একবার বিবেচনা করে বলুন

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

হেদায়েতুল ইসলাম ইন্সট্রাক্টর , টাঙ্গাইল পলেটেকনিক ইন্সটিটিউট

দেশের সকল পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি যেন খানে সেকেন্ড টাইম বন্ধ করে দিল, সেখানে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং এ লাইফ টাইম সুযোগ রাখা কি কারণে যৌক্তিক হলো? সব বয়সীরা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারবে। সুবিধা এই একটাই। এই একটা সুবিধার পিছনে শত শত অসুবিধা জড়িয়ে আছে।

১। প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বেড়ে যাবে। লোকাল বখাটেরা পলিটেকনিককে আকামের হেড অফিস বানাবে।আমরা খুব অল্প অতীতে ফিরলেই খুলনার ঘটনা মনে পড়বে, মনে পড়বে রাজশাহীর অধ্যক্ষ ফরিদ স্যারকে পুকুরে ফেলে দেয়ার দৃশ্য। এরকম হাজারো ঘটনাই অপেক্ষা করবে।

২। প্রত্যেকটা মানুষেরই শেখার/মনোনিবেশ/মুখস্ত করার একটা বয়স আছে। হাফেজ খানায় আমি কখনো মধ্য বয়স্ক কাউকে দেখিনি। কোরআন শরীফ ছোট্র বয়সেই মুখস্ত করতে হয়। পঁচিশ কিংবা তার অধিক বয়সের একটা মানুষ ও সদ্য এস.এস.সি পাশ শিক্ষার্থী পরস্পর পরস্পরের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে বলে বিশ্বাস করতে পারছি না।

৩। হোস্টেলে সীট বরাদ্দ, হোস্টেলে শিক্ষার্থী ভর্তি, ক্যান্টিনে, ফরম ফিলাপ, বদলীর আবেদন, রোভার স্কাউট, ইনোভেশন, খেলাধুলা, জাতীয় দিবস পালন, মেয়েদের নিরাপত্তা, দরিদ্র তহবিল, নিরীহ শিক্ষার্থীকে ব্লাকমেইল,চেইন অব কমান্ড প্রত্যেকটা জায়গাতে বিশৃঙ্খলা হবে, অনিয়ম হবে, চাঁদাবাজি হবে।

৪। মনে করলাম, পয়তাল্লিশ বছর বয়সে একজন ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করলো। সে কি সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারবে ? সে কি ডুয়েট কোচিংয়ে ভর্তি হবে ? সে কি এই বয়সে বাংলাদেশের নামি দামি কোন কোম্পানিতে চাকরি পাবে ? সবগুলো উত্তর যদি না আসে। তবে না লোকের জন্য হাজার হাজার কিশোর-কিশোরীর স্বপ্ন, গতিময় জীবনটাকে, এত সুন্দর একটা পরিবেশ অশান্ত করার দরকার পড়লো কেন ? বরং যে কোন বয়সের লোককে দক্ষ করে তুলতে RTO সেন্টারের RPL সিস্টেমটা আন্তর্জাতিক মানের। সেদিক নজর দিলে স্বল্প সময়ে প্রকৃত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব।

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাকে উন্নত করতে চাইলে-

১। আপনি নটরডেমকে দেখুন, তাঁরা সবসময় তাঁদের শিক্ষার্থী বাঁছাইয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আসছে। মেডিক্যাল কলেজ বলুন আর ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি, পাবলিক ভার্সিটি বলুন সবাই ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে ঐ বিষয় সম্পর্কে অনেক কিছুই শিখিয়ে দেয়। ভর্তি পরীক্ষা রাখা হোক।

২। বর্তমান সিস্টেমে ছেলে-মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে জিপিএ ৩.৫ পয়েন্ট আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা হোক এবং পরবর্তী প্রবিধানে জিপিএ ৪.০ পয়েন্ট করা হোক। একটা লেভেল বেধে দিলে সেখানে আত্নমর্যাদা বাড়বে ও সিস্টেমে গতি আসবে। কোটা বাতিল হোক।

৩। শিক্ষা মানুষকে উন্নত করে, সততা ও আদর্শ শিখায়। স্নাতকের মান দেয়া হবে বলে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষায় এক বছর অতিরিক্ত লাগছে। এই প্রহসন বন্ধ করা হোক। মোট তিন বছর করা হোক। দুই বছর একাডেমিক ইয়ার এবং এক বছর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ও সাবজেক্টিভ স্কিলের জন্য রাখা হোক। ৪। PPP এর মাধ্যমে মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষার্থীকে ডিপ্লোমা-ইন- ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ হওয়া মাত্র চাকরি/তার সাবজেক্টের কাজের সুযোগ করে দেয়া হোক।


Categories