**আত্মত্যাগ** উম্মে নাঈমা

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২০
বিকেলের আকাশটা কালো মেঘে ঢাকা, আকাশের দিকে চোখ পড়লেই মনটা কেমন করে উঠে। তবু সেই আকাশের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে কাঠের পিড়িতে বসে এক মনে ভেবে যাচ্ছে আয়েশা।
অতীতের কথা ভাবতেই অশ্রুশিক্ত হলো নয়ন দু’টো তার।  বয়স আর কত হবে চল্লিশ কি বিয়াল্লিশ।  এটুকু জীবনে কত কিছুই তাকে দেখতে হল।  মা বাবা ভাই বোন নিয়ে ছিল সুখের সংসার।  সুখের অভাব ছিলনা তাদের সংসারে।  কিন্তু বিধাতা সুখ বেশি দিন কপালে স্থির করে রাখল না।
ঘরের একমাত্র আয় উপার্জনকারী ব্যক্তি  আয়েশার বাবা একটি সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কিছু দিন চিকিৎসাধীন থেকে মারা যায়। নেমে আসে দুখের ছায়া। ছোট ছোট ভাই বোন নিয়ে কিভাবে অতিবাহিত করবে এই দুঃখের দিন গুলো? শুরু হল বেঁচে থাকার বা অস্থিত টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম।
আয়েশা বাবা মার বড় মেয়ে। ভাইবোনদের নিজের প্রাণের চেয়ে ও বেশি ভালবাসে। তবে আয়েশা দেখতে কিছুটা অস্বাভাবিক, ত্বকের সমস্যার কারনে স্বাভাবিক মানুষের মত ছিলনা তার শরীরের চামড়া। তবে যাই হোক, পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে তার দায়িত্বটা ও বড় ছিল।
তাই তো এই দায়িত্ব কর্তব্যের বেড়াজালে নিজের কথা না ভেবে ভাইবোন দের মানুষ করতে সংসার নামক মায়াজালে নিজেকে আবদ্ধ করেনি এবং আজ পর্যন্ত চিন্তাও করতে পারেনি ।
অন্যর বাড়িতে ও মাঠে ময়দানে কাজ করে  মা মেয়ে
মিলে অতি কষ্টে দুমুটো ভাত মিলাত তাদের।
রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে বেঁচে থাকা ও একটু সুখের আশায় যেন তাদের এত আত্মত্যাগ।  কত কষ্ট কত যন্ত্রনা সহ্য করে ভাই বোনদের একটু একটু লেখা পড়া শিখিয়ে একটি সুখের নীড় তৈরি করা তাদের।
কিন্তু সুখ নামক  সোনার হরিণ যে নিছক একটা স্বপ্ন। ঘুম ভাঙতেই স্বপ্ন চলে যায়, আবার ঘুমিয়ে পড়তেই চোখে এসে বসে পড়ে। “সুখ” এসেছিল  স্বপ্নের মত, কিন্তু এই যে স্বপ্নতো নিছক স্বপ্নই। ঘুম ভেঙে গেল সেও চলে গেল।
বোন  দুইটিকে বিয়ে দেওয়া, বড় ভাইটাকে বিয়ে করানো, ছোট ভাইটাকে ভাল একটা চাকরি আর কি লাগে সুখ খোঁজতে??
কিন্তু হায়! সুখ নামক সোনার হরিণ কি এত সহজে ধরা দেয় মানুষের জীবনে না ধরে রাখা যায়?
বড় ভাইটা বিয়ে করে নিজেদের সুখের জন্য চলে যায় ঘর জামাই হয়ে শুশুর বাড়ি, আর ছোটটা এক মেয়ের প্রেমে পড়ে মা-বোন  ভুলে এই সুখের নীড় ছেড়ে চলে গেছে তাদের একা ফেলে নিজেদের সুখ খুঁজার সন্ধানে।
বিকেল গড়িয়ে আস্তে আস্তে সন্ধ্যা নেমে আসলো
আকাশ ভেঙে নেমে আসলো শ্রাবনের ধারা।
আয়েশা তবু ও বসে রইল কাঠের পিঁড়িটি তে।
জীবন কোথায় নিয়ে এসেছে আজ তাকে। ধীরে ধীরে সবাই চলে গেল নিজের মতো করে।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
দ্বাদশ শ্রেণি,
আব্দুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ
আরুয়াইল, সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

Categories