অস্ট্রেলিয়া ফের কুপোকাত, এবার সিরিজ জয়ের স্বপ্ন।

প্রকাশিত: ১০:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২১

আজ মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সফরকারীদের পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। দুর্দান্ত এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক শিবির। এবার সিরিজ জয়ের স্বপ্ন ।

টানা দুইবার জয়লাভ করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। ম্যাচের পর এক অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সকল খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান তিনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অভিনন্দন বার্তায় বলেন, শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও বিশাল জয় আমাদের খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। ৬৭ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দুই তরুণ ক্রিকেটার আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান যেভাবে ম্যাচটাকে ঘুরিয়ে দিয়েছে তা প্রশংসনীয়।

প্রতিমন্ত্রী টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়লাভের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আশা করি পারফরম্যান্সের এ ধারাবাহিকতা টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতেও বজায় থাকবে এবং বাংলাদেশ সিরিজ জয় করবে। আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সার্বিক সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করছি।

তরুণ আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নুরুল হাসান সোহান

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত কুড়ি ওভারে সাত উইকেটে ১২১ রান তুলেছে সফরকারীরা। জবাব দিতে নেমে আট বল ও পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই দারুণ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচে চার উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ধসিয়ে দিয়েছেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। প্রথম ম্যাচে জ্বলে ওঠা মুস্তাফিজুর রহমান আজ ফিরেছেন আরো বিধ্বংসী মেজাজে। তিন উইকেট তুলে নিয়েছেন কাটার মাস্টার। তার সঙ্গী শরিফুল এদিনও শিকার করলেন দুটি। বাকি দুই উইকেটের মালিক সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান। বেশি উইকেট না পেলেও বল হাত দুজনই বেশ কার্যকর ছিলেন। টেনে ধরেন অস্ট্রেলিয়ার রানের গতি। তাদের সম্মিলিত বোলিং জাদুতে ‘অল্প’তেই থেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া।

মন্থর উইকেটে এই রানই বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠল চ্যালেঞ্জিং। দুই ওপেনার নাইম শেখ ও সৌম্য সরকার ধরাশায়ী হলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসে। ১৩ বলে নয় রানে ফিরেছেন প্রথমজন। দ্বিতীয়জন খুলতে পারেননি রানের চাকা। ২১ রানের মধ্যে জোড়া ধাক্কায় ভালোই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন সাকিব ও মেহেদি হাসান। প্রথমজন তুলেছেন ঝড় আর দ্বিতীয়জন টেনে ধরেছেন উইকেটের রাশ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৩৭ রান। যা ম্যাচের প্রেক্ষাপটে মহামূল্যবান। জুটি ভাঙে সাকিবের বিদায়ে। ফেরার আগে ১৭ বলে চারটি চারে ২৬ রান করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

সাকিবের ফেরাতে আরেকবার ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। নয় রানের মধ্যে শেষ বাংলাদেশের তিন উইকেট। এই ঝড়ে ফিরে গেছেন মেহেদিও। ২৪ বলে ২৩ রানে আউট হন তিনি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ চার বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি। দ্রুত উইকেট পতনে আশঙ্কা জেগেছিল বাংলাদেশের জয় নিয়ে।

সব শঙ্কা উড়িয়ে দেন দুই তরুণ আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নুরুল হাসান সোহান। ষষ্ঠ উইকেটে এই যুগলের অবিচ্ছেদ্য ৫৬ রানের জুটি নির্ভার করে দলকে; অনায়েসে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। অজেয় থেকেই বীরদর্পে মাঠ ছাড়েন তারা। আফিফ ৩১ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৩৭ রান করেন। ২১ বলে তিন চারে নুরুলের ব্যাট থেকে এসেছে ২১ রান।

বাংলাদেশের পতন হওয়া পাঁচ উইকেট নিয়েছেন অজিদের পাঁচ বোলার।

বাংলাদেশের মতো ইনিংসের শুরুতে সুবিধা করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়াও। ৩২ রানে মধ্যে দুই ওপেনার ফিলিপ ও অ্যালেক্স ক্যারিকে সাজঘরে পাঠিয়ে সফরকারীদের চেপে ধরে বাংলাদেশ। পরে ইনিংস মেরামত শুরু করেন আগের ম্যাচে জয়ের কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো মিচেল মার্শ ও ময়েজেস হেনরিক্স। তৃতীয় উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে কক্ষপথে ফেরানোর চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু উইকেটের লাগাম টেনে ধরা গেলেও পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ানরা।

মুস্তাফিজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বোলিং বিভাগের বিরুদ্ধে রান তুলতে যথেষ্ঠ বেগ পেতে হয় তাদের। ১৪ বলে ১০ রানে ফিরেছেন ফিলিপ। এক রান বেশি করেছেন ক্যারি। ৪২ বলে পাঁচ চারে ৪৫ রান এসেছে মার্শের ব্যাট থেকে। তিন চার ও এক ছক্কায় ২৫ বলে ৩০ রানে বিদায় নেন হেনরিক্স। শেষ দিকে ১০ বলে ১৩ রানে অজেয় থাকেন মিচেল স্টার্ক।


Categories