এত দ্রুত যেভাবে তৈরি রাশিয়ায় করোনা ভ্যাকসিন

প্রকাশিত: ১০:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২০

মহামারী করোনার হাত থেকে রেহাই পেতে ভ্যাকসিন আনতে চেষ্টা করছে চীন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো। এর মধ্যে সবাইকে হারিয়ে করোনা মোকাবেলার ভ্যাকসিন নিয়ে উদ্ভাবনের দাবি জানিয়েছে রাশিয়া। কিন্তু কিভাবে এত তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন বাজারে আনল তাঁরা? সেই রহস্য উদঘাটন করল রাশিয়া।

রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী এটি পৃথিবীর প্রথম কার্যকরী করোনা ভ্যাকসিন। খোদ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন তাদের তৈরি ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে লড়াই উপযোগী এবং এর তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু পুতিনের সেই দাবি মানতে নারাজ বিশ্বের অনেক দেশে। তাদের প্রধান অভিযোগ রাশিয়ার এই করোনা ভ্যাকসিন কখনো মানব ট্রায়ালের সমস্ত ধারা উৎপন্ন হয় নি ।তাই এর কার্যকারিতা সংশয়তীত নয় ।কিন্তু এত দ্রুত কিভাবে তৈরি করা গেল এই ভ্যাকসিন?

রাশিয়া বলেছে, ভ্যাকসিন তৈরিতে রুশ বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আছে ।সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তৈরি হয়েছে ভ্যাকসিন। সেই সংক্রান্ত তথ্য দিতে এরই মধ্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে রুশ প্রশাসন।

রুশ বিজ্ঞানীদের দাবি, যে পদ্ধতিতে ইবোলার ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছিল, সেই পথে হেঁটেই আবিষ্কার হয়েছে ‘স্ফুটনিক ফাইভ”। ভ্যাকসিন তৈরিতে অ্যাডিনো ভাইরাসের ব্যবহার করা হয়েছে। এই ভাইরাসের জিনের সঙ্গে অন্য ভাইরাসের প্রোটিন মিশিয়ে তৈরি হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত করোনার ভ্যাকসিন। অক্সফোট, যুক্তরাষ্ট্র চীনের তৈরিতে অ্যাডিনোভাইরাস ব্যবহার করছে। কিন্তু উন্নতমানের প্রযুক্তি আছে শুধু রাশিয়ার হাতেই।

কি ভাবে তৈরি হলো ভ্যাকসিন:
প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ভ্যাকসিন তৈরিতে অ্যাডিনোভাইরাস ব্যবহার করা হবে। সেইমতো অ্যাডিনো ভাইরাসের জিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। একসঙ্গে অন্য ভাইরাসের প্রোটিন নিয়েও গবেষণা চলছিল। সেইমতো নতুন জিন ও প্রোটিনের মিশ্রণে তৈরি করোনার ভ্যাকসিন। রাশিয়ার দাবী এই প্রক্রিয়ায় কয়েকমাসে ভ্যাকসিন তৈরি সম্ভব হয়েছে।

রাশিয়া করোনার ভ্যাকসিন পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে দেশটির সরাসরি বিনিয়োগবিষয়ক সংস্থা আরডিআইএফ। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিভ সিএনবিসিকে বলেন, আমরা ভাগ্যবান যে করোনাভাইরাস এমইআরএসের খুব কাছাকাছি। আমরা এমইআরএসের ওপর একটি ভ্যাকসিন প্রস্তুত করে রেখেছিলাম।

তিনি আরো বলেন আমরা এমইআরএসের ওপর দুই বছর ধরে গবেষণা করেছি ।তারপর করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন হিসেবে ব্যবহার করার জন্য অভিব্যক্তি থেকে কিছুটা পরিবর্তিত করেছি ।এটাই ছিল আসল গল্প কোন রাজনীতি নেই। আর ভ্যাকসিন গবেষণার ক্ষেত্রে রাশিয়া সর্বদায় শীর্ষে ছিল।
আরডিআইএফের প্রধান বলেন, নভেম্বর /ডিসেম্বর মাসে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। এই ভ্যাকসিন নিয়ে যারা খুব সন্দেহবাদী তারা এটি পারবে না ।তাদের ভ্যাকসিন উন্নত কারণে আমরা সৌভাগ্য কামনা করি।সূত্র:সিএনবিসি।


Categories