আসন্ন-২০২১/২০২২ অর্থবছরের প্রাক বাজেট প্রাক্কলনে- বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের প্রস্তাবনা

প্রকাশিত: ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০২১
bty

দেশের বিশৃঙ্খল শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং বিশ্ব মানের দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা সম্ভব না হলে আমাদের মধ্যেবর্তী উন্নত রাষ্ট্রের চিন্তা অবান্তর। এ কথা অনস্বীকার্য যে, রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষাখাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো উচিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক বেশি সমৃদ্ধশালী। মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ১৫০ মিলিয়ন প্রকল্প সমাপ্ত না হতেই, সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে তাগিদ দিয়েছে। তাই ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে শিক্ষাখাতে সরকার স্ব-উদ্যোগেই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিগত অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ০.০১ শতাংশ। খসড়া শিক্ষানীতি প্রকাশকালে বলা হয়েছিল ২০১৯ সালের মধ্যেই জাতীয় শিক্ষানীতির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে এবং শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য অর্থ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছিলো। প্রতি বছরই বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়, অথচ সেখানে একটি শুভঙ্করের ফাঁকি থাকে। শিক্ষা খাতের সাথে প্রযুক্তি, খেলাধুলা, স্বাস্থ্য এবং ধর্মসহ বিভিন্ন খাতকে জুড়ে দেয়া হয়, ফলে এই খাতের বরাদ্দকৃত অর্থ বন্টন হয়ে যায় বিভিন্ন খাতে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছায় জাতীয় শিক্ষানীতি’২০১০ প্রনয়ন করা হয়েছে। কিন্তু সরকার বিগত দশ বছরে জাতীয় শিক্ষানীতির ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি অথচ এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের উপরেই বর্তায়। শিক্ষার সাথে অন্যান্য খাতকে জুড়ে দিয়ে এবং সীমিত বাজেট বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার মনোনয়ন অসম্ভব। শিক্ষাখাতে অপ্রতুল বরাদ্দ দিয়ে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। বিগত সরকারগুলো ক্ষমতার শেষভাগে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে পরবর্তীতে বলেছে, ক্ষমতার পরিবর্তনের কারণে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বর্তমান ধারাবাহিক সরকারের এমন যুক্তি উপস্থাপনের কোন সুযোগ নেই।।

 

সরকার প্রতিবছর শিক্ষাখাতে জিডিপি’র মাত্র ২.২% কাছাকাছি ব্যয় করছে। যা পৃথিবীর ১৯৭ দেশের তুলনায় সর্বনিম্ন। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে বাজেটে নূন্যতম জিডিপি’র ৫% ব্যয় করা উচিত। শিক্ষাখাতে জিডিপির ২.২% বরাদ্দের কারণে মানসম্পন্ন মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন ভাতা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষাবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মতে, “শিক্ষাখাতে খরচ যেহেতু বিনিয়োগ”সেহেতু রাষ্ট্রের অনুৎপাদনশীল খাতসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় কমিয়ে শিক্ষাখাতে যদি বরাদ্দ বাড়ানো যায় তাহলে সফলতা পেতে বেশি সময় লাগবে না। শিক্ষায় ব্যয় বাড়ানোর ফলে যে খরচ হবে সেটি অদূর ভবিষ্যতে দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসবে। শিক্ষায় বৈষম্য, উন্নত পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ সরবরাহ ও সর্বোপরি শিক্ষকদের আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা সহ বরাদ্দ বাড়ানোর বিকল্প নেই। শিক্ষাখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ যাতে দুর্নীতির মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে ব্যয় করা না হয় সেদিকে সযত্ন দৃষ্টি রাখতে হবে অর্থমন্ত্রণালয়কে।

 

২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট প্রাক্কলনে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম’ এর পক্ষ থেকে নিম্নরূপ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হলো।

 

** আসন্ন ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির নূন্যতম ৫% বরাদ্দ দিতে হবে এবং অনুন্নয়ন অনুসর্গ খাতের সংশ্লিষ্টতা বন্ধ করতে হবে।

** শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণে আসন্ন বাজেটেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, উৎসবভাতা ও চিকিৎসা ভাতা প্রদানে সুনির্দিষ্ট করে বরাদ্দ রাখতে হবে।

** বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখে মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে-ই এমপিও শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিতে হবে।

** সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী- ২০২১-২০২২ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরকে সীমা নির্ধারণ করে তিনটি ধাপে এমপিও শিক্ষা জাতীয়করণ করার প্রস্তাব করছি।

** পেনশন সুবিধা চালু না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি অর্থবছরে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে নূন্যতম পাঁচ শ’কোটি টাকা থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

 

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ, মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর ফুর্তি এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়া উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপিও শিক্ষা জাতীয়করণ করে ইতিহাসে চিরকাল স্বরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবেন।

বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।

মো. সাইদুল হাসান সেলিম

সভাপতি

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী