এমপিও ভূক্ত কলেজ মাদ্রাসা কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিতে ৫০% এর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ।

প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২০

এমপিও ভূক্ত কলেজ মাদ্রাসা কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিতে ৫০% এর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ।

পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজের প্রধান সমন্বয়কারী মো জহিরুল ইসলাম ফেইজবুক লাইভে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান তার বক্তব্য সরাসরি তুলে ধরা হল।

আসসালুমু আলাইকুম , আমি মো.জহিরুল ইসলাম ,প্রধান সমন্বয়কারী পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজ। বৈশ্বিক মহামারিতে বাংলাদেশের শিক্ষা চরম বিপর্যয়ের মুখে। এ বিপর্যয়ের মধ্যেও এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতি চোখে পরার মত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর a2i প্রকল্পের অধীনে মাননীয়  শিক্ষামন্ত্রী  ও উপ মন্ত্রী মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় অনলাইনে শিক্ষকগন ক্লাস নিচ্ছেন । ফলে একটি টপিকস এর উপর শতাধিক শিক্ষকের ক্লাস রয়েছে। এতে করে একজন শিক্ষার্থী অনেকের ক্লাস ফলো করে নিজকে প্রস্তুত করতে পারবে । তাছাড়া একজন শিক্ষক ক্লাস গুলি ফলো করে নিজের উস্থাপন, প্রায়োগিক কৌশল পরিবর্তন করে নিজকে আরও দক্ষ করতে পারবেন যেন শিক্ষার্থীরা সহজেই বুজতে পারে। সবচেয়ে আশার কথা হল এই ক্লাসগুলি অনলাইনে যুগের পর যুগ থাকবে। এই বিপর্যয়ের মধ্যেও বৈষম্যযুক্ত এমপিও নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী, উপ মন্ত্রী ,শিক্ষা সচিব মহোদয়কে পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। আপনারা হয়ত জানেন পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজ কলেজ , মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাষদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিতে অনুপাত প্রথা বাতিলের দাবীতে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করে আসছে। পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজ অনুপাত প্রথা বাতিলের দাবীতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন, লাইভ প্রোগ্রাম. টক শো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ, বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে লিখে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাছাড়া মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী, উপ মন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, মাউশি, কারিগরি ও মাদ্রাসা অদিদপ্তরের ডিজি মহোদয়ের নিকট স্বারকলিপি ও আবেদন করেছে। এছাড়াও এমপিও নীতিমালা প্রনয়ণ কমিটির সদস্যগণের নিকট অনুরোধ পত্র প্রেরণ করেছে। এসব কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্য়িত হয়েছে। গতকাল এমপিও নীতিমালা চুড়ান্তকরণ সভায় অনুপাত প্রথা নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে ৫০% প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রস্তাব করা হয়।অনুপাত থেকে শতকরা হিসাব ২৮% থেকে ৫০%  এ বৈষম্য রয়েই গেলো । ৫০% প্রভাষক আজীবনের জন্য প্রভাষক পদে থেকেই যাবেন। আমরা এ বৈষম্যের অবসান চাই। তবে অনুপাত প্রথা নিয়ে আলোচনা করায় মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী, উপ মন্ত্রী ও শিক্ষা সচিব মহোদয়কে পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজের পক্ষ থেকে আবারও ধন্যবাদ জানাই। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ঘোষিত ৫% প্রবৃদ্ধি বাস্তবায়নের ফলে একজন প্রভাষক ১০ বছরে সহকারী অধ্যাপকের স্কেলকে অতিক্রম করে ফলে তাকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিলে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে না তাই নিদ্দিষ্ট বছরের অভিজ্ঞতায় সকলকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়ার অনুরোধ করছি।

 

তাছাড়া এমপিও নীতিমালায় ১২ বছরের অভিজ্ঞতায় সহপ্রধান ও ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে আবেদনের সুযোগ দিয়ে এমপিও নীতিমালা প্রণয়ণ করতে হবে । এ দাবী শুধু কলেজ প্রভাষকদের নয় এটি এমপিওভুক্ত  স্কুল কলেজ মাদ্রাসার সকল শিক্ষকদের।

সাধারণ শিক্ষায় হাই স্কুলের এ প্রধান শিক্ষক বা সহ প্রধান শিক্ষক কলেজে অধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ না থাকলেও সম পদমর্ষদা সম্পন্ন দাখিল মাদ্রাসার সুপার বা সহসুপার আলিম মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে পারেন অথচ একজন প্রভাষক ২০/২৫ বছরের অভিজ্ঞতার পরও আবেদন করতে পারেন না এটা হতে পারে না। মাদ্রাসা সুপার বা সহসুপারের অধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ বাতিল করে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

১০ বছরের অভিজ্ঞতায় নবম গ্রেড থেকে ৮ম গ্রেডের ব্যবধান মাত্র ১০০০ টাকা তাই নবম গ্রেড থেকে সরাসরি সপ্তম গ্রেডে পদায়ন করতে হবে। যা ১৯৯৫ বা ২০১০ এর নীতিমালাও ছিল।

সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃজন করে মেধাবীদের পদায়ন করতে হবে। ২০১৮ এর নীতিমালায় সহযোগী অধ্যাপকের পদ সৃজনের কথা থাকলেও তা আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

একজন প্রভাষকেও পদোন্নতি বঞ্চিত রেখেও আমরা ঘরে ফিরব না । আমাদের আন্দোলন চলবে । অনুপাত প্রথা ও শতকরা হিসাব উভয়েই শুভঙ্খরের ফাঁকি। আমরা চাই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিশর্ত পদোন্নতি।

নিরাপদে থাকুন , ঘরের বাহিরে মাক্স ব্যবহার কুরুন, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখুন ।

সকলকে ধন্যবাদ।


Categories