এমপিও নীতিমালা ২০১৮ ও ঔপনিবেশিক শাসন

প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী কে ধন্যবাদ দিয়ে লেখাটি শুরু করতে চাই। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে শিক্ষা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বিদেশ সফরে প্রস্তুতির প্রাক্কালে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আকস্মিক মাউশিতে যান এবং সফরের কথা শুনে তাৎক্ষণিক ওই সফরে শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ দেন । ধন্যবাদটি আমি এই কারণেই দিতে চেয়েছি মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী অন্তত একটা বিষয় হলেও উপলব্ধি করতে পেরেছেন যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে তাদেরকে মূলত বিদেশে প্রশিক্ষণে যাওয়া উচিত । দেশের ৯৭ ভাগ শিক্ষা বেসরকারিভাবে চলছে শিক্ষা নিয়ে আমরা যা কিছুই শুনি আসল কথা হল এর ভিতরটা দেখতে আসলেই বিব্রত। বেসরকারি শিক্ষার সাথে শিক্ষা প্রশাসনের সম্পর্কটা অনেকটা ঔপনিবেশিক শাসনের তুলনা চলে কারণ এখানে বিভিন্ন নীতিমালা আইন বিধি-বিধান তৈরি করা হয় একচেটিয়া আমলাদের দিয়ে যেখানে শিক্ষকদের অংশীদারিত্ব থাকে না। এই সকল বিধান প্রয়োগে মাঠ পর্যায়ে চরম হতাশার সৃষ্টি হয় । অনুপাত নামক বন্দিদশা কোন নীতিমালায় থাকা উচিত নয় ।এটি শিক্ষকদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়।২০১৮ এর নীতিমালায় উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তিতে শিক্ষকদের অযৌক্তিকভাবে সময় বাড়িয়ে দেওয়া খুবই বঞ্চনা মূলক। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।শিক্ষকদের অংশগ্রহণ থাকলে এইসব বিধান কোনদিনই নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারতো না। এই বিষয়ে একটি উদাহরণ দিতে চাই আমার প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির এক সদস্য বাৎসরিক পূর্বপরিকল্পনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে উনি বলেছিলেন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় উন্নতিতে আপনি অংশীজন। এই প্রতিষ্ঠান যত উন্নতি হবে আপনার ভাগ্যে তো উন্নতি হবে। আপনি এটাকে নিজের মনে করে উন্নতির চেষ্টা সর্ব সময় করতে হবে ,তাহলেই কেবলমাত্র প্রতিষ্ঠানের সফলতা অর্জন করা সম্ভব। উনার এই বক্তব্যে শিক্ষকরা দারুণভাবে উজ্জীবিত হন। একইভাবে বলতে চাই শিক্ষা প্রশাসনে যত আইন-কানুন প্রণীত হয় সবকিছুতে যদি শিক্ষকদের অংশীদারিত্ব থাকে তাহলে তারা ভালোভাবে কাজ করবে জাতিকে ভালো সেবা প্রদান করতে পারবে।
পরিশেষে বলব সীমিত হলেও এই নীতিমালা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল, প্রভাষক ,প্রধান শিক্ষক, সুপার, সহকারী শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং বৈষম্যহীন একটি নীতিমালা পুনরায় প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করুন।


Categories