ঢাকা, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

কবিতা: “ফিরে এসো শৈশব”


প্রকাশিত: ৯:১৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০২১

ফিরে এসো শৈশব

      —মোঃ হারুনুর রশীদ

শৈশব তুমি আবার এসো-সেই সে আমার গাঁয়-
তোমার স্মৃতির ভিরে আমার- মন যে ছুটে যায়,
তোমার বেলায় হাসি খুশি-প্রাণ ছিল চঞ্চল-
এদিক সেদিক ছোটাছুটি-গাঁয়ের সব অঞ্চল।
গাঁয়ের সকল বন্ধু মিলে-বৃষ্টি ভেজা দিনে-
মেতেছিলাম কত খেলায়-সবই পড়ে মনে,
বৃষ্টি হলে খালে-বিলে- মাছ ধরিতাম কত
টেংরা,পুটি, শিং-মাগুর আর- মলা শত শত।
বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে-ঐ না খালে-বিলে
আদল গায়ে ঝাঁপাঝাপি- বন্ধুরা সব মিলে,
ক্ষেত খামারে হালের শেষে- দিতো যখন মই
শোল, টাকি আর খলশে-পুটি- ধরতাম কত -কৈ।
গাঁয়ের সকল বন্ধু মিলে- ঐ না পুকুর পাড়ে-
হা-ডু-ডু আর দাড়িয়াবান্দা-খেলতাম ধীরে ধীরে,
গোল্লাছুট আর কাঁনামাছি- কোথায় গেল হায়
নানান রকম খেলছি খেলা- ঐ জালা বিরচায়।
প্রখর রোদে আকাশ পানে- উড়াই রঙিন ঘুড়ি-
এ মাঠ ও মাঠ ছুটাছুটি -সুতোর লাটাই ধরি,
এ গ্রাম ও গ্রাম ঘোরাঘুরি- নানান খেলায় মজে
সারা দিন যে কাটিয়েছি -গাঁয়ের মোড়ল সেজে।
এটা সেটা পাওয়ার আশায়-কিছু খাওয়ার তরে-
গুন গুনিয়ে কেঁদে যেতাম- মায়ের আঁচল ধরে,
সর্দি কাশি, ঠান্ডা জ্বরে শরীর গরম হলে-
কত না সময় কাটিয়েছি – বড় বোনের কোলে।
দিনের শেষে সন্ধ্যে হলে- ভাই বোনেরা মিলে-
গল্প কথার আসর জমাই- দাদীর আঁচল তলে,
দাদী মোদের লক্ষী দাদী- একটি গল্প বল
অন্য কাজের দোহাই দিয়ে- করিসনে আর ছল।
দৈত্তপুরি, দেওদানা আর রাজকুমারীর দেশে-
বলতো দাদী গল্প মোদের মুচকি হেসে হেসে,
আজকে এসব শুধুই স্মৃতি- শুধুই দীর্ঘশ্বাস
শৈশবের সেই স্মৃতির ভিরেই- করছি বসবাস।
কত মধুর স্মৃতি নিয়ে মোদের সে শৈশব,
আজকে শুধু ভাবছি বসে -কই গেল ঐসব,
শৈশব তুমি আসবে ফিরে-একবার কথা দাও
বিনিময়ে যা আছে মোর- সবই নিয়ে নাও।।