একেক জন শিক্ষক ,একেকটা জানালা

প্রকাশিত: ১১:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০

নূরুল ইসলাম, বগুড়া:

শিক্ষকতা একটি অত্যন্ত সম্মানিত পেশা। শিক্ষকদের সম্মানের দৃষ্টিতে দেখার ঐতিহ্য প্রবণতা বেশ প্রাচীন।একজন প্রাজ্ঞ,দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সত্যিকারভাবে আদর্শ শিক্ষক সমাজ বদলে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন ।আদর্শ শিক্ষকই শুধু জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারেন।অপরাপর পেশার মানদণ্ডে পরিমাপ করা যায় না বলে, “শিক্ষকতা” একটি মহান পেশা হিসেবে পরিগণিত। আদর্শ শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ গড়ার দক্ষ কারিগর। একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে উঠার পেছনে পিতা-মাতার চেয়ে শিক্ষকদের অবদান কম নয়। শিক্ষকরা জাতির প্রধান চালিকাশক্তি।শিক্ষকের উপযুক্ত পা‌‌ঠদানের মধ্যে দিয়ে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটিয়ে নীতি-নৈতিকতা ও জীবনাদর্শের একজন শিক্ষার্থী তার কর্মজীবনকে মুখরিত করেন। পাশাপাশি পরিবার-সমাজ রাষ্ট্র তথা দেশ- জাতি তার দ্বারা উপকৃত হয়।একজন শিক্ষকই পারেন শিক্ষার্থীর মনোজাগতিক পরিচর্যার মাধ্যমে একজন পূর্ণ ,সুস্থ ও কাঙ্ক্ষিত মানুষ হিসেবে প্রস্ফুটিত করতে। ।এজন্য শিক্ষকদের প্রতি সম্মান দেখানো একটি রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। মানব সভ্যতা বিকাশের পেছনে রয়েছে শিক্ষক সমাজ। শিক্ষাকে সকল উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হিসেবে ধরলে, শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিকল্প নেই। শিক্ষকের কথা ভাবতে গেলে কবি কাদের নেওয়াজের শিক্ষকের মর্যাদা কবিতায় বর্ণিত শিক্ষকের প্রতিচ্ছবিই আমার মানসপটে ভেসে উঠে, যেখানে কবি শিক্ষককে সবার শ্রেষ্ঠ বর্ণনা করেছেন।শিক্ষার প্রাণভ্রোমরা হচ্ছেন শিক্ষক। কাজেই শিক্ষার মানোন্নয়নে কথা ভাবতে গেলে প্রথমে ভাবতে হবে শিক্ষকদের মানোন্নয়নের বিষয়টি। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শিক্ষকতা পেশায় অধিক মেধাবীদের আকৃষ্ট করা ও তাদের ধরে রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা। এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ। তৃণমূল পর্যায় থেকে সরকারপ্রধান পর্যন্ত এ কথা এক বাক্যে স্বীকার করবেন যে, দেশের প্রায় শতকরা ৯৭ভাগ শিক্ষার্থী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করে থাকে। আর তাদের শিক্ষাদানের দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ৫লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের বাজারে স্বল্প বেতনভোগী বেসরকারি শিক্ষকরা সত্যিই আজ দিশাহারা। ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া,৫০০ টাকা চিকিৎসা ও শুধু মূল বেতন দিয়ে সন্তান -সন্ততির লেখাপড়া, পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা ঐসব শিক্ষকদের পক্ষে সত্যিই অসম্ভব। তাদের কাছে একেকটা দিন, একেকটা বছর। বেসরকারি শিক্ষকদের জীবনে শুধুই অন্ধকার… শুধুই অন্ধকার। তবুও আজকের লেখার আশার বাণী ‘আদর্শ ছেলে ‘কবিতার গুটি কয়েক লাইন সম্বল করে উদীয়মান সূর্যের দিকে তাকিয়ে বলি, আমাদের দেশে হবে, সেই ছেলে কবে ‌,কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।


Categories