এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যারে (একটি প্রস্তাবনা)।

প্রকাশিত: ৯:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২২

মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যারে (একটি প্রস্তাবনা)।

বদলি না থাকায় কাটছে না শিক্ষক সংকট। পূর্বের নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা পুনরায় নিয়োগ পাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষক আসার পাশাপাশি চলে যাচ্ছে আগের নিয়োগ পাওয়া ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা। যার কারনে শিক্ষক শূন্যতা থেকেই যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ  হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নতুনরা বঞ্চিত হচ্ছে চাকরির সুযোগ থেকে। এহন সমস্যা সমাধানে বদলির বিকল্প নেই। সফটওয়্যারের মাধ্যমে কিভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যকর করা যায় তার একটি প্রস্তাবনা নিম্নে তুলে ধরা হলো।
বদলি দু’ ভাবে হতে পারে-
প্রথমতঃ পারস্পরিক (মিউচুয়াল)  বদলি।
দ্বিতীয়তঃ শূন্য পদে বদলি।
মিউচুয়াল বদলির ক্ষেত্রে-
সমপদের দুজন শিক্ষক যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এনটিআরসিএ বরাবর আবেদন করে পরস্পরের প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ নিতে পারেন।
 শূন্য পদে বদলির ক্ষেত্রে –  
এ প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে খুব সহজেই সম্পন্ন করা সম্ভব। এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের মতো বদলির এ কার্যক্রমটিও পরিচালনা করবে। প্রথমে এনটিআরসিএ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে যাচাই করে শূন্য পদের তালিকা সংগ্রহ করবে। তারপর শূন্য পদে বদলির জন্য গণবিজ্ঞপ্তি দিবে। আগ্রহী শিক্ষকরা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সমপদে বদলির জন্য অনলাইনে আবেদন করবে। প্রার্থী বাছাই সম্পূর্ণটাই অনলাইনে সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ভাবে সম্পন্ন হবে। বাছাই প্রক্রিয়াটি নিম্নোক্ত বিষয় গুলো বিবেচনা করে পয়েন্টের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা যেতে পারে।
   একাডেমিক সার্টিফিকেটের উপর পয়েন্ট –
  * প্রতিটি A+/ প্রথম বিভাগের জন্য ৩ পয়েন্ট।
  * A / A- গ্রেড/ দ্বিতীয় বিভাগের জন্য ২ পয়েন্ট।
  * B / C গ্রেড/ তৃতীয় বিভাগের জন্য ১ পয়েন্ট নির্ধারিত থাকবে।
  এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদের কাম্য যোগ্যতার চেয়ে অতিরিক্ত যোগ্যতার জন্য কোনো পয়েন্ট নির্ধারিত থাকবে না।
   অভিজ্ঞতার উপর পয়েন্ট-
  * চাকরির অভিজ্ঞতার উপর প্রতি এক বছরের জন্য ১ পয়েন্ট। সর্বোচ্চ ১৬ পয়েন্ট। ১৬ বছরের অতিরিক্ত অভিজ্ঞতার জন্য কোনো পয়েন্ট থাকবে না।
  * একাধিক প্রার্থী একই পয়েন্টের অধিকারী হলে যার বয়স বেশি তিনি অগ্রাধিকার পাবেন।
  * স্বামী স্ত্রী চাকরিজীবী হলে পরস্পরের ঠিকানায় পরস্পর অগ্রাধিকার পাবে।
  * এক জেলার বাসিন্দারা অন্য জেলায় আবেদন করতে পারবে না।
  * নিজ নিজ উপজেলায় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার থাকবে।
  * তবে কোনো উপজেলায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রার্থীকে সুপারিশ করা যেতে পারে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দূর দুরান্তে চাকরি করে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাছাড়া তাদের বাড়ি ভাড়া মাত্র এক হাজার টাকা। এ সামান্য টাকা দিয়ে দূরে বাসা ভাড়া করে থাকাও কঠিন। তাই দুর্মূল্যের এ বাজারে স্বল্প টাকায় সংসার পরিচালনার জন্য নিজ উপজেলায় চাকরির বিকল্প নাই। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বহুবিধ কল্যাণ বদলিতে। তাই বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
লেখক-
মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন, প্রভাষক
জিরাইল আজিজিয়া ফাজিল মাদরাসা,বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।

Categories