছন্দে ছন্দে।
আমার লেখনীতে শুধুই তুমি
তোমায় নিয়ে অজস্র কবিতা লিখছি আমি।
তুমি ভুলে গেছো আমাকে
আমি কিন্তু ভুলিনাই আজও তোমাকে।
আমার লেখনিতে তুমি থাকবে নিত্য সকাল
সাজে
আমি কিন্তু তোমায় খুঁজে নেব
আমার লেখনীর মাঝে।
আমার মাঝে তুমি সদা জাগ্রত
তোমার ভাবনা আমাকে করে দেয় আবেগ আপ্লুত।
তোমাকে নিয়ে আমার অজস্র কল্পনা
আমি কিন্তু একে যাই তোমাকে নিয়ে শত মধুর আলপনা,
তুমি আছ,তুমি থাকবে আমার লেখনীতে
যতদিন আমি বেঁচে থাকব এই ধরণীতে।

_বাতায়ন পাশে_   

রাত নিঝুম
চারিদিকে অামনিশার তিমির অন্ধকার
আমি একা বসে আছি বাতায়ন পাশে
পাশেই মিটি মিটি মাটির প্রদ্বিপটি জ্বলছে
বাতায়নের ফাঁক দিয়ে মৃদু সমীরন বয়ে আসছে।
তোমাকে হারানোর স্মৃতিগুলো
আমার হৃদয়পটে ভেসে ভেসে উঠছে
বহুদিন,বহু মাস,বহু বছর পেরিয়ে গেল
তোমার আমার একান্ত ভালবাসার সমাধি রচিত হল।
সেই থেকে আজ অবধি তোমার দেখা মিলেনি
আমিও তোমাকে খুঁজে খুঁজে অাদৌ পাইনি
আজও মাঝে মাঝে তোমার প্রতীক্ষায়
বাতায়ন পাশে বসে থাকি
ভাবি,এই বুঝি তুমি চলে এলে নাকি।
আমার মনের ভাবনাগুলো
নিতান্তই ভুলে ভরা
জানি,তুমি কোনদিন আমার হয়ে
দিবেনা ধরা।
আমি চাই আমার প্রতীক্ষার অবসান হউক
তোমার মাঝে নতুন করে ভালবাসার প্রদীপ
জ্বলে উঠুক।
হায়রে মিথ্যে ভালবাসা
আমার জীবন থেকে তোমার ইতি ঘটুক
আমি চাই আমার অতীত সুখে থাকুক।

_শ্যামলা মেয়ে _   

ঐ দেখাযায় কোন সুদূরে
ছোট্ট একটি গ্রাম
সেই গ্রামেরই শ্যামলা মেয়ে
রাইছা যে তার নাম।
আমি একদিন গিয়েছিলাম
রাইছাদেরই বাড়ি
আমায় দেখে রাইছা তখন
দিয়ে দিল আড়ি।
বললাম হেসে ওগো রাইছা
কেমন আছ তুমি
তোমায় নিয়ে আজও আমি
সুখের স্বপ্ন দেখি।
রাইসা তখন মৃদু হেসে
আমার ডেকে বলে
তোমায় দেখে আমার আড়ি
রইলনা যে মনে।
আমার পাশে থাকবে তুমি
চিরকালের তরে
সারাজীবন বাসবভাল
আমার হৃদয় ভরে।
তুমি থাকবে আমার পাশে
চিরকালের তরে
আমি কিন্তু তোমায় নেব
অতি আপন করে।

_শত কান্না _       

 তুমি চলে গেছ আমাকে ছেড়ে

কোনদিন আর ডাকবেনা লক্ষি বাবা বলে।
তোমার মধুর ডাক আর শুনব না আমি
আমার বুকটা চিরতরে হয়ে গেল খালি।
ছুটে এসে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরবেনা
আর বুঝি কোনদিন তোমার কপালে চুমু খেতে পারব না।
তোমার শতস্মৃতি আমার নয়নে ভেসে উঠে
শতকান্না পীড়া দেয় আমার বুকে।
পরপারে সুখে থাক তুমি
শতকান্নার মাঝে বেঁচে থাকব আমি।
আমাকে দোয়া করো পরপারে বসে
আমিও কোন একদিন চলে আসব তোমার কাছে।
তুমি দোয়া করো আল্লাহ যেন মোরে নেক হায়াত দান করে
তোমার সাথে দেখা হবে আবারও আমার সেই পরপারে।

_হঠাৎ দেখা_    

 হঠাৎ দেখা একদিন তোমার সাথে
সেই পল্লীগ্রাম দৌলতপুরে
প্রথম দেখা থেকে ভালোবাসা
ধেয়ে বসল আমাকে
জানিনা কখন যেন আমার হৃদয় ভালবেসে বসল তোমাকে।
একদিনের ভালোবাসা শেষন্তে
পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হলাম
জানিনা কখন কোন ফাঁকে ক্ষনিকের ভালবাসার সমাধি রচনা করে চলে এলাম।
হয়তবা কোন দিন আর দেখা হবে না
তুমিও আমার হৃদয়ে ফিরে আসবেনা।
আমি প্রতীক্ষায় থাকবো তোমার
পরপারে তুমিই হয়ে যাবে একমাত্র আমার।

_তুমি অম্লান_    

তুমি আজ নেই
রয়ে গেছে স্মৃতি
তোমার স্মৃতিকে স্মরণে রাখতে
ভালোবেসে আমরাগাই তোমার নামের গীতি। আজও তুমি অম্লান
দৌলতপুরে
তোমার নার্গিস ঘুমিয়ে আছে
তোমার বাঁশির সুরে।
তোমার স্নানের ঘাটটি
আজ জরাজীর্ণ অবস্থায়
তোমার স্মৃতি বহন করে,
তোমার স্মৃতিকে স্মরণে রাখতে
আজও পথে যেতে একটু দাড়াই সেই ঘাটটিতে।

Categories