ঊণপঞ্চশ বছর ধরে বৈষম্যের বেড়াজালে আবদ্ধ এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা

প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

সাহেব যখন সাবেক হয়েছে তখন তাদের মুখে জাতীয়করণের কথা ভার্চুয়াল জগতে অথচ নিজেদের টকশো মধ্যে একবারও সুবিধা ছাড়া অতিরিক্ত ৪% কর্তনের কথা বলেনি। বলেনি ১৬ বছর ধরে ২৫% উৎসব ভাতার , সামান্য বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা,বদলির কথা। আসলে কি তারা জাতীয়করণ চাচ্ছেন? না কি এটা তাদের ভার্চুয়াল জগতের নতুন কৌশল অবহেলিত শিক্ষকদের বৈষম্যের মধ্যে রেখে, নিজেদের স্বার্থের জন্য।

কারণ এইসব স্বার্থবাদীরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসক আর ইংরেজদের মত নীল চাষ করছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থায় ৪৯ বছর ধরে।

স্বার্থবাদী শিক্ষক নেতারা বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ভাবে বছরের পর বছর আন্দোলন করছে ১০/১২/১৫ দফা দিয়ে, যা এখনো পর্যন্ত কার্যকর করতে বা আদায় করতে পারেনি। যে দাবির মাধ্যমে সকল দাবি আদায় হয়, সেই দাবিটি থাকে সর্বশেষ , তা হচ্ছে জাতীয়করণ।

মান্ধাতা আমল থেকে শুরু করে ডিজিটাল বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত বেতনের চেক ছাড়ের পদ্ধতি রয়ে গেছে। চেক ছাড়ার পরেও সময় লাগে ১০/১৫ দিন, যা এখনো পরিবর্তন সম্ভব হয়নি অথচ অন্য সকল পেশাজীবীদের বেতন পদ্ধতি আপডেট হচ্ছে।

যেসব শিক্ষক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বা আর্থিক অবস্থা ভালো অথবা রাজনৈতিক দলের পদে থাকেন বা কোচিং বা নোট গাইডের সাথে যুক্ত তারা এই চেক ছাড়ের খবর নেন না।

কিন্তু যারা শুধুই এমপিওর ওপর নির্ভরশীল তারা অধির আগ্রহে জানতে চান কবে চেক ছাড় হবে। তারা বিভিন্নভাবে টেলিফোন করেন, ইমেইল করেন এবং ফেসবুক ও ইউটিউব লাইভেও চেক ছাড়ের খবর জানতে চান। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে অন্য কোন পেশারর ক্ষেত্রে এইভাবে বেতনের কথা জানতে চাই না।

অবসরের পর বছরের পর বছর ঘুরে অবসর, কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা উত্তোলন করতে পারছে না অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। অবসর, কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা না পাওয়ার আগেও অনেক শিক্ষক মারা যাচ্ছে। এইসব বিষয় নিয়ে ভার্চুয়াল জগতে কোন কথা বলছে না।

অথচ একজন শিক্ষক ৩০ বছর চাকুরি করার পর,অথ্যৎ অবসরে পর দিন থেকে কোন বেতন পাচ্ছে না কারণ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পেনশনের সুবিধা নাই। আর এই পেনশনের সুবিধা না থাকার কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অার্থিক কষ্টে ভোগ করতে হয় এবং টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসা মারা যায় অবসর কালীন সময়ে। অবসরের কিছুদিনের মধ্যে যদি অবসর,কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেত তাহলে কিছুটা দু:খ লাঘব হতো।
কিন্তু অবসরের পর, অপসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জীবনযাত্রা নিয়ে কথা বলছে না স্বার্থবাদী শিক্ষক নেতারা।তারা নিজের প্রয়োজনে বেশিক সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে সংগঠন।

৪% কর্তনের স্বাক্ষরকারী সিন্ডিকেট দল নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীর মতামতকে উপেক্ষা করে, কোন সুবিধা ছাড়া অতিরিক্ত ৪% কর্তন করছে, যা অন্যায়, অবিচার।

যেদিন থেকে অবসর, কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ড হয়েছে এবং অদ্যাবধি পর্যন্ত যারা সচিব, সদস্য হয়েছে তারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বেশির ভাগ এবং কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত। আর এইভাবে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যায়, সেই দলের পদ পদবী ব্যবহার করে, বিভিন্ন লবিংয়ের মাধ্যমে অবসর, কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ডের সচিব, সদস্য হয় কিন্তু তাদের দ্বারা বেশিকদের বৈষম্য দূর হয় না।

আসুন এইসব স্বার্থবাদী শিক্ষক নেতাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার জাতীয়করণ আদায় করি মুজিব বর্ষে কারণ বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন ছিল বৈষম্যমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষায় সকল নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী আশাবাদী পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন মানবতার মা, দেশ রত্ন,স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য কন্যা জন নেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয়করণ ঘোষণা মাধ্যমে।

লেখক মো:তোফায়েল সরকার,
যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক,বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম,কেন্দ্রীয় কমিটি।