‘একটি গন্ধমের লাগিয়া’-খ্যাত শিল্পী জানে আলম আর নেই

প্রকাশিত: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২১

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের মধ্যে অন্যতম জানে আলম আর নেই। গত মঙ্গলবার ( মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি….রাজিউন)

এক মাস আগে জানে আলম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর করোনা নেগেটিভ হলেও নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হন। এর জন্য গেল এক মাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার জানে আলম ভাইকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। শিল্পী জানে আলম এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু শের-ই-বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের  অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ড. আব্দুস সাত্তার দৈনিক আমাদের ফোরামকে বলেন, জানে আলম আমাদের একা ফেলে চলে গেলেন। সারাক্ষণ হাসিখুশি মানুষটা এভাবে হুট করে চলে যাবেন, ভাবতেও পারছি না।’

ড. আব্দুস সাত্তার আরো জানান, ‘বুধবার (৩ মার্চ) মগবাজার জানে আলমের বাসভবন এলাকায় জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার জন্মস্থান মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে চিরশায়িত হন এই নন্দিত শিল্পী।’

তিনি বলেন, ‘করোনা শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে ভাবী (জানে আলমের স্ত্রী) মারা গেলেন। এখন ভাই নিজেই করোনার আঘাতে চলে গেলেন। তাদের দুটো ছেলে অল্প সময়ের মধ্যে এতিম হয়ে গেল। আলম ভাইয়ের আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

পপ ও ফোকের মিশ্রণে তৈরি গান করে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা পান ৭০’র দশকে। ঢাকা রেকর্ডস থেকে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ‘বনমালী’ দিয়ে তৈরি হয় ভালো পরিচিতি। তার গাওয়া বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে ‘একটি গন্ধমের লাগিয়া’, ‘স্কুল খুইলাছেরে মাওলা’, ‘কালি ছাড়া কলমের মূল্য যে নাই’, ‘তুমি পিরিতি শিখাইয়া’, ‘দয়াল বাবা কেবলা কাবা’ প্রভৃতি।

জানে আলমের গাওয়া গানের সংখ্যা ৪ হাজারের মতো। এছাড়া তার লেখা, সুরে রয়েছে প্রায় তিন হাজার গান।

সত্তরের দশকে স্বাধীন বাংলাদেশে পপ গানের ৪ স্থপতি হিসেবে সমধিক পরিচিত- ফিরোজ সাঁই, আজম খান, ফেরদৌস ওয়াহিদ, জানে আলম ও ফকির আলমগীর। যার মধ্যে এখন শুধু বেঁচে আছেন ফেরদৌস ওয়াহিদ ও ফকির আলমগীর।

জানে আলমের মৌলিক গানের তালিকায় রয়েছে -‘দয়াল বাবা কেবলা কাবা’, ‘স্কুল খুইলাছে রে মওলা’, ‘কালি ছাড়া কলমের মূল্য যে নাই’, ‘কৃষ্ণারও প্রেমের এত যে জ্বালা সখি আগে জানতাম না’, ‘আমার মন না চাইলেও ঘরও বান্ধিল কিশোরী’, ‘বন্ধুর বাড়ির জ্বালালি কইতুর’, ‘পাগলার মন নাচাইয়া পাগলি গেছে চলিয়া’ ইত্যাদি।