এমপিও নীতিমালা সংশোধনী চুড়ান্তকরণের ৪র্থ সভা আজ

প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০

এমপিও নীতিমালা সংশোধনী চুড়ান্তকরণের ৩য় ভার্চুয়াল সভা গতকাল (৪ আগস্ট) শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সভা আজ (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে বলে গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন নীতিমালা সংশোধনী কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন ।

সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি  বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি নেই  তাদেরকে আর ভবিষ্যতে এমপিও ভুক্ত করা হবে না।

পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভাড়া বাড়িতে স্থাপিত যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এর মধ্যে এমপিও ভুক্ত করা হয়েছে; তাদেরকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নিজস্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করতে হবে।’

‘‘কোনো ট্রাস্ট বা সংস্থা দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট বা সংস্থার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করা হবে। এই রকমের যে সকল প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এমপিও ভুক্ত হয়েছে ট্রাস্ট যদি না চায় তাহলে সেসকল প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করা হবে।

একই সঙ্গে ঐ সকল প্রতিষ্ঠানে এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা চাইলে অন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারবেন। অথবা আগের প্রতিষ্ঠানে থেকে যেতে পারবেন। তাছাড়া ভবিষ্যতে ট্রাস্টের কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির জন্য আবেদন করতে হলে ট্রাস্টের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।’’

ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে এই ভার্চুয়াল মিটিংয়ে আরো যুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো: মাহবুব হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  এমপিও নীতিমালার সংশোধনী চূড়ান্তকরণে চলতি মাসের ১৩ ও ১৫ তারিখে আরো দু’দফা  সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।৭২ পৃষ্ঠার নীতিমালার খুব কম অংশ নিয়েই আলোচনা হয়েছে গত দুইদিনে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায়   নীতিমালা সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন বলেন,  নীতিমালার বেশ কিছু দিক নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যেই নীতিমালা চূড়ান্ত করনের কয়েক দফা সভা হয়েছে। নীতিমালা সংশোধনের যেসব দিক আগের সভাগুলোতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো নিয়ে আগামীকালের সভায় আলোচনা হবে।

এদিকে নীতিমালার কোন কোন দিকে সংশোধন আসছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নীতিমালা সংশোধন কমিটির সভায় যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেগুলোই সভায় উপস্থাপন করছি। নীতিমালা কোন কোন দিক থেকে পরিবর্তন হবে সে বিষয়ে এখনই স্পষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা সুপারিশগুলো উপস্থাপন করছি। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ স্থানীয়রা এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের  দাবিদাওয়ার প্রেক্ষিতে বিদ্যমান নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে গত বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে।  কমিটি গত জুন মাসে নীতিমালা সংশোধনের সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে জমা দেয়।

গত  বছরের ১২ নভেম্বর বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। কমিটিতে ননএমপিও শিক্ষক নেতারাও সদস্য হিসেবে ছিলেন।  এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করতে বলা হয়েছিল এ কমিটিকে। এরপর এ  লক্ষ্যে পাঁচটি সভা করে কমিটি।

পত ৪ ডিসেম্বর এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনে গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় । এরপর  যথাক্রমে  ১২ ডিসেম্বর, ২২ ডিসেম্বর, ৭ জানুয়ারি  ১১ মার্চ আরো ৪টি সভা অনুষ্টিত হয়। সভাগুলোর আলোচনা নিয়েই এমপিও নীতিমালা সংশোধনের লিখিত সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে বলে  জানিয়েছে  শিক্ষা মন্ত্রণালয় ।

এদিকে এমপিও নীতিমালা – ২০১৮ এর কিছু ধারা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক নেতারা। বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরমের সভাপতি জনাব সাইদুল হাসান সেলিম বলেন, সহকারী শিক্ষকদের বিএড স্কেল নিয়োগকালীন যোগ্যতাভিত্তিক স্কেল। এটি উচ্চতর স্কেল  হতে পারেনা।  এ নীতিমালার ফলে শিক্ষকরা বিএড প্রশিক্ষণে আগ্রহ হারাবে। তিনি বিএড স্কেলকে আগের মত নিয়োগকালীন স্কেল হিসেবে গণ্য করে এরপর দুটি উচ্চতর স্কেল প্রদানের দাবি জানান।

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের মহাসচিব জনাব মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের আবেদনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষক/প্রভাষকদের ও আবেদনের সুযোগ ছিল আগের নীতিমালাগুলোতে। বর্তমান নীতিমালায় এ সুযোগ রাখা হয়নি। তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের আবেদনে পূর্বের ন্যায় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষক ও প্রভাষকদের সুযোগ বহাল করার দাবি জানান।

পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজের প্রধান সমন্বয়কারী জহিরুল ইসলাম বলেন ,সরকারি কলেজের প্রভাষকরা বিভাগীয় পরীক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকরা জার্নালে প্রকাশনার ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেলে ও এমপিওভুক্ত কলেজের প্রভাষকদের শুধুমাত্র সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।তা ও অনুপাত নামক অযৌক্তিক ও অমানবিক প্রথার কারণে ৭৩% প্রভাষককে আজীবন প্রভাষক থাকতে হয়। তিনি বলেন, অভিশপ্ত অনুপাত প্রথা বাতিল করে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সকল প্রভাষককে ধাপে ধাপে সহকারী অধ্যাপক , সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে হবে।

পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজের মুখপাত্র এম.এ.মতিন  বলেন, বর্তমান নীতিমালায় পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকদের ১০ বছর পূর্তিতে ৮ম গ্রেড তথা মাত্র এক হাজার টাকা বৃদ্ধির যে নিযম করা হয়েছে, জাতি গড়ার কারিগরদের এর দ্বারা চরমভাবে অপমান করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে গ্রেড প্রভাষকরা ২ বছরে পেতেন সেই গ্রেড ১০ বছর পর কেন? তিনি অবিলম্বে এ বিধান বাতিলের দাবি জানান।

বদলি আন্দোলনের সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম বলেন, বদলি না থাকায় নিজ জেলার বাইরে চাকুরিরত শিক্ষক কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।  তিনি বদলির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়ন করে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান।


Categories