“ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেলো সেলফি তুলতে গিয়ে”

প্রকাশিত: ১০:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২০

ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেল সেলফি তুলতে গিয়ে দুই বান্ধবী চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

চার কিশোরী ঘুরতে বের হয়েছিলো  ঈদের দিন ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে  বিলে । কিছুদূর যাওয়ার পর নৌকার ওপর দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ছবি /সেলফি তুলছিলো তারা। বিলেও ছিলো প্রবল স্রোত। হঠাৎই ভারসাম্য হারিয়ে তাদের নৌকাটি ডুবে যায়। এতে প্রাণ হারায় দুই কিশোরী।

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার ধামরাই উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের মান্দারচাপ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঈদের দিন দুই কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকায় ঈদের আনন্দের বদলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মারা যাওয়া কিশোরীরা হলেন- মান্দারচাপ গ্রামের আবদুল হালিমের মেয়ে মিম আক্তার (১৩) ও একই গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে শিখা আক্তার (১৪)। তারা দুজন বান্ধবী এবং স্থানীয় জামাল উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় রিয়া ও তামান্না নামের তাদের আরো দুই বান্ধবী এবং পাশের গ্রামের জুলহাস নামেরও এক ব্যক্তি নৌকায় ছিলো।

নিহত শিখার চাচা সাইফুল ইসলাম বলেন,  গ্রামের চারপাশে বিলগুলো পানিতে থৈ থৈ করছে। দুপুরের দিকে জুলহাস কোরবানির মাংস নিতে তাদের গ্রামে আসেন। তখন তার ভাতিজি শিখা বান্ধবীদের নিয়ে নৌকায় ঘুরতে বের হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা নৌকার ওপর দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছিলো। বিল পানিতে পরিপূর্ণ থাকায় প্রবল স্রোতও ছিলো। এতে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে একদিকে কাত হয়ে  ডুবে যায়।

তিনি আরো জানান, ডিঙ্গি নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর রিয়া, তামান্না ও জুলহাস সাঁতরে পাশের রাস্তায় উঠে আসতে পারে। কিন্তু মিম ও শিখা সাঁতার না জানায় পানিতে ডুবে যায়। এ সময় রিয়া, তামান্না ও জুলহাসদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং ডুবে যাওয়া মিম আক্তার ও শিখা আক্তারকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


Categories