“আষাঢ়ের এই বাদল দিনে শুধু তোমার তরে”  আনোয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

আকাশে কালো মেঘ করেছে,রবির অক্ষি আজ নিরুদ্দেশ। ঘোর ঘোর করে ডাকছে, আষাঢ়ের আগমনী বার্তা। রিম ঝিম করে ঝরছে বারিধারা। আষাঢ়ের বারিধারার প্রথম পরশেই, আমার ভাঙ্গা ঘর থেকে কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই।বাইরে বের হলেই লাল কার্দমার পিচ্ছিল রাস্তায় যেন পা ধরার উপায় নেই। বৃষ্টির পানিতে ভিজে শরীর একাকার। তাইতো,এই বাদল দিনে দক্ষিণা দাওয়ায় বসে ভাবতেছিলাম
তোমায় নিয়ে। কত সুখে আছো, কার জানি মন রাঙিয়ে।

এমনি এক আষাঢ়ের বারিধারা,মাথায় নিয়ে তুমি এসেছিলে, কোন এক সন্ধ্যায় আমার আঙিনায়। হাতে নিয়ে এসেছিলে আমার জন্য লাল রঙের একটি ফুটন্ত গোলাপ, আর হৃদয়ে ধারণ করে নিয়ে এসেছিলে বুক ভরা ভালোবাসা । তোমার হাতের গোলাপ তাঁর প্রতিটি পাপড়ি মেলে আমাকে বলেছিল, হায়,বিদ্যুৎ, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি তোমার আঙিনায় আমার ভালোবাসার পরশ ভুলাতে তোমার দুয়ারে এসেছি,
হে সখা ।

সেদিন আমি গোলাপের পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে তোমায় স্বাগতম জানিয়েছিলাম,আর বলেছিলাম,ওগো আষাঢ়ের মেঘদূতের প্লাবনের সাথে ভেসে আসা পাহাড়ের ঝর্ণা ধারা। আমার প্রাণের সখী।তোমোর
পথে কতকাল হয় চেয়ে আছে আমার আঁখি। তোমার আগমনে আজ আমি আনন্দে আত্মহারা।এই অজো পাড়া গাঁয়ে, আমি কিভাবে দিব তোমায় পাহারা?
মশা আর বিষাক্ত সাপ যে তোমায় করবে তাড়া?
তুমি বলেছিলে, আমি ভয় করিনা বন্যপ্রাণীরে,
আমার মনপুজারী যে আছে আমার হৃদয় জুড়ে।

তোমাকে কোথায় বসতে দেই? তুমি যে এসেছো?
আমার আঙিনা অংশু করে , তুমি বসে যাও এই দক্ষিণা দাওয়ায়। তোমার রূপের সুরভী ছড়িয়ে যাক এই ধরায়। তোমাকে স্বাগতম এই পাড়ায়।

তুমি যেদিন এসেছিলে,সেদিন আমার পুষ্প কাননে,
সাদা রঙের কদম ফুল ফোটেছিল। সেখান থেকে তাজা একটি কদম ফুল কুড়িয়ে এনে তোমার কালো চিকুরের খোঁপায় গেঁথে দিয়েছিলাম। তোমার কি মনে আছে? সেদিনের কথা? কি অপূর্বইনা লাগছিল,সেদিন তোমার কালো কুন্তল ভর্তি মাথা।

যখনি আষাঢ়ের বারিধারা,নেমে আসে এই ধরায়
আমি বসে থাকি দক্ষিণা বারান্দাতে , আর তুমি ভেসে আসো হৃদয়ের আরশিতে। আজ সারাদিন বাদল ঝড়ছে, প্রকৃতি যেন একেবারে নুয়ে পরেছে, পাখিদের নেই কলরব, বিদ্যুৎ বিহীন ঘরে নেই টিভির শব্দ, ঘরটা একটু একটু অন্ধ, তাইতো আজি দক্ষিণা দাওয়ায় বসে একলা, মনের বিম্বে তোমার ছবি একে , তোমাকে নিয়ে লিখছি বসে এই নিরালায়। কেমন আছো তুমি?

আজ অঝোরে বারিধারায়,তোমাকে খুব মনে পরছে। সেই যে এসেছিলে, আরতো এলেনা?
তোমার জন্য কতকাল অপেক্ষা করেছি,
আর কতদিন তোমার পথপানে চেয়ে থেকেছি,
কত দিন যে নয়ন জলে ভেসেছি
কত রাত যে নির্ঘুমে পার করেছি
তার হিসেব নেই।

যাওয়ার সময় তুমি বিরহের শুরে গেয়েছিলে
আসবোনাগো এই পথে আর,আমায় তুমি ভুলে যেও। সেদিন তোমার গানের কথার অর্থ আমি বুঝতে পারিনি, তাইতো মন থেকে আজও তোমাকে মুছা হয়নি। আজও আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে তোমার গাওয়া সেই অমর বাণী। তাইতো তোমাকে নিয়ে লিখছি এই কবিতা খানি

তুমি যেদিন আমাকে বলেছিলে,
আসবেনা আর কোনদিন আমার দুয়ারে।
তার পর থেকে আর যাওয়া হয়নি ঐ পথে।
চির চেনা, সরু সেই পথের বাঁকে বাঁকে,
তোমার ছবি আঁকা ছিল।
সেই ছবি আজও আমার অক্ষিতে ঝল ঝল করে ভাসে।
যা কিনা কখনও কাঁদে আবার কখনও হাসে।

আজ আষাঢ়ের বারিধারায় মনে হলো তোমার কথা, তাইতো লিখলাম তোমায় নিয়ে দু কথা।
তুমি বাস করোনা কেন যেথা?
আমার দেহটা না, শুধু মনটা যাবে সেথা,
আমার ভালোবাসার অমীয়ধারা বয়ে যাক তোমার হৃদয় জুড়ে, আমি থাকিনা কেন যতই দূরে, হৃদয়টা থাকবে শুধু তোমাকে ঘিরে।

আষাঢ়ের বারিধারার সাথে তুমি বার বার ফিরে
আসো আমার হৃদয়ের আঙিনায়, তুমি যে দিয়ে গিয়েছিলে, আমার হৃদয়ে,তোমার মায়াবী শীতল ছায়া, যে ছায়ার অনুকম্পা আজও স্বাশ্বত ও অবিনশ্বর হয়ে আছে আমার প্রতিটি স্তরে স্তরে।

যা থেকে তৈরি হয় সুরের ঝর্ণা ধারা ও কবিতার অমর বাণী। যে কবিতার বাণী ছড়িয়ে যায়,
দেশ থেকে দেশান্তরে। যা পড়ে, নাম না জানা কত অপরিচিতা ললনারা আমায় প্রণয়জ্ঞাপন করে।
তাঁদের তরে সাড়া দেইনা,আর নতুন করে। জীবন থেকে যে, সময় গেছে ঝরে। তাছাড়া এই মন তো, নিলাম হয়ে গেছে,বহুদিন আগে। আর দেওেয়ার মতো কিছু আর নেই বাকি আবার নতুন করে। এই হৃদয়টা যে,
শুধুই তোমার তরে। শুধু তোমার তরে।।

#আনোয়ারুল_ইসলাম_বিদ্যুৎ।
#প্রভাষক_সোনার_বাংলা_ডিগ্রি_কলেজ।