আখাউড়ার খড়মপুরে কল্লা শহীদ (র.) ওরশ অায়োজক কমিটির মিটিং ; ওরশ না হবার সম্ভাবনা

প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

সৌমিত্র সাহা, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।

ঐতিহ্যবাহী কল্লা শহীদ (র.) মাজার শরীফের অসংখ্য অগনিত ভক্ত-আশেকান ও খড়মপুরবাসীসহ আখাউড়াবাসীকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে এ বছর মাজার শরীফের বার্ষিক ওরশ উদযাপন না করার ব্যাপারে কমিটি ঐক্যমত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও মাজার কমিটির সভাপতি জনাব হায়াত-উদ-দৌলা খানের উপস্হিতিতে পরবর্তী সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।প্রতি বছর ১০ আগষ্ট থেকে ১৬ আগষ্ট পর্যন্ত এই  ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এবছর ওরশের সময় এবং পরবর্তী আরও একমাস পর্যন্ত ভক্ত-আশেকান মেহমানদেরকে মাজার শরীফে না আসতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার রেইনা, আখাউড়া থানার ওসি মো. রসুল আহমেদ নিজামী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হাসান, মাজার কমিটির সম্পাদক ছালেহ নেওয়াজ খান খাদেমসহ কমিটি সদস্যবৃন্দ। কমিটির সদস্যবৃন্দ অাজকের সভা থেকে এবিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করে।

ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৩০৩ সালে হযরত শাহজালাল (র) ইসলাম প্রচারের জন্য ৩৬০ জন আউলিয়া নিয়ে এসেছিলেন সিলেটে। এই ৩৬০ জন শিষ্যের মাঝে অন্যতম ছিলেন সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ কল্লা শহীদ (র)। তিনি হযরত শাহজালাল (র) খুব কাছের লোক ছিলেন।

খড়মপুর মাজার শরীফ সম্পর্কে কাহিনি প্রচলিত আছে সেটা হল, সে সময় খড়মপুর গ্রামের জেলেরা তিতাস নদীতে মাছ ধরত । একদিন চৈতন্য দাস ও তার সঙ্গীরা তিতাস নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তাদের জালে একটি খণ্ডিত মস্তক আটকা পড়ে। বিষয়টি দেখে জেলেরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। খণ্ডিত মস্তকটি উঠাতে গেলে আল্লাহর কুদরতে খণ্ডিত মস্তকটি বলে ওঠে, “একজন আস্তিকের সাথে আর একজন নাস্তিকের কখনো মিল হতে পারে না। তোমরা যে পর্যন্ত কলেমা পাঠ করে মুসলমান না হবে ততক্ষণ আমার মস্তক স্পর্শ করবে না ।” খণ্ডিত মস্তকের কাছ থেকে এই কথা শোনার পর চৈতন দাস ও তার সাথীরা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। খণ্ডিত মস্তকের নির্দেশ অনুযায়ী ইসলামি মতে খণ্ডিত মস্তকটি দাফন করে এবং তারা মাজারটির খাদেমদারিতে নিযুক্ত হন।

বিভিন্ন ঐতিহাসিকগণ অনুমান করেন যে, তরফ রাজ্যেও রাজা আচক নারায়ণের সঙ্গে হজরত শাহজালালের প্রধান সেনাপতি হযরত সৈয়দ নাসিরউদ্দিন (র) যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন সে যুদ্ধে হযরত সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ (র) শহিদ হন এবং তার খণ্ডিত মস্তক তিতাসের স্রোতে ভেসে আসে।

প্রতি বছর মাজারটিতে ওরস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ওরস উৎসবে গেছুদারাজ কল্লা শহীদ (র) বহু ভক্তের আগমন ঘটে।


Categories