এসিডিটি নিয়ন্ত্রণের ঘরোয়া উপায়

প্রকাশিত: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০

বর্তমান সময়ে এসিডিটি খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এখন অনেকেই এসিডিটি সমস্যায় ভুগছেন। এসিডিটি হলে পেটব্যথা, বমি, গ্যাস ও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।

গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি কী?

গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি হলো– পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং অবশেষে ক্ষতের সৃষ্টি করা। সাধারণত অতিরিক্ত ঝাল, মসলাযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবারে এটি বেশি হতে পারে। কারণ এসব খাবারকে হজম করতে অতিরিক্ত অ্যাসিডের দরকার হয়। ফলে অনেক হাইড্রোজেন ক্ষরিত হয়ে ক্লোরিনের সঙ্গে মিলে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি করে।

এ অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি হলে আমাদের পাকস্থলীর চামড়া ভেদ করে এবং আলসার (ঘা) তৈরি হয়, তখন আমরা ব্যথা অনুভব করি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. চঞ্চল কুমার ঘোষ বলেন, নিয়ম মেনে খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত ঝাল মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া মানসিক চাপ ও মদ্যপানের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে।

এ ছাড়া বাইরের খাবার খাওয়া ও অতিমাত্রায় ফাস্টফুডে আসক্তির কারণে যে গ্যাস্টিক সমস্যা বাড়ছে।

এ রোগের লক্ষণ

এসিডিটি বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেয়ে থাকেন হয়তো। তবে আপনি জানেন কি ঘরোয়া কিছু উপায়ে আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

কী খাবেন

এসিডিটি হলে প্রথমেই এক গ্লাস পানি পান করে নিন। পানি অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করে পাকস্থলী থেকে বের করে দেয়। কয়েক টুকরো আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। এ ছাড়া দুই থেকে তিনটি লবঙ্গ মুখে দিয়ে চিবাতে থাকুন।

এই রোগ থেকে বাঁচতে কী করবেন-

১. সঠিক সময়ে খাবার খান, অতিরিক্ত ঝাল-মসলা ও তেলেভাজা খাবার পরিহার করুন।

২. চাহিদামাফিক বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

৩. সহজপাচ্য, সুষম ও আঁশযুক্ত খাবার খান। খাবার ভালো মতো চিবিয়ে খান।

৪. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান এবং দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকুন।

৫. খালি পেটে চা, কফি, কলা, লেবু ও কোমল পানীয় খাবেন না।

৬. ধূমপান, মাদকদ্রব্য ও অ্যালকোহল বর্জন করুন।

৭. ঠাণ্ডা দুধ পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে ও এসিডিটি থেকে মুক্তি দেয়।

৮. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না।


Categories