এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে

প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

কিছুদিন পূর্বেও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ ছিল কল্পনাপ্রবণ চিন্তা। শিক্ষক সংগঠনগুলোর ৯,১২ ও ১৮ দফার তলানিতে ছিল জাতীয়করণের দাবি। ইতিহাস সাক্ষী ২০০৫ সালের পর ২০১৬ পর্যন্ত একযূগ ধরে শিক্ষক কর্মচারীদের বঞ্চনা বৈষম্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলেনি বিদ্যমান কোন শিক্ষক সংগঠন। ২০১৫ সালের জাতীয় পে-কমিশন ঘোষণার পর দেশের একঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষকরা প্রথম প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন এলাকার সাহসী ও উদ্যমী নবীন প্রবীণ শিক্ষক কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত হয়, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম।

১৯ অক্টোবর-২০১৭ সালে জাতীয় শহীদ মিনারে দেশের এমপিওভুক্ত ৫০ হাজার শিক্ষক কর্মচারীদের মহাসমাবেশে জাতীয়করণের যৌক্তিকতা সরকারের সামনে তুলে ধরে শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই সংগঠনটি ১০ জানুয়ারি-‘১৮ হতে ২৯শে জানুয়ারি- ২০১৮ লিয়াজো ফোরামের ব্যানারে ২০দিন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করে। এতে পাঁচ দফায় শিক্ষা মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিবগণ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার প্রতিশ্রুতি আদায় করে। এছাড়াও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে অতিরিক্ত কর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত করে সংগঠনটি। জাতীয়করণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জাতীয়করণ ঘোষণার দাবিতে ছয়টি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত করে। বাড়তি সুবিধা না দিয়ে অতিরিক্ত কর্তনের প্রতিবাদ করা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রতিকার না পেয়ে, বাড়তি সুবিধা দিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন চলমান রয়েছে। এছাড়াও দেশের সম্মানিত সাংসদদের জাতীয়করণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মহান সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেয়। ফলে ইতিমধ্যেই মাননীয় সাংসদগণ জাতীয়করণের দাবি মহান সংসদে জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছেন। এমনকি মাননীয় বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের মহোদয় জাতীয়করণের দাবি মহান সংসদে জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি আজ গণদাবিতে পরিগণিত হয়েছে। সংগঠন যার যার জাতীয়করণ সবার এই শ্লোগান কে সামনে রেখে মোরামের অগ্রযাত্রা। গুণগত মানের শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষকদের মর্যাদাশীল করতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের মাধ্যমে প্রান্তিক অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর সন্তানের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মহান সংসদে বলেছেন, “শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক বেশি এমন প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা সম্ভব নয়”।

** মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখিত বক্তব্যের পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে সরকার বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একীভূত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যাপিং করে একীভূত (মার্জ) করার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়েছেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি। যেসব জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই সেখানে নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করবে সরকার।
** জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের দশ বছর অতিক্রান্ত হলেও সম্প্রতি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তা যথাশীঘ্র মন্ত্রী পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
** ২০২০ সালের আগস্ট মাসে গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসির) আদলে জাতীয় শিক্ষা কমিশন (এনএসসি) গঠনের সুপারিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। আশাকরি দ্রুততম সময়ে জাতীয় শিক্ষা কমিশন (এনএসসি) গঠন আইনে রূপান্তরিত হবে।
** সরকারের এসব মহতি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে, জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করি।
উপরোক্ত কার্যক্রমগুলো এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের কার্যকর পদক্ষেপ বলে বিশ্বাস করি। কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি, শিক্ষা বান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং সুযোগ্য শিক্ষক দরদীয়া মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনিকে।
“বিশ্ব মানের শিক্ষায় গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ”।

মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম