আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে ২০ শতাংশ বরাদ্দ এবং এমপিওভূক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম।

প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০২১

প্রকাশ ২৫ মে,২০২১: আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ এবং জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ এবং ঐতিহাসিক মুজিব জন্মশতবষে এমপিওভ‚ক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম (বাবেশিকফো)। মঙ্গলবার (২৫-৫-২০২১ তারিখ) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম (বাবেশিকফো) এর মহাসচিব মো. আব্দুল খালেক তার লিখিত বক্তব্যে এই দাবি জানান। বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম (বাবেশিকফো) এর সভাপতি মো. সাইদুল হাসান সেলিম এর সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল ইসলাম মাসুদের উপস্থাপনায় উক্ত সংবাদ সম্মেল ফোরাম মহাসচিব বলেন দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে চালকের ভূমিকায় ৯৭ শতাংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।  এই শিক্ষকদের অমর্যাদা, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বেড়াজালে আবদ্ধ রেখে, তাদের অভুক্ত উদরে রেখে মানসম্মত শিক্ষা প্রত্যাশা করা কাল্পনিক। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থেই এমপিভ‚ক্ত শিক্ষকদের বিদ্যমান বৈষম্য-বঞ্চনা দূর করে তাদের সামাজিক ও আর্থিকভাবে মর্যাদাশীল করতে হবে। তিনি জানান এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারিদের ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া, ২৫% উৎসব ভাতা এবং ৫’শ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়, যা বর্তমান দূর্মূল্যের বাজারে একবারেই বেমানান ও লজ্জাস্কর। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য সত্যিকারের শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং গুণগতমানের শিক্ষক। শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করা জরুরি। এমপিওভূক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি শুধুমাত্র শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কোন দাবি নয়। এটি প্রান্তিক অসচ্ছল মানুষের সন্তানদের শিক্ষার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠারও একটি  গণদাবি। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরাই অসচ্ছল। শিক্ষার উচু ব্যয় নির্বাহের ফলে তারা তাদের সন্তানদেরকে শিক্ষিত করতে পারছেন না। ফলে প্রতিবছর ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষার সুযোগ হতে বঞ্চিত হয়ে ঝরে পড়ছে। এই ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরাই পরবর্তীতে সমাজে নানাবিধ অন্যায় করছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে ও নেশাগ্রস্ত হয়ে বিপথগামী হয়ে পড়ছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সন্তানরা যাতে স্বল্প ব্যয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। তিনি বলেন- সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা এমপিওভূক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিটি সরকারের দৃষ্টিগোচরে আনার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করেন যে, সরকার প্রতি বৎসর এমপিও খাতে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকেন। এমপিওভ‚ক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হলে, প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। এই দুই খাতের অর্থ সমন্বয় করে এমপিওভূক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত তেমন অর্থের প্রয়োজন হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে জনাব আব্দুল খালেক আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে নিন্মোক্ত বিষয়গুলো বরাদ্দ রাখার জোর দাবি জানান-
১।  বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরেই জাতীয়করণের সূচনা করতে হবে এবং এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারিদের পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট খাতে বরাদ্দ রাখতে হবে।
২। শিক্ষাখাতের বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ৬ শতাংশ ও জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে।
৩। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারিদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে ৫ শত কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দিতে হবে।
৪। প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী অবশিষ্ট নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।
৫। ২০১৫ সালের পূর্বের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি প্রধান শিক্ষকদের একই বেতন স্কেল নির্ধারণ করতে হবে। অনুরূপভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করতে হবে।
৬।  অবিলম্বে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে হবে এবং শিক্ষক সুরক্ষা আইন রেখে অনুমোদিত শিক্ষা আইন প্রকাশ করতে।
৭।  শিক্ষা বাজেট বরাদ্দ থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য খাতের সংশ্লিষ্টতা বাদ দিতে হবে।
৮।  শিক্ষাখাতের বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ ২৮টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যয় করা হয়। শিক্ষা খাতের বরাদ্দ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই ব্যয় করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মো. মোদাচ্ছির আলম, বিপ্লব কান্তি দাস, আমিনুল ইসলাম, ওয়ালি আযাদ, বাসিদ আলী, জালাল উদ্দিন, মো. সাজিদ মিয়া, রাশেদা বেগম,  মো. আমির হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আব্দুল হালিম, রেহান উদ্দিন, জ্যোতিষ মজুমদার, অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির কামাল, সৈয়দ শওকুতজ্জামান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সাদেক, এম এ মতিন, প্রদীপ কুমার সাহা, আশরাফুল ইসলাম সুবল, অর্থ সম্পাদক কামরুল হাসান, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদির সুমন, আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আফরোজা খাতুন, যুগ্ম প্রচার সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন, মো. হাবিবুর রহমান,  মোজাম্মেল হক, জুয়েল হাওলাদার, মো. মমিন হাওলাদার, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আব্দুল লতিফ আতহারী,  মো. তোফাজ্জল হোসেন খান , মো. মতিউর রহমান আকন্দ প্রমূখ।


সংবাদ সম্মেলন শেষে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম (বাবেশিকফো) এর নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ নবনির্বাচিত সভাপতি মো. সাইদুল হাসান, মহাসচিব মো. আব্দুল খালেক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩২ ধানমন্ডীতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত ও দেশের সার্বিক কল্যান কামনা করে দোয়া করা হয়। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ,২০২১ তারিখে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম (বাবেশিকফো) এর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।


Categories