এমপিও নীতিমালা সংশোধনের দাবি কলেজ শিক্ষক পরিষদের

প্রকাশিত: ৭:০২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২১

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক জারিকৃত সর্বশেষ এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০২১ সংশোধনের দাবি জানিয়েছে কলেজ শিক্ষক পরিষদ। গতকাল (৩ এপ্রিল) বিকালে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংগঠনের সাধারণ সভায় এ দাবি জানানো হয়।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১৮ সালে নানা অসঙ্গতিতে ভরপুর এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো প্রকাশিত হলে সর্বপ্রথম কলেজ শিক্ষক পরিষদ, সিলেট শাহজালালের পূণ্যভূমি থেকে আন্দোলনের ডাক দেয় এবং একের পর এক কর্মসূচি পালন করে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের নভেম্বরে নীতিমালা সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়। অনেক কালক্ষেপণের পর সম্প্রতি সংশোধিত নীতিমালা- ২০২১ প্রকাশ করা হয়েছে।

নীতিমালায় ৫০% প্রভাষককে সন্তোষজনক ভাবে চাকুরির ৮ বছর পূর্তিতে সহকারী অধ্যাপক (ডিগ্রি পর্যায়ে)/ জ্যেষ্ঠ প্রভাষক (উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে) পদে পদোন্নতির বিধান করা হয়েছে। একদিকে ৫০% পদোন্নতির সুবিধা রাখায় পদোন্নতির হার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে তা একটি ইতিবাচক দিক। অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদ তুলে দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজের প্রভাষকদের মধ্যে হঠাৎ করে যে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে তাতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রভাষকরা চরম ভাবে হতাশ।

পূর্বের নীতিমালায় পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকরা ৮ বছর পূর্তিতে ৭ম গ্রেড পেলেও বর্তমান নীতিমালায় ১০ বছর পূর্তিতে ৮ম গ্রেড পাবেন যাতে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে মাত্র এক হাজার টাকা। বর্তমান নীতিমালায় পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকদের ১৬ বছর পূর্তিতে জ্যেষ্ঠ প্রডাষক পদে পদোন্নতির কথা বলা হয়েছে যা নীতিমালার একটি ইতিবাচক দিক।

পূর্বের নীতিমালায় অভিজ্ঞতা সাপেক্ষে প্রভাষকগণ অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ পেলে ও বর্তমান নীতিমালায় তাদের সে সুযোগ আর নেই। শুধুমাত্র ‘জ্যেষ্ঠ প্রভাষক’/ সহকারী অধ্যাপকগণই এ সুযোগ পাবেন।

“এমপিও নীতিমালা -২০২১” সংশোধন করে নিন্মলিখিত দাবী অবিলম্বে বাস্তবায়ন করার জন্য কলেজ শিক্ষক পরিষদ, সিলেট এর দাবী হচ্ছে –
১) এমপিওভুক্তির ৮ বছর পূর্তিতে সকল প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে হবে, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করতে হবে,

২) উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদ বাতিল করে সহকারী অধ্যাপক পদ পুনরায় বহাল করতে হবে,

৩)এমপিওভুক্তির ১৬ বছর পর সকল সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষককে ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ /উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ দিতে হবে,

৪)অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে,

৫)সর্বোপরি শিক্ষাক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি জ্যোতিষ মজুমদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি এম.এ..মতিন, নন্দ কিশোর রায়, কামরুজ্জামান চৌধুরী, এ.এস.এম. লুৎফুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর কুমার তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত রায়, এমরান আহমদ বিয়ানীবাজার উপজেলা সাধারণ সম্পাদক প্রত্যূষ কান্তি দাস প্রমুখ।