এবার হরিলুটের তালিকায় যুক্ত হলো শিক্ষানবিস কর্মকর্তাও

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

এবি ব্যাংকের লোগো

ভুয়া হিসাব খুলে একটি ব্যাংক থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন ব্যাংকেরই বহিষ্কৃত এক কর্মকর্তা ও তাঁর এক সহযোগী। ব্যাংকেরই এক কর্মকর্তার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এই টাকা হস্তান্তর করা হয়।
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় এবি ব্যাংকের পারিল শাখা থেকে এই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ব্যাংকের বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তির কাছ থেকে ৩৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জে সিআইডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার (সিআইডি) মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকী।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন এবি ব্যাংকের সিঙ্গাইরের পারিল শাখা থেকে সদ্য বরখাস্ত হওয়া শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আলম ওরফে শিহাব (২৪)। তাঁর বাড়ি ঢাকার সাভারের মজিদপুর এলাকায়। অন্যজন ফয়সালের সহযোগী মোস্তাকিন আহমেদ ওরফে সিয়াম (২২)। তাঁর বাড়ি ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৫ জুলাই অপেশাদারি কর্মকাণ্ডের জন্য ফয়সালকে বরখাস্ত করে এবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দুদিন পর ব্যাংকের এক কর্মকর্তার আইডি ও পাসওয়ার্ড হ্যাকড করে এবি ব্যাংকের উত্তরা শাখার একটি ভুয়া হিসাবে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা জমা করেন। সেদিনই এক সহযোগীর মাধ্যমে সেখান থেকে ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন ফয়সাল। এ ছাড়া ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্টের (আরটিজিএস) মাধ্যমে গাড়ি বিক্রেতার হিসাবে দিয়ে দুটি নতুন প্রাইভেটকার কেনেন তিনি। ১০ জুলাই ব্যাংক থেকে টাকা লুটের বিষয়টি টের পেয়ে ফয়সালসহ চারজনকে আসামি করে স্থানীয় থানায় মামলা করেন ব্যাংকের পারিল শাখার ব্যবস্থাপক আরিফ আহমেদ। মামলাটি দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডিকে।

মামলা তদন্ত কর্মকর্তা জেলা সিআইডির পরিদর্শক এস এম আওরঙ্গজেব বলেন, ১৮ জুলাই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন কেনা প্রাইভেটকার দুটি ফয়সালের সহযোগী মোস্তাকিনের ঢাকার বাসা থেকে জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় মোস্তাকিনকে। পরের দিন তিনি মানিকগঞ্জে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সাভারের বাসা থেকে মামলার প্রধান আসামি ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে লুট করা ৩৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

বিশেষ পুলিশ সুপার (সিআইডি) মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকী বলেন, ব্যাংকের আরও কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

সূত্র – প্রথম আলো।


Categories