ইসলামে কুরবানীর গুরুত্ব।

প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২০
ইসলামে কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কুরআনে কুরবানি শব্দটি কুরবান, নাহর, নুসুক ইত্যাদি শব্দে এসেছে। কুরবানি শব্দের অর্থ নৈকট্য লাভ করা।ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় মহান আল্লাহ নৈকট্য লাভের আশায় শরিয়তের নির্ধারিত দিনসমূহে আল্লাহ নামে পশু যবেহ করাই হল কুরবানি।

আল্লাহ তায়ালা বলেন- হে রাসূল আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত,আমার কুরবানি, আমার জীবন,আমার মরন সবই আল্লাহ জন্য। (সূরা আনআম ১৬২) এ জন্য কুরবানি হতে হবে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনে জন্য। সূরা কাউসারের ২নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- আপনি আপনার প্রভূর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।
কুরবানির হুকুমঃ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক,স্বাধীন,সুস্হ্য মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ নর-নারীর উপর ১০ই জিলহজ্জ ফজর থেকে ১২ই জিলহজ্জ সূর্যস্ত পর্যন্ত নিসাব পরিমান সম্পদের মালিক হলে তার উপর কুরবানি ওয়াজিব। আর নিসাব হল সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ  এবং ৫২ তোলা রুপ্য বা তৎসম পরিমান সম্পদ। কুরবানির গুরুত্ব বর্ণনা গিয়ে রাসূল (সাঃ) বলেন- যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি না করে,সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারেও না আসে।(ইবনে মাজাহ)
 কুরবানি সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ
**এখলাস :-নিয়তের একনিষ্ঠতা ছাড়া কুরবানি কবুল হবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন- কুরবানি গোসতও আল্লাহ কাছে পৌছে না,তাদের রক্তও না,বরং তার কাছে পৌছে অন্তরের তাকওয়া। (সূরা হজ্জ ৩৭)
** উট, গরু,মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা দ্বারা কুরবানি দেওয়া। উট কমপক্ষে ৫বছর, গরু-মহিষ ০২ বছর,ছাগল – ভেড়া ০১ বছর বয়সের হতে হবে।তবে যদি ছাগল,ভেড়া,দুম্বা মোটাতাজা হয় দেখতে এক বছরের বাচ্চার মত দেখায় তাহলে ০৬মাসের বাচ্চা দ্বারা কুরবানি জায়েজ।
** উট, গরু,মহিষ একটি দিয়ে প্রয়োজনে ০৭ ভাগে দেওয়া যাবে,আর ছাগল, ভেড়া,দুম্বা একজনেই দিতে হবে।
** জিলহজ্জ মাসের চাঁদ উঠার পর কুরবানি না দেওয়া পর্যন্ত চুল,গোফ,নখ ইত্যাদি না কাটা।
** যে সমস্ত পশুর কান কাটা,লেজ কাটা,দৃষ্টিহীণ এবংজীর্ন শীর্ণ তা দ্বারা কুরবানি করা যাবে না।
** কুরবানির গোসত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন- তোমরা তা থেকে খাও এবং দুঃস্থ-অভাবগ্রস্তদের আহার করাও (সূরা হজ২৮)।
কুরবানির গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত আয়শা রাঃ হতে বর্ণিত রাসুল সা: বলেন- কুরবানি দিনে মানব সন্তানের কোন নেক কাজই তত প্রিয় নয়,যত প্রিয় কুরবানি করা। কুরবানির পশুর শিং, পশম, ক্ষুর কিয়ামতের দিন আমলনামায় এনে দেওয়া হবে। কুরবানির পশুর রক্ত মাটিতে ঝরার আগেই আল্লাহ দরবারে পৌছে যায়। সুতরাং তোমরা আনন্দচিত্রে কুরবানি কর। (তিরমিজি)
 লেখক
মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ
ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম।
০১৭৪৭৬১৩৭০৩

Categories