অ্যালোভেরা : উপকারিতার পাশাপাশি রয়েছে কিছু ক্ষতিকর দিকও

প্রকাশিত: ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

 

প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন ভেষজ উদ্ভিদ অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর গুনের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, জিংক, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিক অ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিন-এ, বি৬ ও বি২ ইত্যাদি, যা স্বাস্থ্যরক্ষার বিভিন্ন কাজে লাগে।

অ্যালোভেরার উপকারিতা;

অ্যালোভেরার ঔষধি গুণ রক্তচাপ কমায় এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও চিনির মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে সাহায্য করে।
অ্যালোভেরায় মিনারেল, অ্যামিনো অ্যাসিডসহ নানা পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। যা হাড় ও মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

দেহে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করলে তা অপসারণ করতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা।

অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক ওষুধের কাজ করে। বিভিন্ন চর্মরোগ ও ক্ষত সারায় এটি। অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় অ্যালোভেরা। অ্যালোভেরার জুস ক্লান্তি দূর করে দেহকে সতেজ করে।

নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পান করলে হজম শক্তি বাড়ে। পরিপাক তন্ত্রের নানা জটিলতা সারাতেও সাহায্য করে অ্যালোভেরা।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যালোভেরা। এটি দেহে সাদা ব্লাড সেল গঠন করে যা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে।

সুষম খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

ওজন কমাতে অ্যালোভেরার জুস অনেক বেশি কার্যকরী। অ্যালোভেরা জুসের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরের জমে থাকা মেদ দূর করে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ওজন কমাতে সাহায্য করে।

্অ্যালোভেরার এতসব উপকারিতার পাশাপাশি  এর রয়েছে কিছু ক্ষতিকর দিকও, যা অনেকেই জানে না।

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, এই উদ্ভিদটিতে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব অনেক। অ্যাজমা, ড্যানড্রাফ, সেরিয়াসিসের মতো রোগগুলোর জন্য স্কিন কেয়ার চিকিৎসাগুলোতে অ্যালোভেরা খুবই জনপ্রিয়। এছাড়া রসালো এই উদ্ভিদের পাতায় রয়েছে ২০ রকমের খনিজ পদার্থ যা মানবদেহের জন্য যে ২২টি এমিনো অ্যাসিড প্রয়োজন সেগুলো এতে বিদ্যমান। সেই সাথে এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি-ওয়ান, বি-টু, বি-সিক্স, বি-ওয়ানটু, সি ও ই। এতো গুণ যে উদ্ভিদের তা কি আবার শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে?

চিকিৎসকদের মতে, অ্যালোভেরা জেল তখনই নিরাপদ যখন এটি ওষুধ বা জেল হিসেবে চামড়ায় প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক উপায়ে যখন অ্যালোভেরার হলদে যে রসালো পদার্থ বের করা হয় তার সঙ্গে ‘অ্যালো লেটেক্স’নামের ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে। যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই ল্যাটেক্স অ্যালোভেরার পাতার মধ্যেই থাকে। তা যদি খাওয়া হয় তবে এটি শরীরের বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। অ্যালো ল্যাটেক্স পেট ব্যথা, র‍্যাশসহ নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। আর ল্যাটেক্স এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যা, প্রস্রাবে রক্ত, পটাশিয়ামের ঘাটতি, পেশী দুর্বলতা, ওজন হ্রাস এবং হার্ট অ্যাটাকের মত সমস্যা হতে পারে। এমনকি অ্যালো ল্যাটেক্স ব্যবহারের ফলে গর্ভের বাচ্চা নষ্টও হয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে মায়ের বুকের দুধ সন্তানকে খাওয়ানোর মাধ্যমেও এর ক্ষতিকর প্রভাব মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

অ্যালোভেরার সবুজ পাতাই সেক্ষেত্রে নিরাপদ বলে ধরা হয়ে থাকে। পাতা একটু বেশি পুরাতন হয়ে হলদে ভাব এলে তা বর্জন করা উচিত।

ভারতীয় একটি হেলথকেয়ার সেন্টারের প্রধান ও পুষ্টিবিজ্ঞানী অমরদ্বীপ করের মতে, অ্যালোভেরা, আমলা এবং নিম শারীরিক জটিলতায় প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে কাজ করে। তবে এগুলোর সঠিক প্রয়োগ না হলে কিংবা অতিরিক্ত প্রয়োগের ফলে শরীরে আরো রোগ ব্যাধির বিস্তার ঘটতে পারে।


Categories