“একের ভেতর সব” আশরাফুল রাংগা।

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২০

*একের ভেতর সব*    এ টি এম আশরাফুল ইসলাম সরকার রাংগা।

কয়েকদিন থেকে লক্ষ্য করছি, বেসরকারী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরির শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া  নিয়ে গণমাধ্যম. প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বেশ তৎপর ও সর-গরম হয়ে উঠেছে। অনেকেই রীতিমত নড়ে-চড়ে বসেছেন। কেউ কেউ আবার পোল সৃষ্টি করে শিক্ষকদের মতামত যাচাই করে নিচ্ছেন সরকারী নির্দেশনাগুলোর ব্যাপারে। ভোটের পাল্লা যেদিকে ভারী; শিক্ষকদের যন্ত্রণাগুলোও সেই দিকটাতে। তাহলে আমরা কি দেখে, শুনে, বুঝে সেই অসহনীয় যন্ত্রণাগুলোকেই রায় দিচ্ছি নাকি এই কষ্ট আর বৈষম্যগুলো লাঘব করার জন্য আমাদের মতামত প্রদান করছি? নি:সন্দেহে পরের বাক্যটি এর সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচ্য। যদি তাই হয়, তাহলে কষ্ট লাঘবের সুরেই আমাদের সকলকে সমবেত কণ্ঠে গান ধরা উচিত। আমাদের আন্দোলনের টিউনিংটা একই স্কেলে থাকা উচিত। কেননা কোরাস কণ্ঠের একটি সুর যদি বে-সুরা হয়ে যায়, তাহলে সেই সংগীত বিরক্তিকর শোনায়। সেখানে যত ভালো শিল্পিই অংশগ্রহণ করুক না কেন।

বেশ কিছুদিন হয় মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে আমরা ফেসবুকে ঝড় তুললাম। আমরা যে মোবাইল ব্যাংকিং চাইনা তার পক্ষে প্রায় সকল শিক্ষক বেশ জোড়ালো যুক্তি দাঁড় করালাম। অর্থাৎ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেন-দেনের অসুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করে এর চৌদ্দ গোষ্ঠি উদ্ধার করলাম। ভালো কথা। কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েছে বিধায় বিষয়টি আমলে নিয়ে তার সমাধানের পথ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু আমি লক্ষ্য করেছি, মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে এই যে এত বাদ-প্রতিবাদ যুক্তির লড়াই হয়ে গেল, এতে কি সবাই সমভাবে অংশগ্রহণ করেছে? অবশ্যই না। এর প্রমাণ হচ্ছে শিক্ষকদের মতামত যাচাইয়ের সেই পোল। সেখানে দেখেছি, কিছু সংখ্যক শিক্ষক এই পদ্ধতির পক্ষেও রায় দিয়েছেন। আর এ কারণেই গানটি বে-সুরা হয়ে যাচ্ছিল প্রায়।

অথচ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন স্যার লাইভে যুক্ত হয়ে দৈনিক শিক্ষা ডট কম কে এমনটাই বলেছেন যে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এমপিওভু্ক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেয়া হবে মর্মে কতিপয় সংবাদপত্র ও টেলিভিশন গুজব ছড়ানো হয়েছে। তিনি এর নিন্দাও জানিয়েছেন। অপরদিকে কালের কণ্ঠের উদ্ধৃতি দিয়ে গত ৩০/০৮/২০২০ খ্রী: তারিখে দৈনিক আমাদের ফোরাম পত্রিকাটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন স্যারের গণমাধ্যমকে দেয়া যে উক্তিটি প্রকাশিত করেছিলেন, তা এরকম! মাহবুব স্যার বলেছিলেন- ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনের টাকা পাওয়ার বিষয়টি আরো দ্রুত ও সহজ করার পরিকল্পনা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে বেতন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। এটা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।‘ আমরা কোনটাকে বিশ্বাস করব বলুন? আমরা কীসের ভিত্তিতে এই বাদ প্রতিবাদ আর যুক্তির লড়াইয়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিলাম? তবে হ্যাঁ। একটা বিষয় আমরা পরিস্কার করে দেয়ার চেষ্টা করেছি যে, এই পদ্ধতি আমরা চাই না।

এরপর যে বিষয়টি আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করালো, তা হচ্ছে, ইএফটি (EFT: Electronic Fund Transfer)। অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। ইএফটির মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শিক্ষকরা বেতন পাবেন। শিক্ষকদের এনআইডি নম্বর, ইন্ডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ইন্টারফেসিং এর মাধ্যমে একটি ডাটাবেজ তৈরি করে ইএফটির মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হবে এবং শিক্ষকরা সেখান থেকে তাদের বেতন-ভাতাদি উত্তোলন করতে পারবেন। এক মাসের মধ্যে এ ডাটাবেস তৈরির কাজ শেষ হওয়ার কথা আছে। এ ক্ষেত্রে যদি কোনও শিক্ষকের এনআইডি নম্বরে কোনো ভুল বা অন্য সমস্যা থাকে তাহলে তারা যেন খুব তাড়াতাড়ি তা সংশোধন করে নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে [সূত্র: দৈনিক শিক্ষা ডট কম/০৩/০৯/২০২০]।

এমন একটা খবর শুনে আমরা অনেক শিক্ষকেই আনন্দে এতটাই আপ্লুত হয়ে পড়েছি যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া স্ট্যাটাসগুলো পড়লেই তা বোঝা যায়। শুধু তাই নয়, এনআইডি কার্ড সংশোধনের জন্য আমরা অনেকটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। অনেকের পোস্টগুলো পড়ে এমনটাই মনে হলো, আমাদের সমস্ত দাবী যেন সরকার মেনেই নিলেন। আর আনন্দিত হবার কথাও বটে। মোবাইল ব্যাংকিং এর বিরুদ্ধে আন্দোলন সফল হওয়ার পর তার বদলে ইএফটি সিস্টেম চালুর দাবী আদায় আমাদের চরম বিজয়ই বটে। অথচ মাউশির অতিরিক্ত সচিব মহোদয় মোবাইল ব্যাংকিং এর কথা জানেন-ই না। দৈনিক শিক্ষা ডট কম এ ওনার উক্তি দেখলাম-  কোনো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই যাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন ভাতা। এখন বুঝুন, আমরা কোন তালে নেচেছি।

আমরা বে-সরকারী শিক্ষকরা বোধ হয় এরকম যাঁতাকলেই পিষে মরছি। নানা প্রতিকুলতা পেরিয়ে দেশকে যখন আলোকিত করার চেষ্টা করছি, তখন দর কষাকষি হচ্ছে আমাদেরকে নিয়ে। শিক্ষকতা পেশার দোহাই দিয়ে, আদর্শের কাছে ঠেকিয়ে রেখে আমাদের নাজেহাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আলোকিত পথের পথিকদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আমরা জানিনা এর শেষ কোথায়!

গত ০৯/০৯/২০২০ খ্রী: তারিখে বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারি ফোরাম (বাবেশিকফো)’র অনলাইন পোর্টালে বাবর উদ্দিন স্যারের দেয়া মো: জাকায়িা নামের সম্মানিত এক শিক্ষকের একটি আইডির স্ক্রিন শট পোস্টে দেখলাম- ‘এক শিক্ষকের পোস্ট, আপনাদের মন্তব্য আশা করছি’।

সেখানে ঐ শিক্ষক (মো: জাকায়িা) লিখেছেন- ‘বেসরকারী এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের বেতন ভাতার বিলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর প্রয়োজন না হলে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।‘ কিন্তু বাবর স্যার সবার মন্তব্য আশা করেছেন মাত্র। উনি নিজে কিন্তু কোন মন্তব্য প্রকাশ করেন নি। অত:পর মন্তব্যে যা আসার কথা- তা যা আসছে, সেগুলো ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। সংগঠন কেমন করে শক্ত হবে বলুন।

অনেকে আবার বদলী ব্যবস্থা নিয়ে বেশ মাথা ঘামাচ্ছি। এ নিয়েও কিন্তু কম বিতর্ক হয়নি। অবশ্য এর পেছনে কিছু যথাযথ কারণও (কষ্ট/হয়রানী/দৌরাত্ম/অবহেলা/অবমূল্যায়ণ/মানসিক চাপ ইত্যাদি) রয়েছে। যার ফলে বদলী ব্যবস্থাটিকে আমরা এতটাই প্রধান্য দিয়েছি যে, বদলী প্রথাটি চালু হলেই যেন আমাদের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। অবশেষে সেটাও বোধ হয় হয়ে যাচ্ছে। কলেজে ভর্তির আদলে বদলী ব্যবস্থার একটি সফটওয়্যারের কথা মাউশি মাথায় নিয়েছে। নিয়মটা হচ্ছে- শুণ্যপদ যে যে প্রতিষ্ঠানে থাকবে, কলেজ ভর্তির মত শিক্ষকরা সেই প্রতিষ্ঠান গুলোতে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। একজন শিক্ষক একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন। পরে নির্বাচিত হলে কর্তৃপক্ষ তা ঐ সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে শিক্ষককে জানিয়ে দেবেন। কি, আমরা খুশি নই? কিছু পাই আর না পাই, ইএফটি, বদলী, গ্রেড জটিলতার অবসান তো হয়েছে। আমরা এগুলো নিয়েই সন্তুষ্ট।

আসলে মোদ্দা কথা কি। আমরা শিক্ষকরা শিক্ষার আদর্শে আদর্শায়িত যেমন, তেমনি আবেগপ্রবণ। একটু পেলেই বেজায় খুশি। উচ্চতর স্কেল, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, বদলীর জন্য আমরা যেভাবে উঠে-পড়ে লেগেছি, একে অপরের কাছে পরামর্শ চাইছি, সেরকম ভাবে কি জাতীয়করণের বায়নাটা কেউ ধরেছি। পুরো শিক্ষক মহলে ভাঙ্গা ভাঙ্গা লেখা আর ভাঙ্গা ভাঙ্গা মত। আমি কথাটির বিরোধিতা করছিনা। কারণ, ছোটবেলায় পড়েছি-, যত মত, তত পথ। মতামত গুলো পোষণ করা কথা বলা হয়েছে একটা নির্দিষ্ট পথে এসে দাঁড়ানোর জন্য। কিন্তু সেই মত যদি শতপথে বিচরণ করে জটিলতার সৃষ্টি করে তাহলে ঐক্যমত ছাড়া আর কোনই বিকল্প নেই। আমরা কেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য আন্দোলন করব? আমরা কেন ইএফটি সিস্টেমের অপেক্ষায় বসে থাকব? আমরা কেন বদলীর জন্য বিতর্ক করব? আর কেনই বা উচ্চতর স্কেল, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, অনুপাত প্রথা নিয়ে নাচানাচি করব? আমরা কেন ম্যানেজিং কমিটির দৌরাত্মের প্রশ্ন তুলব? এগুলো তো ওয়ান ইন অল। একের ভেতর সব। আমাদের জোড়ালো আন্দোলন হবে এক দফা এক দাবী। আমরা জাতীয়করণ চাই। এককভাবে একক বিষয়ে আমাদের কোন কিছুই দাবী করা উচিত হবেনা মনে করি। আমাদের মতে এক, পথে এক, দাবীতে এক থাকা এখন সময়ের দাবী।

তবে পূর্বাভাসে যতটুকু আসছে, তাতে হয়ত সেদিন আর বেশী দূরে নেই। বেসরকারী শিক্ষকদের কথা চিন্তা করে সরকার যেসব পদ্ধতি চালুর কথা ভাবছেন, সেগুলো কিন্তু এমন ইঙিত-ই বহন করছে। কারণ, আকাশে ঘন কালো মেঘের আবির্ভাব হলে অনুমান করা যায় ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। দূরে ধোঁয়া দেখলেই বোঝা যায় আগুন লেগেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার কেমন যেন এমনি একটা অনুমান মনের ভেতর দানা বেঁধে উঠছে। তবে অনুমানটা যেন এমন না হয় যে, রাতে নিজ হাতে টাঙানো মশাড়িটা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে না পেয়ে ভেবে নেব- মশাড়িটা মশায় নিয়ে গেছে।

পরিশেষে আজও একটা গল্প দিয়ে আমার লেখা শেষ করছি-

কোনো এক দেশে এক রাজা চিন্তা করলেন, তিনি সেই দেশের চালের দাম বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু সমস্যাটা হলো- ঐ দেশের প্রজাসাধারণ অত্যন্ত চালাক। তিনি রাত-দিন চিন্তা করতে লাগলেন, কীভাবে চালের দাম বাড়িয়ে দেয়া যায়। অবশেষে  একটা উপায়ও খুঁজে বের করলেন। এ নিয়ে মন্ত্রীদের সাথে কথা বলার জন্য একটা জরুরী সভা আহবান করলেন। যথাসময়ে সভা শুরু হয়ে গেল। রাজা বললেন,

‘রাজকোষ বাড়ানোর জন্য কিছু পণ্যের দাম বাড়ানোর দরকার। আমি ভেবে দেখলাম, চালের দামটা বাড়িয়ে দিলে তা অনেকটাই পুষিয়ে নেয়া যেতে পারে। বর্তমানে চালের কেজি দশ টাকা। আপনারা আগামীকালই সারা রাজ্যময় ঘোষণা করে দিন, প্রতি কেজি  চালে কুড়ি টাকা বাড়িয়ে ত্রিশ টাকা করা হলো।‘

এই শুনে একজন প্রবীণ মন্ত্রী আরজ করলেন- ‘জাঁহাপনা, এ সিদ্ধান্ত কি প্রজা সাধারন মেনে নেবে? দামটা একটু বেশি হয়ে গেলনা! প্রজারা কি ক্ষিপ্ত হবেনা?’

রাজা একটু কড়া মেজাজেই বললেন- ‘এ নিয়ে আপনাকে এত ভাবতে হবেনা। আমি যা বলেছি, তাই করুন।,

পরদিন রাজার কথামত ঢোল পিটিয়ে চালের নতুন মূল্য সারা রাজ্যময় জানিয়ে দেয়া হলো। গুটিকতক প্রজা ছাড়া প্রায় সবাই এর তীব্র প্রতিবাদ করতে লাগল। সারা রাজ্যে শুরু হলো বিশৃঙ্খলা। রাজ্যের টাল সামলাতে রাজামশাই এবার চালের নতুন মূল্য জারী করার আদেশ দিলেন। তিনি বললেন-‘ আমি চিন্তা করে দেখলাম, চালের দামটা একটু বেশি-ই হয়েছে বটে। তাই প্রজাসাধারণের দিকে লক্ষ্য করে চালের মূল্য প্রতি কেজি দশ টাকা কমানো দরকার। তাছাড়া তাদের দাবীটাও যৌক্তিক। তাই, রাজ্যময় ঘোষণা করে দিন, আজ থেকে প্রতি কেজি চালের মূল্য হবে কুড়ি টাকা মাত্র’। রাজার আদেশ অনুযায়ী পরদিন ঢোল পিটিয়ে তা প্রজাদেরকে জানিয়ে দেয়া হলো।

নতুন এই চালের মূল্য শুনে প্রজারা একেবারে খুশিতে আটখানা হয়ে গেল। তারা বলাবলি করতে লাগল- যাক বাবা, দশ টাকা কমেছে। রাজামশাই কতই না মহান!

এদিকে রাজামশাই অট্টহাসীতে মত্ত হয়ে মন্ত্রীদের ডেকে  বলতে লাগলেন-

‘কিহে মন্ত্রীবর্গ! বলো দেখি, চালের মূল্য দশ টাকা কমেছে না বেড়েছে? তোমরা তো খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলে, তাই না?’

মন্ত্রীরা অবাক হয়ে বলতে লাগল- সবই মহারাজের বিচক্ষণতা। প্রজাসাধারণকে কীভাবে বোকা বানিয়ে দশ টাকার চাল কুড়ি টাকা হিসেবেই চালিয়ে দিলেন। দশ টাকা বাড়িয়ে দিয়েও ওরা বলছে দশ টাকা নাকি কমেছে। হাঃ- হাঃ- হাঃ। মহারাজের জয় হোক’।

মনে রাখবেন, আমরা কিন্তু অশিক্ষিত মানুষ নই। আমরা শিক্ষক।

নিবেদক-

এ টি এম আশরাফুল ইসলাম সরকার রাংগা, সহকারী শিক্ষক,

জাহাঙ্গীরাবাদ দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পীরগঞ্জ, রংপুর।

ই-মেইল- rangasarkerjhs@gmail.comrangasarker100@gmail.com.


Categories